অসহায় দেশে করোনা

প্রকাশিতঃ ৮:০৩ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৩ এপ্রিল ২০

অসহায় দেশে করোনা
– ইমরান মাহফুজ

করোনা, তুমি কেন এসেছো বাংলাদেশে?
পঞ্চাশ বছরেও যাদের মৌলিক চাহিদা মেটেনি
সেখানে তোমায় নিয়ে ভাবা, অভাবী মানুষের বিলাসিতা ছাড়া আর কী!

এখানে প্রায় প্রতিটি মানুষ অন্ধকারে দিন শুরু করে, আর সারাদিন ভাতের হাহাকারে শূন্যতায় ঘরে ফেরে!

দেখো, তুমি নিজেই দেখো
বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা স্বাধীনতার দেশে
তারুণ্য ঘুমায় ক্ষুধার বাকলের নিচে।
মেধাবীরা নতজানু হয় চেয়ারের কাছে।
ঐতিহাসিক রাজপথ কাঁপে চোরাকারবারিদের দাপটে। নিত্যনৈমিত্তিক মানুষ হত্যা পত্রিকার শিরোনাম, সুন্দরীরা অভিজাতদের বুকে শুয়ে থাকে
নির্বিকার শিল্পকর্মের মতো;
দেখে ছেকে গ্লাসভর্তি কান্না হাতে বের করে দেয়!

কেউ কাউকে বোঝে না, কেউ কাউকে দেখে না।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমরা বিজ্ঞান ও ব্যবসা, সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ ও রাজনীতি অর্থনীতি গার্হস্থ্যনীতি সব জানি, সব পড়ি কিন্তু— অধরা থাকে মানবতা! একচোখা সমাজে দাড়িয়ে থাকে
হারামজাদার বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজগুলোতে ঘাস কাটে নীতিহীন হাজারো রাখাল! এইভাবে
প্রশংসার দেশে কেউ কাউকে বলে না,
কিংবা কেউ কাউকে কিছু বলতে পারেও না!

তুমি আরও দেখবে,
বোহেমিয়ান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিলুপ্ত প্রায় সমালোচনা,
কবি ও কাক সদা ব্যস্ত হাহাকারে। বুদ্ধির রাজনীতি কেবল প্রশংসার। অথচ রাতের বয়স বাড়লে ভাড়া বাড়ে পুলিশের। বেকায়দার জীবনে যুবতীর কামের পয়সা মেরে দেয় কথিত নেতা। নিঃসঙ্গ যুবক হস্তমৈথুন করলেও রাষ্ট্র হাঁকে রাজস্ব! মোবাইলে কথার আগে কেটে নেয় রাজ্য কর! আর মহামারীতে সেবা চাইলে, রাষ্ট্র ভিখিরি মেঘের স্বরে করে হাহাকার!

এখন করোনা তুমিই বলো, কোথায় এলে!

দেউলিয়া মাঠের মতো মাটি মানুষের সংবিধান। রক্তমাখা আসাদের শার্ট আজও আমাদের প্রেরণা। জানো, আমরা সেই শেকল ভাঙতে পারিনি;
ফলত নিদারুণ জীবনে তোমার আগমণে ব্যথাতুর সবাই…

আমরা অসহায়,
পিতারা ঘুমিয়ে আছে
বাহান্ন ও একাত্তরের চেতনায়৷
করোনা, আবার তুমি এসো আশাবাদী চোখে!

আরও পড়ুন:

বইমেলায় কবি ইমরান মাহফুজের ‘কায়দা করে বেঁচে থাকো’

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ