আমার অনুরোধ “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর” নিকট

প্রকাশিতঃ ৭:৫০ অপরাহ্ণ, রবি, ১২ এপ্রিল ২০

নূরুল ইসলাম রুবেল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা। :

কিছু কথা না বললেই নয়ঃ

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব এখন অস্থিরতায় কাটাচ্ছে।এই যেনো মৃত্যুর অপেক্ষায় বেঁচে থাকা।

কোথাও কোনো অফিস আদালত,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা নেই৷ এই অবস্থায় সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে ঘরে আবদ্ধ মানে কথিত কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য। সরকার সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য আইনানুক ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন কি এটাই অনেকে জানে না বা বুঝেনা৷ উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশের সব মানুষ বুঝছে না৷ আর এই দেশে কোয়ারেন্টাইনে থাকা কিছু কিছু মানুষের কাছে বিলাসিতার মতো মনে হচ্ছে।

যারা দিনমজুর বা নিম্নআয়ের তাদেরকে সরকার নানান ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। খাবারের ব্যবস্থা করেছেন (যদিও সবাই তা পাচ্ছেন না ঠিকমতো বংগোপাল দের জন্য) খাবারের জন্য অলরেডি আত্তহত্যা ও করছেন দেখলাম৷

কলকারখানা/ গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন কোম্পানির জন্য বিশেষ প্রনোদনা ও ঘোষণা করেছেন৷ সরকার করোনা মোকাবেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন৷ যা সত্যিই প্রসংশার দাবি রাখেন৷

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলোঃ-

যারা চাকরিজীবী তারা গত ১৫/২০ দিন থেকে চাকরি বাদ দিয়ে কোয়ারেন্টাইনে বসে আছেন, তাদের জন্য কি ব্যবস্থা রেখেছেন?তারা কি ঠিকমতো গত মাসের বেতন পেয়েছেন? তারা কিভাবে চলছেন কেউ খবর নিয়েছেন? তাদের মালিকরা তাদের ন্যায্য বেতনটা পরিশোধ করেছেন কিনা খোঁজ নিয়েছেন কেউ?

যারা ছোটখাটো ব্যাবসায়ী তারাও তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে কোয়ারেন্টাইনে আছেন৷ তাদের খবর কেউ নিয়েছেন?

অনেকেই আছেন ঠিকাদারী ব্যবসা করেন, তারা কি করছেন কিভাবে আছেন খোঁজ নিয়েছেন? তাদের বকেয়া বিলগুলো পেয়েছেন কিনা খবর নিয়েছেন?

আমার জানা মতে এই দিকে কারো কোনো নজর নেই। আপনারা শুধু বলছেন যাদের সাহায্য লাগবে গোপনে বললে তাদের আপনারা পৌঁছে দিবেন রাতের অন্ধকারে৷ কি আশ্চয্য তাদের কে কেনো অসহায়ের কাতারে ফেলে দিলেন?তাদেরও তো ইচ্ছা থাকতে পারে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যখন তাদের সাহায্য দরকার হবে তখন না হয় দেখা যাবে।

তাই আমার অনুরোধ “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর” নিকট, উপরের মানুষদের জন্য শুধু এইটুকু পারলে করুনঃ-

যে সকল কোম্পানি এখনো তাদের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেন নাই। তাদের একটা সময়সীমা বেঁধে দেন৷ পারলে তাদের এক মাসের বেতন অগ্রীম দিয়ে দিতে বলেন৷

আর যেসব কোম্পানি তাদের সাপ্লাইয়ার দের বিল পরিশোধ করেননি, তাদের কেও সময়সীমা বেঁধে দিন৷

নইলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তাদের হুশিয়ারী করেন৷ শুধু এইটুকুই আপাতত করুন।

আর আপনার বংগোপালদের বাদ দিয়ে সরাসরি সেনাবাহিনী কে দিয়ে গরিব মানুষদের সাহায্য করুন৷

দেখবেন অধিকাংশ মানুষ ঘর থেকে বের হবেন না৷

উপরের কাজগুলা যদি যথাযথভাবে পালন করা যায়, তাহলেই করোনা অনেকখানি মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মনে করি। আর না হয় আল্লাহ না করুক, দেখবেন করোনার চেয়ে ও দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাবেন বেশি।

আশা করি ভুলত্রুটি বাদ দিয়ে বিষয়গুলো একটু ভেবে দেখবেন৷ সবাই যথাসম্ভব শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ- মোহনা এন্টারপ্রাইজ।
মোবাইল নং-01842505750
Email:-rubelkhan60@gmail.com

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ