আমাদের সমস্যাটি থেকে কি কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসবেন?

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, রবি, ১২ এপ্রিল ২০

রায়হান, কাউনিয়া, রংপুর : আমি একজন দুগ্ধ খামারি। বাড়ি রংপুর জেলায় আমরা এই মূহুর্তে এমন অবস্থায় আছি যা বর্ণনা করে বলা সম্ভব না।

যেখানে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরী প্রয়োজন ঘরে থেকে বের হওয়া নিষেধ সেখানে আমাদের প্রতিদিন ছুটতে হয়। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ঘরে বসে থাকলে মানুষের খুদা মিটলেও আমাদের গৃহপালিত পশু গুলোর চাহিদা কি করে মিটবে?

সরকারি অনুদান না পেলেও ঘরে যে চাল ডাল আছে তা দিয়ে দু’বেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকব।

যাই হোক আসল কথায় আসি,বছরে ২ মৌসুম ধান চাষাবাদ কর ছারা আর কিছু করার থাকে না আমাদের।

ঘরে নেই কোন চাকরিজীবী, ৫ সদস্য পরিবারে বাবা কৃষক ও খামারি । ধান চাষে যা আসে তা ৫ মাসের জন্য খাদ্য মজুত করে নিয়ে,বাকি টুকু বিক্রি করে পরের মৌসুম চাষাবাদের জন্য সঞ্চিত করে রেখা দেয়া হয়। এভাবে চলে আমাদের সংসার।

আর যে খামারি কথা বললাম না?

ছোট্র গাভী খামার আছে। বলতে পারেন মূল জীবিকা চলে এটার উপর। গাভী লালনপালন করে দুধ বিক্রি করে এভাবেই চলে। বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বিপাকে আমরা গাভী নিয়ে।

আমরা তো ৬মাসের খাবার আছে,তা খেয়ে আছি। তো আমাদের তো ভাতের সাথে, আর কিছু লাগে খাওয়ার জন্য? এ আর কিছু না হোক লবন তো লাগবে?

আমরা পারছি না কার কাছে হাত পেতে কিছু নিতে, সরকারি অনুদান চাল ডাল আলু আমাদের লাগবে না।

আমরা আমাদের গাভী গুলো কে খেতে দিতে চাই, তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারলে কোন অভাবই আমাদের কাবু করতে পারবে না।

আমরা এই মূহুর্তে এমন অবস্থায় আছি যেখানে, যে দুধ বিক্রি করে আমরা গাভীর খাদ্য নিতে পারছি না। ২০ টাকায় বিক্রি করে ৪০ টাকা কেজি গো খাদ্য কিনতে হচ্ছে।

সরকার সবাইকে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষনা দিলো আমাদের যে পরিমান ক্ষতি হচ্ছে তার জন্য সরকার কী কোন করনিয়ো নেই?

আমার পরিবার এই দুগ্ধ খামারে আয়ের উপর নির্ভর করত। আমরা না পারছি কার কাছে হাত পাততে। একতে নিজেদের ক্ষুদা মিটানো তবুও চলছে,,,যেভাবে থাকা যায় মানুষ তো আমরা।

কিন্ত এই গাভী গুলো কি আমরা মেরে ফেলবো? তাদের তো আর ৫ কেজি চাল সাথে আলু ডাল দিয়ে চলবে না। ৪০ টাকা কেজি গো খাদ্য যদি তাদের না দিতে পারি তাহলে তাদের না খেয়ে মেরে ফেলত হবে।

আমাদের সমস্যাটি থেকে কি কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসবেন?

লেখক : রংপুরের গো-খামারী।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ