ইরানে রয়েছে শিয়া-সুন্নির অনন্য সম্প্রীতি

প্রকাশিতঃ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, সোম, ১৩ জানুয়ারি ২০

সিরাজুল ইসলাম :

ইরানে যদিও শিয়া মুসলমানের বসবাস প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি তবুও এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অপার নজির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুন্নি মুসলমানের সংখ্যা শতকরা তিন ভাগ বা তার কিছু কম বেশি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো কমতি নেই। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা উস্কানি আজ পর্যন্ত দেখলাম না এই দেশে। এটা ভাবাও যায় না।

শুধু শিয়া-সুন্নি কেন; এ দেশে অন্য যেসব সম্প্রদায়ের লোকজন বাস করেন তারাও এ সম্প্রীতির আওতায় রয়েছেন। ইরানে সামান্য কিছু খ্রিস্টান, ইহুদি, বাহাই-সহ আরো কয়েকটি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানে শতকরা ৯৯.৪ ভাগ মানুষ ইসলামের অনুসারি।

ইরান যেহেতু শিয়া মুসলিম প্রধান দেশ সে কারণে অনেকে জানতে চান ইরানে সুন্নি সম্প্রদায়ের লোকজন কেমন অধিকার ভোগ করেন। রাষ্ট্রীয় কোনো বঞ্চনা আছে কিনা। সুন্নি মুসলমানরা এখানে কতটা স্বাধীনতা ভোগ করেন, তারা নিজের মতো করে কী ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারেন? এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হই প্রায়ই। সে কারণে এবার তেহরানের ডায়েরিতে শিয়া-সুন্নি সম্প্রীতির কিছু নমুনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একান্তভাবেই চেষ্টা করব নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখার; নিজে যা দেখেছি বা দেখছি তাই তুলে ধরব ডায়েরিতে। তবে সঙ্গে কিছু সরকারি তথ্য-উপাত্তও যোগ করার চেষ্টা করব।

অনেকে জানতে চান- ইরানে সুন্নিদের জন্য মসজিদ আছে? তাদের জন্য তথ্য হলো ইরানে অন্তত ১৫,০০০ সুন্নি মসজিদ রয়েছে। ইরানের মসজিদ বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এ তথ্য দিয়েছে। রাজধানী তেহরানে সুন্নি মুসলমানদের জন্য রয়েছে মোট নয়টি মসজিদ। তবে মজার বিষয় হচ্ছে- শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলের মসজিদগুলোতে যেমন সুন্নিরা নিজেদের রীতি অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, তেমনি সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলের মসজিদে শিয়া মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।

ইরানের পথে-ঘাটে চলতে গেলে বিদেশি নাগরিক হিসেবে অনেকেই উৎসাহী হয়ে জানতে চান কোন দেশের নাগরিক? জবাবে বাংলাদেশের কথা বললে অনেকেই চিনতে পারেন আবার অনেকে বুঝতে পারেন না কোথায় এ দেশটি। বুঝিয়ে বললে জানতে চান, বাংলাদেশ কেমন আর ইরান কেমন?

অনেকে জানতে চান কোন সম্প্রদায়ের মানুষ আমি। আমি নিজে সুন্নি মুসলমান; সেই পরিচয় দিই সহজেই। আজ পর্যন্ত একজন ব্যক্তির কাছেও কটু কথা শুনি নি সুন্নি হওয়ার জন্য; কেউ ভ্রু-ও কুচকাননি। কত সহজেই গ্রহণ করেন এসব মানুষ! সুন্নি বলে কখনো একটু বিদ্বেষ দেখিনি। সবাইকে বলতে শুনেছি, শিয়া-সুন্নি বড় কথা নয়; বড় কথা আমরা সবাই মুসলমান।

ইরানে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত বছর আছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কখনো সাম্প্রদায়িক কোনো ধরনের ঝুটঝামেলার মুখে পড়িনি; কাউকে পড়তেও দেখিনি।

শতভাগ সত্য যে, ইরানে এই সমস্যা একেবারে নেই। যতদূর জানি এ সমস্যা পাকিস্তানে প্রকট; ভারতে কেমন ঠিক জানি না। তবে ইরানে এত বেশি শিয়া মুসলমান থাকার পরও শিয়া-সুন্নির কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

অসম্ভব শান্তির একটি দেশ এই ইরান। যেমন তার সামাজিক নিরাপত্তা তেমনি তার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। প্রতি বছর আমার দুই ছেলেকে নিয়ে আরো কয়েকজন শিয়া-সুন্নি সহকর্মী মিলে ঈদের নামাজ জামায়াতে পড়তে যাই। শিয়া নিয়মেই নামায পড়ি; নামাজ হলো কিনা এ নিয়ে আজ পর্যন্ত মনে কখনো কোনো সন্দেহ জাগেনি।

সুন্নি তাড়নায় সুন্নি মসজিদ খুঁজতেও যাইনি।

 

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ