আবুল কালাম আজাদের গল্প ‘প্রেম বলে কিছু নেই’

প্রকাশিতঃ ৫:২৫ অপরাহ্ণ, রবি, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০

জানালার ওপাশে নিস্তব্ধ অন্ধকার আকাশ। বিষন্ন একটা সন্ধ্যা। অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে একটা ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে গেল আমার ভেতর থেকে।
টেড হিউজ এর ‘দি থট ফক্স’ কবিতার চারটা লাইন মনে মনে আবৃত্তি করলাম কয়েকবার-

Through the window I see no star:
Something more near
though deeper within darkness
Is entering the loneliness:

এই বিষন্ন সন্ধ্যায় ঘরে বসে থাকতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। দরজা খুলে বের হয়ে গেলাম। মা বললেন: এই ঘোর সন্ধ্যায় আবার কোথায় যাচ্ছিস?
: আসছি মা, একটু পরেই আসছি।

পথে নেমে এলোমেলো হাঁটতে লাগলাম। লোকে হয়তো ভাববে, মাতাল বুঝি। মনটা ছিল কিছুটা বিক্ষুব্ধ। কিছুটা রাগ-অভিমান-হতাশা। রাগ ও অভিমানটা কার ওপর ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। আমার নিজের ওপর, নাকি শ্রাবণীর ওপর?

আজ আবার শ্রাবণীকে দেখলাম। টিএসসির সামনে। ও পাভেলের পাশে হাঁটছিল, পাভেলের হাত ধরে। কথা বলছিল। হাসছিল। আমাকে যে দেখে নাই তা নয়। কিন্তু এমন ভাবে পাশ কাটিয়ে চলে গেল, যেন আমাকে চেনে না। আমি কেউ নই। কোনোদিন কেউ ছিলাম না।

এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে এলাম মোড়ের চায়ের দোকানটায়। এক কাপ চা চাইলাম। চায়ের দোকানদার মামা নিঃশব্দে চা বানিয়ে আমার হাতে দিল। চায়ের কাপ মুখের কাছে নিতেই মিষ্টি একটা গন্ধ টের পেলাম। চায়ের চুমুক দিয়ে স্বাদটাও পেলাম অতুলনীয়।
বললাম: আজকের চা-টা যেন অন্যরকম লাগছে।
প্রশস্থ একটা হাসি ছড়িয়ে পড়ল মামার প্রশস্থ মুখটাতে। পাড়ার সব চায়ের দোকানদার সম্পর্কে আমাদের মামা। মামা বলল: ভাইজান, এইটা মশলা চা, তাও সব কিছু ডবল ডবল দিছি।
এই চাওয়ালা লোকটা একটু ভিন্ন। তাকে আমরা মামা ডাকলেও সে আমাদের ডাকে ভাইজান। হয়তো মামা হওয়ার জন্য যেরকম বয়স দরকার তা তার হয়নি তাই সে সম্বন্ধটা পছন্দ করে না।
আমি বললাম: কেন, আজ সব ডবল কেন?
: কারণ আছে, খুবই সুন্দর একটা কারণ।
: কারণটা বলেন।
: আজই আপনাকে শেষ চা খাওয়ালাম। আর কোনোদিন আপনাকে চা খাওয়াতে পারবো না।
: কেন, সমস্যা কী?
: আজ থেকে এই দোকান বাদ। আমি চায়ের দোকান করবো না।

আমার মনটা একটু খারাপ হলো। তার জন্য নিশ্চয় কারণটা সুন্দর, কিন্তু আমার এবং আমাদের জন্য সুখবর না। অনেকদিন ধরে আমরা তার দোকানে চা খাই। খুব হাসি-খুশি মানুষ। সমবয়সী বলে গল্পও জমে বেশ। পকেটে পয়সা না থাকলে বাকিতে খাই। সে বলে: রাজার ট্যাকেও সবসময় পয়সা থাকে না। আপনে তো আর উড়ালপঙ্খি না যে, উড়াল দিয়া অচিন দ্যাশে চইলা যাইবেন। যখন পকেটে পয়সা আসবে, তখন দামটা দিয়া দিলেই হবে। এখন চা খাওয়ার দরকার, চা খান।
এত ভালো মানুষ আর পাবো না। আমি বললাম: কোথায় যাবেন?
: গ্রামে।
: গ্রামে গিয়ে কী করবেন?
: কৃষি কাজ করবো।
: কৃষি কাজ ভালো। কৃষকরা জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকদের অবস্থা তো সেরকম ভালো না। কৃষি কাজের চেয়ে শহরের এই চায়ের দোকানটা ভালো নয় কি? প্রতিদিন নগদ আয়।
: দোকানটা ভালো ছিল। আশেপাশের সব দোকানের চাইতে আমার দোকানটাই বেশি চলে।
: তাহলে চলে যাবেন কেন?
মামার মুখে লাজুক হাসি। কিছু যেন লুকাতে চায়। আরেক কাপ চা বানানোতে মনোযোগ দিল। কিন্তু দোকানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি তো তার কাছে চা চাইনি।
সে চায়ের কাপ আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমি বিস্ময় জড়ানো কন্ঠে বললাম: মাত্রই তো এক কাপ খেলাম।
: সেইটা ছিল লেবু-চা, এইটা আদা-চা। খাইলে গলা পরিস্কার হবে।
: আমার গলা পরিস্কার আছে।
: তবু খান, তারপর একটা গান ধরেন।

বন্ধু মহলে আমি সৌখিন শিল্পী হিসাবে পরিচিত। ‘আমার গানের কন্ঠ ভালো’-এ কথা বলার সাহস আমার আছে। এই চায়ের দোকানে বসেই বিকালে, সন্ধ্যায় অথবা রাতে অনেক গান গেয়েছি।

ধীরে-সুস্থে আদা-চা খেলাম। তারপর বললাম: কী গান করবো?
: এমুন গান গাইবেন যে গান পরাণের মধ্যে খেজুর কাঁটার মতো বিঁধা থাকে। অবশ্য আপনে নিজেই আমার পরাণে বিঁধা আছেন। আমি আপনাকে কোনোদিন ভুলতে পারবো না।

আমি শুরু করলাম-
‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে
একটা কথাই শুধু জেনেছি আমি
পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, কিছু নেই……।’

‘থামেন, থামেন ভাইজান, আমার প্রেমের দোহাই লাগে এই গান বন্ধ করেন’- মামা প্রায় আর্তনাদ করে উঠল। আমি গান থামালাম। বিস্মিত চোখে তার মুখে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, গানটা তো সুন্দর। সে বন্ধ করতে বলছে কেন? নাকি আমার সুরে ভুল হচ্ছে?

বিস্ময় কাটিয়ে বললাম: গানটা কি সুন্দর না?
: গানটা সোন্দর। কিন্তু আমার এখন এই গান শোনার টাইম নাই। এইটা একটা বেহুদা গান।
: বেহুদা গান! আপনার কথা কিছু বুঝতে পারছি না।
: পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নাই-এইটা কোনো কথা হইল?
: কারও কারও কাছে প্রেম বলে কিছু নেই।
: যার কাছে নাই, তার কাছে গান গিয়া। আমার কাছে প্রেম আছে, প্রীতি আছে, ভালোবাসা আছে। প্রেম-ভালোবাসা আছে বলেই তো এই লাভের ব্যবসাটা ফালায়া গ্রামে যাইতেছি।
: আজ প্রথম থেকেই আপনার কথা কেমন অন্যরকম লাগছে। একটু খুলে বলবেন…..?
: ভাইজান, গ্রামে আমার পাশের বাড়ির মালতী আমার ভালোবাসা। মালতীও আমারে খুবই ভালোবাসে। আমরা দুইজন দুইজনের জানের জান, প্রাণের প্রাণ। আগামি সপ্তাহে আমাগো পবিত্র বিয়া মোবারক। বিয়ার পর আমি মালতীরে রাইখা আর শহরে আসতে চাই না, তাই দোকান বাদ।
: কেউ কি বউ-বাচ্চা রেখে দূর-দূরান্তে চাকরি বা ব্যবসা করে না?
: সেইটা তাগোর ব্যাপার। মালতীরে রাইখা আমি থাকতে পারব না।
: হাহাহা।
: হাসেন ভাইজান?
: আপনাদের জন্য শুভ কামনা।
: ভাইজান, আমার বিয়াতে আপনেরে নিতে পারলে খুব ভালো হইতো। আরও ভালো হইতো যদি আপনাগো পুরা বন্ধুদল নিয়া যাইতে পারতাম। গান-বাজনায় সবাইকে মাতায়া রাখতে পারতেন। কিন্তু…. কিন্তু……।
: সমস্যা নাই। ভালোয় ভালোয় শুভ কাজটা হয়ে যাক। একদিন আমরা দলবেঁধে যাব। গান-বাজনা, হৈ-হুল্লোর করে আসবো।
: ‘কৃষ্ণ আইলো রাধার কুঞ্জে ফুলে পাইলা ভ্রমরা’-এই গানটা একটু শুনায়া যান ভাইজান।

গান শুনিয়ে চলে এলাম। এলোমেলো উদ্দেশ্যহীন হাঁটতে লাগলাম। চা দোকানদার মামার সাথে কথা বলতে, তাকে গান শোনাতে মন্দ লাগেনি। কিন্তু দোকান থেকে সরে আসার পরই আমার বুকের মধ্যে কেমন যেন করে উঠল। কেমন হাপিতাস। নিজের প্রতি নিজের বিরক্তি। নিজের ভেতর এক রকমের হিংসার আগুনও জ্বলে উঠল। হিংসাটা চায়ের দোকানদার মামার প্রতি। সামান্য একটা চায়ের দোকানদার! তার জীবনেও এসেছে কি নিবীড় ভালোবাসা-সার্থক প্রেম।

আর আমার জীবনে……! আমাদের এতদিনের প্রেম-ভালোবাসাকে পায়ে দলে শ্রাবণী এখন কোটিপতি বাবার একমাত্র ছেলে পাভেলের হাত ধরে পাশে পাশে হাঁটে, গল্প করে, হাসে। এতদিনেরই বলা যায়। অনার্সের পুরো চারটা বছর। মহাকালের সাথে তুলনা করলে চার বছর কিছুই না। কিন্তু যে শিশুটার বয়স এখন চার, তার জন্য তো এটাই সমস্ত জীবন। চারটা বছর পৃথিবীতে বিশালসব পরিবর্তন ঘটে যাবার জন্য যথেষ্ট।

আলো-অন্ধকারে এলোমেলো হেঁটে বাসায় ফিরে এলাম। শুধুই মনে পড়তে লাগলো চায়ের দোকানদার মামার আনন্দিত মুখ। মনে পড়তেই আমার ভেতর আনন্দ জাগে না। কেমন হিংসা জাগে। ছিঃ আমি এত ক্ষুদ্র হয়ে গেছি!

দিন পনেরো কেটে গেছে বোধ হয়।
বিক্ষুব্ধ মনটাকে স্বাভাবিক করতে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কুয়াকাটা, সেন্টমার্টিন, আর কিছু চর এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছি।

তারপর এম. এ ক্লাশ শুরু হয়ে গেল। পড়াশোনার জন্য নিজেকে অনেকটা প্রস্তুত করে ফেলেছি। মনকে বুঝিয়েছি, কূল ভাঙে, কূল গড়ে, ঘর ভাঙে, ঘর গড়ে। নিশ্চয় প্রেমেরও ভাঙা-গড়া আছে। হয়তো শাবণীর যোগ্য আমি ছিলাম না। অথবা শ্রাবণী ছিল না আমার যোগ্য। আমাদের মধ্যে কোথাও কোনো পার্থক্য ছিল। যার ফলেই আমরা দূরে সরে গেছি। হয়তো ঠিক আমাকে আমার মতো করেই ভালোবাসার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করে আছে।

আরেক সন্ধ্যায়।
সেই চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে ফিরছি। দেখি দোকান খোলা। তাহলে কি নতুন কেউ ভাড়া নিয়েছে? একটু এগোলাম। দৃষ্টি প্রসারিত করে তাকালাম। সেই মামা! ভুল দেখছিনা তো! আরেকটু এগোলাম। চোখ কোচলে নিয়ে ভালো করে দেখলাম। না, কোনো ভুল না। স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি সেই মামা। শুধু দেখতে পাচ্ছি না। শুনতেও পাচ্ছি। কী শুনতে পাচ্ছি? দোকানের সামনে বড় এক সাউন্ড বক্স নামিয়ে গান বাজাচ্ছে-পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই….।

সে এই গান বাজাচ্ছে কেন? তার কাছে এই গান তো একটা বেহুদা গান। তার কাছে পৃথিবী হলো প্রেমময়। সে এক সার্থক প্রেমিক।
আমি দোকানের সামনে গেলাম। আমাকে দেখেই কেমন অচেনা এক হাসি হেসে বলল: ভালো আছেন ভাইজান?
: ভালো, কিন্তু আপনি……?
: আবার দোকান শুরু করলাম।
: আপনি না কৃষি কাজ করবেন বললেন?
: কৃষি কাজ কপালে নাই। কপাল আছে চায়ের দোকান….।
: কেন, সমস্যা কী?
: বসেন ভাইজান, বসেন সব বলবো।

সে দোকান থেকে নেমে গামছা দিয়ে বেঞ্চি মুছে দিলো। কাপ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে খুব যত্ন করে এক কাপ চা বানিয়ে আমার হাতে দিলো। চায়ে চুমুক দিয়ে আমি শুনতে অপেক্ষা করছি, তার ফিরে আসার কারণ। সে সেদিকে না গিয়ে বলল: ভাইজান, নন্দী সাহেবকে একবার আমার দোকানে আনতে পারবেন?

প্রশ্নটা আমার কানের ভেতর ধাঁ করে লাগলো। নন্দী সাহেবটা কে? তাকে এখানে আনবো কেন? আমি হাঁ করে তার মুখে তাকিয়ে রইলাম।
সে আবার বলল: কথা বলেন না যে? অমন কইরা তাকায়া আছেন যে? বলেন, নন্দী সাহেবকে একবার আনতে পারবেন আমার দোকানে?
: নন্দী সাহেবটা কে?
: যিনি এই গানটা গাইছেন-হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে……..। তারে আমার দোকানের বেঞ্চিতে বসায়া নিজ হাতে ডবল মশলার দুই কাপ চা খাওয়াইতাম। তারপর তার কাছ থেকে গানটা শুনতাম।

আমি মামার কথা বুঝতে পারলাম। একদিন তো সে এই গানটাকে বেহুদা গান বলেছিল। আর এখন স্বয়ং সুবীর নন্দীকে ডেকে এনে ডবল মশলার চা খাইয়ে গানটা শুনতে চাইছে। ঘটনা কী?
আমি বললাম: এখন তো নন্দী সাহেবকে এখানে আনা সম্ভব না। এখন খুব বেশি হলে তার আত্মা আনা যাবে। কিন্তু আত্মা আনার সিস্টেম তো আমার জানা নাই।
: নন্দী সাহেব কি বেঁচে নাই?
: পত্র-পত্রিকা পড়েন না? মাত্র কিছুদিন আগেই তো সংগীতপ্রিয় বাঙালীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন।
: আহা! এমন একজন শিল্পী……..। কি একটা গান গাইছেন। হাজার মনে কাছে প্রশ্ন রেখে, একটা কথাই শুধু জেনেছি আমি/ পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, প্রেম বলে কিছু নেই…….। এর ওপরে সত্য কথা হয় না।
: আপনি কিন্তু একদিন বলেছিলেন, এইটা একটা বেহুদা গান।
: সেদিন ভুল বলেছিলাম। আসলে শিক্ষা-দীক্ষা তেমন নাই তো। ভুল-শুদ্ধ বুঝতে সময় লাগে। ঢুঁস খাওয়ার পর হুশ হয়। আজ হাড়ে হাড়ে বুঝেছি, এর ওপরে সত্য কথা হয় না।
: আপনি তো গ্রামে চলে গেলেন বিয়ে করতে। আপনার প্রেমিকার নাম মালতী। মালতীকে বিয়ে করে ঘর বাঁধবেন। কৃষি কাজ করে কৃষক হবেন, মালতী হবে কৃষাণী। তো ফিরে এলেন যে? মালতীর সাথে কি আপনার বিয়ে হয়নি?
: না ভাইজান।
: কেন?

মামা মাথা নিচু করল। মুখ ম্লান। কি একটা কষ্ট তার বুকের ভেতর যেন হুল ফুটাচ্ছে অবিরাম। কিছু বলে না। হয়তো বলতে পারছে না। আমি আবার বললাম: মালতীর সাথে আপনার বিয়ে হয়নি কেন?
: মালতী কথা রাখল না।
: খুলে বলবেন?
: খুলে বলার কিছু নাই ভাইজান। বিশ্বাস করেন ভাইজান, আমার চাইতে ভালো মালতীরে এই দুনিয়ায় আর কেউ বাসবো না। কিন্তু মালতী আমার ভালোবাসা বুঝল না। মালতী বুঝলো, ট্যাকা-সম্পত্তি আর ক্ষমতা। যেদিন বাড়ি গেলাম তার তিনদিন আগে মালতী চেয়ারম্যানের পোলরে বিয়া করছে। আমাগো সাত বছরের প্রেম……..। ভাইজান, এখন বলেন, প্রেম বইলা কি দুনিয়ায় কিছু আছে?

মামা কেঁদে ফেলল। অবুঝ শিশুর মতো কাঁদতে লাগলো। কাঁধের গামছা দিয়ে চোখ মুছতে লাগলো। অঝর ধারা মুছে শেষ করতে পারে না।

আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। কী বলবো? কী বলে তাকে সান্তনা দেয়া যায়?
কয়েক মিনিট তার মুখে তাকিয়ে কান্না দেখলাম। কান্না কি দেখার মতো কোনো জিনিস? তারপর নিঃশব্দে উঠে চলে এলাম। কিছুটা এগিয়ে শুনতে পেলাম পেছনে গান বাজছে-
হাজার মনে কাছে প্রশ্ন রেখে
একটি কথাই শুধু জেনেছি আমি
পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, কিছু নেই…..।

একদিন মামার সার্থক প্রেমের কথা শুনে এই ব্যর্থ প্রেমিক-আমি কিছুটা হিংসা বোধ করেছিলাম। কিন্তু আজ সত্যিই মামার জন্য মনে কষ্ট বাজতে লাগলো। কষ্টটা বেশিই বলা যায়।

মালতী এটা কী করলো? সাত বছরের প্রেম…..। সাতটা বছর কি শুধুই মুখের কথা!

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ