অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প লুট পাটের মহোৎসবে পরিণত

প্রকাশিতঃ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৯ নভেম্বর ১৯

নীলফামারী প্রতিনিধি: উপজেলা কিশোরগঞ্জে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ সহ অনুপুস্থিত থাকা শ্রমিকদের টাকা উত্তলোন করে আত্বসাতের মত নানান অভিযোগ উঠেছে। আর এসকল অনিয়মেই নিয়ম করে লুট পাটের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

কাগজে কলমে উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ৮১টি প্রকল্পে শ্রমিকদের কাজ চলে। কিন্তু তাদের দিয়ে বাড়ীর উঠানের মাটি তোলা, প্রতিটি প্রকল্পে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক অনুপস্থিত থাকা, চেয়ারম্যানের পোষ্য মেয়ে কাজে না গিয়েও শ্রমিক, খাতায় হাজিরা থাকলেও থাকছে অনুপস্থিতসহ উঠেছে বিভিন্ন ভিযোগ।

সরেজমিনে ২৬ নভেম্বর বড়ভিটা ইউনিয়নের ২টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ৫নং ওয়ার্ডের রংপুর ডালিয়া রোড় থেকে শুরু করে পাইকারটারী মাথা পর্যন্ত ইউপি রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও এ প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর পাইকারটারী গ্রামের লতিফের বাড়ির উঠানে মাটি উত্তোলন করা ছাড়াও একই গ্রামের জাহাহাঙ্গীরের বাড়ীতেও মাটি উত্তোলন চিত্র দেখা যায়।

প্রকল্পে কাগজে কলমে ৩১ জন উপকারভোগী থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় ২৬ জন উপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত ৫ শ্রমিকরা হল, আছিমন, জামেনুর, আজগর আলী, মহসেন, নূরবানু। উপস্থিত ২৬ জনের মধ্যে অনেক উপকারভোগী বদলী দাবি থাকলেও হাজিরা খাতায় সকলের স্বাক্ষর রয়েছে।

সরদার আবু নাঈম জানান, এ প্রকল্পে ৩৩ জন উপকারভোগী কাজ করার কথা। তবে কাজ করছে ৩১ জন। অন্য ২ জন পার্শ্ববর্তী প্রকল্পে কাজ করছে।

তিনি আরো জানান- অনুপস্থিত ৫ জন উপকারভোগী অসুস্থ্যজনিত কারণে আজকে আসেনি। আবার তিনিই এক পর্যায় বলেন-গতকাল এসব পকারভোগী এসেছিল আজ আসেনি।

উপকারভোগী নুরবানু-২ এর বদলী উপকারভোগী তোফাল জানান- অনুপস্থিত এসব উপকারভোগী কাজ শুরু থেকে কোনদিন আসেনি।

৪নং ওয়ার্ড দক্ষিন বড়ভিটা ফুটবল মাঠ হতে বাবুর ডাঙ্গা পর্যন্ত ইউপি রাস্তা সংস্কার এবং আলহাজ্ব সোলামান আলীর দিঘির পাড়ের রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে চলছে হযবরল। এ প্রকল্পের উপকারভোগীদের দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে বাবুর ডাঙ্গা গ্রামের বাহারুলের উঠানের।

প্রকল্প ঘুরে দেখা যায় বেলা ৩ টায় নেই কোন উপকারভোগী। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানান- শ্রমিকরা বেলা ৪ টা পর্যন্ত কাজ করার কথা।

এ ব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি আলিয়ার রহমান জানান- সকল উপকাভোগীদের নিয়ে পাশের বাড়ীতে পিকনিক খেয়েছি। পিকনিক খেয়ে পৌনে ৩ টায় সকল উপকারভোগী চলে গেছে।

এলাকাবাসী মতিলাল জানা, ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হামিদের বাড়ী হতে আরাম্ভ করে মনে বর্মনের বাড়ী পর্যন্ত ইউপি রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের শ্রমিকরা প্রায় দিন ২টার আগেই চলে যায়। দৃশ্যমান তাদের কাজ চোখে পড়েনা। প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা ২২ জন হলেও কাজ করছে ১০ থেকে ১২ জন ।

তিনি আরও জানান- শ্রমিকরা উপস্থিত থাকে না বললেই চলে। এ প্রকল্পে চেয়ারম্যানের পোষ্য মেয়ে মিনা তালিকাভুক্ত শ্রমিকের নাম থাকলেও কোন দিন কাজ করতে আসেনি। এ প্রকল্পটি চেয়ারম্যানের বাড়ীর আশপাশ হওয়ায় কাজ চলছে ঢিলেঢালা।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মোঃ মামুনুর রহমান জানান, কাজ তদারকি করতে গিয়ে অনুপস্থিত নিয়ে কথা বললে সরদার আমাকে রাগ দেখায় তাই আমি ৪-৫ দিন থেকে কাজ দেখা বন্ধ করেছি।

বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলার রহমান জানান, রাস্তার পার্শ্ববর্তী উঠান হওয়ায় মাটি ভরাট উঠানে কাছাকাছি পড়েছে।

তিনি আরও জানান- অনুপস্থিত না থাকলে তাদের খাতায় অনুপস্থিত লেখার বিষয়ে কথা বলেছি। এবং ৫নং ওয়ার্ডের প্রকল্পে ২ জন উপস্থিত ছিল না।এসব কাজে চেয়ারম্যানের কোন হাত নেই সব কিছু মেম্বার ও সর্দাররা দেখভাল করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুল হাই সরকার বলেন, আমরা পরিদর্শনে যাকে অনুপস্থিত পাচ্ছি তাকে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। এখানে কার মেয়ে কার ছেলে আমরা তা দেখতে যাই না।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রকল্পে অনেক শ্রমিক কাজ না করে অলস সময় কাটায় তা শুনেছি। প্রতিদিন প্রকল্প পরিদর্শন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তিনি জানান- যে সকল শ্রমিক কোন দিন আসে না বা বদলী রয়েছে এরকম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাদের আমরা স্থায়ী ভাবে বাতিল করে নতুন শ্রমিক নেয়ার ব্যবস্থা করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, অনুপস্থিত শ্রমিকদের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানোর কথা। আমি নিজেও প্রকল্প পরিদর্শন করে যাদের অনুপস্থিত পেয়েছি তাদের খাতায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে।

সময় জর্নাল/ মোরসালিন শাকীর

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ