আবুল কালাম আজাদের গল্প ‘আতার প্রেম কথা’

প্রকাশিতঃ ৫:২৭ অপরাহ্ণ, রবি, ২৬ জানুয়ারি ২০

১।।
আমি ছাত্র হিসাবে খারাপ ছিলাম না। এস.এস.সি পরীক্ষায় বসতে পারলে (এ+) না পেলেও (এ-) পেয়ে যেতাম অনায়াসে। আমার দুর্ভাগ্য যে, এস.এস.সি পরীক্ষায় বসতেই পারলাম না। বসতে যে পারলাম না সে আমার বাবার জন্য।

অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছিলাম নির্ঝনজাটেই। যেই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম সেই আমার বাবার টনক নড়লো। বেতন দিয়ে সে আমাকে পড়াবে না। সে আমাকে তার সাথে কৃষি কাজে নেমে যেতে বললো। কিন্তু তখনও আমি কৃষি কাজের যোগ্য হয়ে উঠিনি। মানে লাঙলের গুটি নাগাল পাই না। ঢেলা ভাঙার মুগুর উচু করতে পারি না। তাই বাঁধ সাধলো আমার মা। আমার হয়ে মা বাবার কাছে কান্নাকাটি শুরু করল: এতটুকু পোলারে আপনে ক্যামনে ক্ষেতের কামে নিতে চান? ও ক্যামনে মুগুড়…….?

বেঁচে গেলাম সে যাত্রা। আরও দুই বছর মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করলাম। অষ্টম শ্রেণীতে উঠতে না উঠতেই হাতে-পায়ে বেশ ডাঙর হয়ে উঠলাম। এবার বাবা আমাকে ছাড় দিতে নাড়াজ। বাবা স্কুলের বেতন দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল।

লেখাপড়া শেখার ভীষণ ইচ্ছে আমার মনে। ভেবে কোনো কুল-কিনার করতে পারি না। শেষে আমার সমস্যার কথা জানালাম আমাদের বাংলার শিক্ষক ললিত বাবুকে। আমার প্রতি তাঁর বিশেষ স্নেহ ছিল। স্নেহের কারণ হলো তিনি আমার মধ্যে কাব্য প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন। তাঁর ক্লাশে আমি একদিন একটা কবিতা লিখেছিলাম। তিনি আমাকে চুপি চুপি ডেকে বলেছিলেন: তোর কবিতাটা ভাল হয়েছে। তবে এই বয়সে প্রেমের কবিতা লেখা ঠিক না। কিছু দিন দেশ প্রেমের কবিতা লিখ তারপর……..।
ললিত বাবু হেড মাস্টারকে বলে আমাকে ফুলফ্রিসীপ দিয়ে দিলেন। আমি আনন্দচিত্তে বাড়ি ফিরে বাবাকে বললাম: বাবা, আমার স্কুলের বেতন নিয়ে তোমাকে আর ভাবতে হবে না। হেড মাস্টার আমাকে ফুলফ্রিসীপ দিয়েছেন।

আমার মূর্খ বাবা কী বুঝলো আল্লা মালুম। বলল: তোরে ফুলফিচীপ দিলেও আমি আর তোর বেতন দিমু না।
: ফুলফিচীপ না, ফুলফ্রিসীপ।
: ঐ হইলো। আমি তোর বেতন দিতে পারুম না।
: বাবা, তোমাকে আর বেতন দিতে হবে না। স্কুল আমাকে বিনা বেতনে পড়াবে।
: মাস্টাররা কি তোর বাপ লাগে যে, তোরে বিনা বেতনে পড়াইবো?
: বাবা, গরীব ছেলে-মেয়েদের স্কুল বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়।

এ কথা শুনে বাবা রেগে আগুন। গরু পেটানোর লাঠি নিয়ে তেড়ে এল: শয়তানের ঘরের শয়তান! আমি কি গরিব যে, তুই গরিব ফলায়া ফুলফিচীপ আনবি? আমার জমি-জমা, আগান-বাগান যা আছে তা দিয়্যা তোর মতো পোলা তিন জনম বইস্যা খাইতে পারবো। তোর মাস্টাররা যহন তোরে বিনা বেতনে পড়াইবো তহন তাগো আমার ক্ষেতের কামও কইর‌্যা দিতে কইবি।

এই হলো আমার বাবার কথাবার্তার ছিরি। শিক্ষকগণ সম্মানিত ব্যক্তি। সমাজের বিবেক। তাঁদের সম্পর্কে বাবা কী ভাষায় কথা বলে!

 

২।।
বাবার শত নিষেধ আমি শুনলাম না। আমি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে লাগলাম। চুপি চুপি স্কুলে যাই। রাতে হারিকেন জ্বালিয়ে পড়ি। যতদূর সম্ভব বাবাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তারপরও কখনো বাবার মুখোমুখি হলেই বাবা গরু পেটানোর লাঠি নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। মুখে যা আসে তাই বলে গালাগাল দেয়।

এইট পেরিয়ে নাইন, নাইন পেরিয়ে টেন-এ উঠলাম। ক্লাশের পাঁচ জনের একজন আমি। টেন-এ ওঠার পর কে যেন বাবার কান ভারী করলো যে, এস.এস.সি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ বাবদ অনেকগুলো টাকা লাগবে, সে টাকা কিছুতেই স্কুল থেকে দেবে না।

একদিন সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে দেখি আমার বই-পত্র সব গায়েব। অনেক খোঁজাখুজি করেও পেলাম না কোথাও। খুব কষ্ট পেলাম মনে। এমন মূর্খ বাবার ঘরে জন্ম নিয়ে কি ফাঁসানোটাই না ফেঁসে গেছি। কত বাবা জমি-জমা বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করায়। আর আমার বাবা…..।

স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। শিক্ষকগণ বাড়িতে আসতে লাগলেন কেন আমি স্কুলে যাচ্ছি না তা জানতে। বাবা বই-পত্র গায়েব করে দিয়েছে সে কথা শিক্ষকদের বলি কেমন করে। তাঁদেরকে এ কথা সে কথা বলে কাটাই।

আমি হলাম গ্রামের নাইন পাস মানুষ। গ্রামে তখনও বি.এ.পাস নেই। নাইন পাসেরও মোটামোটি কদর আছে। কিন্তু আমি ঠিকই বুঝলাম এতটুকু লেখাপড়া দিয়ে জীবনে তেমন কিছু শেখা যায় না-করা যায় না। আমি শিখলাম মাত্র দু’টি জিনিস। একঃ শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা। দুইঃ ভালোবাসা। ললিত বাবু ক্লাশে প্রায়ই বলতেন-‘সত্যিকারে মানুষ সেই যার হৃদয় ভালোবাসায় পূর্ণ।’
তবে এ দু’টোর জন্য আমি জীবনে বিশেষ কিছুই পাইনি। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলি বলে গ্রামের সবাই আমাকে উপহাস করতো। ছোট ললিত বাবু বলে ডাকতো। আর ভালোবাসার কথা কী বলবো।

লেখাপড়া নেই। হাতে অজস্র সময়। এই অখন্ড অবসরটা ভালোবাসার পেছনে ব্যয় করা যায় অনায়াসে। আমি ভালোবাসার হাত বাড়ালাম আমাদের পাশের বাড়ির মিতার দিকে। আমার ভালোবাসা মিতার কাছে তিঁতা লাগলো। মিতার সামনে দাঁড়িয়ে যেই বলেছি- ‘মিতা, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি’ অমনি মিতা ছ্যাঁৎ করে উঠে দাঁত-মুখ খেঁচিয়ে বলল: আমি তুমার ভালোবাসার খ্যাতা পুড়ি। কত এস.এস.সি পাস পোলা আমার পিছে ঘুরতে ঘুরতে শ্যাষ আর নাইন পাস তুমি……! তুমি হইল্যা চুলার ছাই।

মিতা আমাকে চুলার ছাই বললো। খুবই চোট পেলাম মনে। ভালোবাসার বিপক্ষে এরকম অপমান থাকতে পারে তা আমার জানা ছিল না। বাবা আমাদের হালের গরুগুলোকে নির্দয়ভাবে পেটায়। ব্যাপারটা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক। কিন্তু বাবাকে কিছু বলতে পারি না। মানে বাবার সাথে কোনো কথা চলে না। আমি সন্ধ্যায় চুপিচুপি গোয়ালঘরে ঢুকে গরুগুলোর গায়ে হাত বুলাই। বলি: কী করবি বল? আমি ফেঁসেছি তার ছেলে হয়ে আর তোরা ফেঁসেছিস তার গরু হয়ে।

গরুগুলো আমার ভালোবাসা বোঝে। পরম মমতায় ওরা আমার শরীর চেটে দেয়। আর মিতা….!
তবে মিতার ব্যবহারে একেবারে ভেঙে পড়লাম না। নিজেকে সামলে নিয়ে ভাবতে লাগলাম, মিতা আমার সাথে যেরকম ব্যবহার করলো তার পেছনে কিছু মাত্র যৌক্তিকতা আছে কি না। ভেবে দেখলাম যৌক্তিকতা আছে। মিতাকে যে আমি ভালোবাসি, এই ভালোবাসা গরুর গায়ে হাত বুলানোর মতো ভালোবাসা না। এই ভালোবাসা মানে বিয়ে, ঘর-সংসার। সে যদি এস.এস.সি পাস কোনো ছেলের ভালোবাসা পায় তবে নাইন পাসের ভালোবাসা নেবে কেন?

এ কথা অনুধাবন করতেই আমার রাগ ও অভিমান গিয়ে পড়লো বাবার ওপর। বাবাই আমার জীবনটাকে ত্যাজপাতা বানিয়ে দিল। বাবা যদি আমার লেখাপড়ার পথে ওরকম বাঁধা হয়ে না দাঁড়াতো তাহলে আজ আমাকে মিতার কাছে এভাবে পস্তাতে হতো না।

শেষে আমার একমাত্র কাজ হলো মিতাদের বাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি করা, ওদের বাড়ির ভেতর উঁকি-ঝুঁকি দেয়া। কদাচিৎ আমি মিতাকে দেখতে পেলেও সে আমাকে খেয়ালই করে না। খেয়াল করলে আরেক বিপদ। আমাকে দেখলেই তার মেজাজ ফোরটি নাইন হয়ে যায়। ফোরটি নাইন হলো সবচেয়ে তিরিক্ষী মেজাজ। সে বাজখাই গলায় বলে: দ্যাখ নাইন পাস, আমার পেছনে ঘুইর‌্যা কোনো লাভ অইবো না। এস.এস.সি পাস পোলা ফালাইয়া নাইন পাসের ভালোবাসায় সায় দেওনের মতো মাইয়া মিতা না।

অবশেষে সব সুবন্ধুদের ডাকলাম। বললাম: তোমরা আমাকে একটা সু-উপদেশ দাও। আমার সামনে এখন আমি দু’টি পথ দেখতে পারছি। একঃ মিতা। দুইঃ মৃত্যু। তোমরা বলে দাও আমি এখন কোন পথে হাঁটবো?

বন্ধুরা আমাকে সু-উপদেশ দিল মিতার পথে হাঁটতে। কিন্তু কীভাবে? মিতার দিকে হেঁটে গেলেই তো অপমান-প্রত্যাখ্যাত। নাইন পাসের খোঁটা। বন্ধুরা বলল: দোস্ত, তুমি আবার নাইন-এ ভর্তি হও। মিতার কাছে যহন এস.এস.সি পাসের এত দাম, তহন এস.এস.সি পাস কর। তারপর দেখবা….। মইর‌্যা কোনো লাভ নাই। বাঁইচ্যা থাকলে তো মিতার বিয়ার দাওয়াতটা খাইতে পারবা।

 

৩।।
আমি আবার নাইন-এ ভর্তি হলাম। ললিত বাবু মহাখুশি হলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবার বাবাও আমার লেখাপড়ায় সায় দিলো। না দিয়ে উপায় ছিল না। যে দুই বছর সে আমার লেখাপড়া বন্ধ করে রেখেছিল সেই দুই বছরে সে আমার কাছ থেকে কোনো সাহায্য পায়নি। আমি তার হালের লাঙরে স্পর্শ করিনি, ঢেলা ভাঙার মুগুড় হাতে তুলে নেইনি, ফসল কাটার কাস্তেও ধরিনি। শুধু মিতাদের বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেছি।

আমি আপাতত মিতাকে ভুলে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে লেখাপড়া করতে লাগলাম। মিতার কাছে যখন এস.এস.সি. পাসের এত দাম তখন তাকে দেখিয়ে দেব যে, এস.এস.সি পাস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী। আমি শুধু পাস করবো না, বোর্ডে মধ্যে সবচেয়ে বেশি নম্বর নিয়ে পাস করবো। দেশের মধ্যে আলোচিত হবো। ঢাকা থেকে সাংবাদিকরা ছুটে আসবে আমার বাড়িতে। আমার ছবি তুলবে। তারা যখন আমাকে প্রশ্ন করবে-এত ভালো ফলাফলের পেছনে কার উৎসাহ রয়েছে? আমি বলবো-আমাদের পাশের বাড়ির মেয়ে মিতার উৎসাহে আমি এত ভাল ফলাফল করেছি।

মিতা শরমে মুখ ঢাকবে আর বলবে: হায় আল্লা! আতা বাই, এইডা তুমি কী কও? আমি আবার তুমারে কবে উৎসাহ দিলাম?

 

৪।।
টেস্ট পরীক্ষা হয়ে গেল। রেজাল্টও হলো। আমার টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে স্কুলের শিক্ষগণ হতবাক। সবার মুখেই এক কথা-আমি না কি স্কুলে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবো।

এক সন্ধ্যায় আমি ঘরে বসে পড়ছি। কে যেন আমার জানালায় টোকা দিলো। জানালা ফাঁক করে দেখি মিতা দাঁড়িয়ে। আমার তো ভীমরি খাওয়ার অবস্থা। বললাম: মিতা, তুমি……?
: আতা বাই, তুমারে আমার সাথে একটু নতুন বাজারে যাইতে অইবো।
: রাতের বেলা নতুন বাজারে কেন?
: রাইত কই পাইলা? সবে তো সন্ধ্যা।
: কিন্তু নতুন বাজারে কেন?
: গেলেই বুঝবা, অহন কিছু কমু না।

আমি দরজা খুলে বের হলাম। মিতাকে নিয়ে বড় সড়কে গিয়ে রিকশা নিলাম। মিতার পাশে বসে আমার সে এক অন্য রকম অনুভূতি। বুকের মধ্যে কাঁপন। ঘন নিঃশ্বাস। এভাবে আচানক মিতার গা ঘেষে বসতে পারবো তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। মিতাকেও কেমন উৎফুল্ল লাগছিল।

নতুন বাজারে রিকশা থামলো। নেমে দেখি পকেটে টাকা নেই। থাকার কথাও না। মিতার ডাকে অমনি বেরিয়ে এসেছি। রিকশা ভাড়া করে কোথাও যেতে হবে তাতো ভাবিনি। মিতা হাতের মুঠো থেকে টাকা বের করে রিকশা ভাড়া দিলো।

আমি বললাম: কোথায় যাচ্ছো মিতা?
মিতা বলল: আমার পেছনে আসো-সব বুঝতে পারবা।
আমি মিতার পেছনে হাঁটতে লাগলাম। মিতা এগিয়ে যেতে লাগলো নতুন বাজারের একমাত্র কাজী অফিসটির দিকে। আমার মনটা আনন্দে ভরে উঠলো। আমার এস.এস.সি পরীক্ষা দেবার খবর শুনে মিতা আমার ভালোবাসায় সায় দিয়েছে। আমাকে আগেই বিয়ে করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমার তো অতটা তাড়া ছিল না। আমি একটু থেমে বললাম: মিতা, পরীক্ষাটা দিয়ে নেই।
: দিবা, তুমার পরীক্ষা তুমি দিবা। তুমার পরীক্ষা ঠেকাইতেছে কে?
: কিন্তু এসময়……! লেখাপড়ার ক্ষতি হবে না?
: তুমার লেখাপড়ার ক্ষতি কে করতাছে? তুমি চব্বিশ ঘন্টা লেখাপড়া করবা। খালি একটা সই-এর মামলা।

কাজী অফিসের ভেতরে গিয়ে দেখি পূর্ব পাড়ার ফজা ওরফে ফজর আলী আর তার বন্ধু আলা ওরফে আলাউদ্দিন বসে আছে। আমি বললাম: ফজা তুই এখানে?
ফজা ফস করে রেগে উঠে বলল: আতা, আইজ থিকা আমারে আর ফজা ডাকবি না-ফজর আলী ডাকবি।
: তুই যে আমাকে আতা ডাকিস? তাহলে আমাকে আতাউর রহমান বলবি।
: তোর আর আমার ব্যাপার এক না।
: কেন, এক না কেন?
: আইজ থিকা আমি তোগো পাড়ার জামাই।
: জামাই! আমি বেকুবের মতো ফজার মুখে তাকিয়ে রইলাম।

মিতা আমাকে সব বুঝিয়ে বলল: আতা বাই, আমি তুমারে সব বুঝায়া কইতাছি। আমি আর ফজা বাই পালায়া বিয়া করুম ঠিক করছি। কাজী সাব কইলো দুইজন সাক্ষী লাগবো। সবাইরে তো আর সাক্ষী বানাইতে পারি না। সাক্ষী অইতে গেলে সই করতে অয়, সই করতে অইলে লেহাপড়া জানতে অয়। তাই ফজা বাই আনছে আলা বাইরে আর আমি আনলাম তুমারে। তুমরা দুইজন আমাগো বিয়ার সাক্ষী অইবা। তুমার কুনু আপত্তি আছে?
: না, কোনো আপত্তি নেই। এখানে আপত্তির কী থাকবে?
আমি মিতা আর ফজর আলীর বিয়ের সাক্ষী হিসাবে নিজের নাম লিখলাম। হাতের লেখাটা খুব সুন্দর হলো। মনে হলো, এত সুন্দর করে নিজের নাম আগে কখনো লিখিনি। কেন এত সুন্দর হলো তা বুঝতে পারলাম না।

 

৫।।
বাড়ি ফিরে মেঝোতে লুঙ্গি বিছিয়ে তাতে সব বই-পত্র নামিয়ে একটা গাট্টি বাঁধলাম। তারপর সেটা তুলে রাখলাম পেঁয়াজের চাঙে। তারপর চৌকির ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে অপলকে তাকিয়ে পেঁয়াজের চাঙ দেখতে লাগলাম। পেঁয়াজের চাঙও যে দেখার মতো জিনিস তা আগে বুঝতে পরিনি।

বাবা তখন সব সময় আমার লেখাপড়ার খোঁজ খবর রাখে। বাবা এসে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল: কিরে বাজান, অসময়ে শুইয়া আছোস যে? শরীল খারাপ না তো?
: না বাবা, শরীর ঠিক আছে।
: তায়লে? এহন তো লেহাপড়ার টাইম।
: বাবা, আমি এস.এস.সি পরীক্ষা দেব না।
: কস কি তুই! তোরে নিয়া কত স্বপন……..!
: বাবা, একদিন আমি লেখাপড়া করতে চেয়েছিলাম। তুমি আমাকে লেখাপড়া করতে দাওনি। আজ তুমি আমার লেখাপড়া চাইছো, কিন্তু আমি করবো না। আমার আর এখন এস.এস.সি পাসের কোনো দরকার নাই।
বাবা আমার মুখে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। আমি উঠে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে এলাম। অন্ধকারে হনহন করে এমনভাবে হেঁটে যেতে লাগলাম যেন অন্ধকারেও আমি সব দেখতে পাই। আমি একটা নিশাচর প্রাণী।

আরও পড়ুন : আবুল কালাম আজাদের গল্প ‘ঝুলে আছে মানবতা’

E-mail : abulazad28@yahoo.com

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ