ইবিতে গভীর শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

প্রকাশিতঃ ৬:১৪ অপরাহ্ণ, শনি, ১৪ ডিসেম্বর ১৯

তিতলী, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়ছে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সমনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের শুরু করা হয়।

এসময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান।

পতাকা উত্তোলন শেষে সকাল ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতিসৌধে সমবেত হয়।

এসময় র‌্যালিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইবি শাখা ছাত্রলীগ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শোক র‌্যালি শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। এরপর একে একে শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ, পরিষদ, শাখা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পারিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম ড. আ শ ম শোয়াইব আহমদ।

 

শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন সভাপতিত্বে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী।বিশষে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ও কোষধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

আলোচনাসভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, একটি দেশের প্রধান চালিকা শক্তি বুদ্ধিজীবীরা। যারা সমাজকে দিকনির্দেশনা দেয়, গবেষণার মধ্য দিয়ে সমাজ এবং সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গণ-বুদ্ধিজীবী হিসেবে নির্যাতিত ও বিপর্যস্ত জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়। পাকিস্তান উপনিবেশিক শক্তি যখন দেখল তাদের লেজ গুটিয়ে ফিরে যেতে হবে তখন এই বাঙালী জাতির অগ্রযাত্রাকে অন্তত একশত বছর পিছিয়ে দিল। বুদ্ধিজীবীরা যাতে বিকশিত হতে না পারে তাই নকশা করে প্রথম শ্রেণির প্রথম যারা মেধাবী তাদের হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার ছাত্রদের বলব স্বপ্ন দেখতে। তারা হার্বার্টে পড়বে, এমআইটিতে পড়বে আর মেধা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিবে বিশ্বকে। জন্ম নিবে আরেকটি ফজলুর রহমান, আরেকটি জগদীশ চন্দ্র বসু, আরেকটি জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা যিনি মারা গেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে। তাই আমাদের বুদ্ধিজীবী হত্যার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আর বাঙালী জাতির মেধায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে সে শূন্যতা পূরণ করতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও পাকিস্তানীরা আমাদের যেখানে আঘাত করতে চেয়েছিল সেটা দুই বা তিনগুণ করে পূরণ করার।

উল্লেখ্য,গতকাল শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ