আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাতিয়ার ৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র

প্রকাশিতঃ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, রবি, ১৩ অক্টোবর ১৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি: ভবনের ছাদে হেলিপেড-বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা, ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানি শোধনাগার, জরুরি মেডিকেল রুম, গবাদি পশু ও প্রতিবন্ধীদের পৃথক থাকার ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাতিয়ার ৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও দ্বীপের মানুষের মাঝে এক উচ্ছ্বাস বিরাজমান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক এর অর্থায়ন এবং পায়েল খায়ের গ্রুপের তত্ত্বাবধানে হাতিয়া দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় আধুনিক সুবিধা সম্বলিত হাতিয়ার ৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এ কাজের তদারকি করছেন। মজবুত কাঠামো ও ভূমিকম্প সহনীয় প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা।

শুধু আধুনিক নয় এসব ভবনে দুর্যোগ মুহুর্তে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মহা বিপদ সংকেতের সময় সতর্ক সাইরেন। এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা রুম, মহিলা ও পুরুষের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। ভবনের ২য় তলায় বিশাল জায়গায় গবাদি পশুর আশ্রয়স্থল রয়েছে। এছাড়াও হাতিয়ায় এসব আশ্রয়কেন্দ্রে চলছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান।

রেডক্রস চরঈশ্বর ইউনিট প্রধান আব্দুস সহিদ সময় জার্নালকে বলেন, স্বাধীনতার পর দুর্বল ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো তৈরি করার ফলে মানুষ যেতে নারাজ ছিল। বর্তমানে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত যে আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি হয়েছে তাতে মানুষের মাঝে এক শান্তি ও উচ্ছাস বিরাজ করছে।

সাগরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউছুফ বলেন, আধুনিকতা সম্বলিত নতুন এসব আশ্রয় কেন্দ্রের ফলে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাধীনতার পরে হাতিয়ার ১১ টি ইউনিয়নে প্রায় ১ শত ৮০টি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হলেও ইতোমধ্যে অনেকগুলো পরিত্যক্ত আর কিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে অনেকগুলোর মেরামত করা হলেও অবকাঠামোগত বিভাজন না থাকায় পুরুষরা আশ্রয় নিতে পারলেও নারীরা তা পারছেন না।

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস উপজেলা পরিষদ হলরুমে এসব আশ্রয় কেন্দ্রের চাবি ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং সময় জার্নালকে বলেন, আমাদের সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই দ্বীপের ৬ লাখ মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই নতুন আরো আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা নুর এ আলম সময় জার্নালকে বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিকতা সম্বলিত এসব আশ্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে হাতিয়াবাসী আরো উপকৃত হবে। এগুলোর সঠিক রক্ষনাবেক্ষনে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ