উইঘুর মুসলমান, কুরআন পরিবর্তন এবং মার্কিন-ব্রিটিশ কৌশল

প্রকাশিতঃ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, শনি, ২৮ ডিসেম্বর ১৯

সিরাজুল ইসলাম :

সবার আগে মনে রাখতে হবে- হংকং নিয়ে খেলছে আমেরিকা ও ব্রিটেন….চীন এ মুহূর্তে কাজেকর্মে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ। তার কাছে পুরো ইউরোপ ও আমেরিকা বিরাটভাবে ঋণী। চীনের দেয়া অর্থে তাদের অর্থনীতি এখনো সচল….চীন পুঁজি টান দিলে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব মুখ থুবড়ে পড়বে। যদিও চীন তা করবে না কারণ তাতে তারও ক্ষতি হবে। যাহোক, চীনকে বেকায়দায় ফেলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে আমেরিকা ও পশ্চিমাদের জন্য। চীনকে ঠেকাতে না পারলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের একক নেতার অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না আমেরিকার পক্ষে। মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এটা খুব ভালো করেই বোঝেন।

কুরআন পরিবর্তনের এই খবর সর্বপ্রথম দিয়েছে সম্ভবত ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল। চীনের সঙ্গে অর্থনীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধে যখন আর পারা সম্ভব হচ্ছে না তখন চীনকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা। আমার বিশ্লেষণ মতে- এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উইঘুর মুসলিম ইস্যুকে কেন্দ্র করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করেছে আমেরিকা। এরপর ডেইলি মেইল এই কুরআন পরিবর্তনের খবর দিল। চীনকে একেবারেই মুসলিম বিশ্বে কোণঠাসা করে ফেলার প্রচেষ্টা থেকে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। চীন যেমন একদিকে নিজের অর্থনীতি শক্তিশালী করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি অন্যদিকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে দিন দিন আমেরিকার অবস্থান দুবৃল হচ্ছে এসব জায়গায়। অথচ আমেরিকার বিরাট স্বার্থ রয়েছে এ দুটি অঞ্চলে। পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়াসহ যেসব দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা একতরফা অবৈধ নিষেধজ্ঞা দিয়েছে চীন তা মানতে চায় না। এ বিষয়টিও আমেরিকার কাছে বিরক্তিকর। এছাড়া, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে যা আমেরিকাকে বলা যায় নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে। অতএব, আমেরিকা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠেছে।

আমরা সবাই জানি- সারা বিশ্বের অর্থনীতির একটা বিরাট অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ করে তেল-সম্পদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে এখন সম্ভবত ইরানেই তেল ও গ্যাসের রিজার্ভ বেশি। এই ইরান কিন্তু আমেরিকার বড় শত্রু। সেই ইরানের সঙ্গে চীনের খুবই ঘনিষ্ঠতা। এছাড়া, পাকিস্তানের সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। ফলে উইঘুর মুসলিম এবং কুরআন ইস্যুকে যদি প্রচারনা চালিয়ে কায়দা মতো ছড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে চীনকে পুরো মুসলিম বিশ্বে বেকায়দায় ফেলা যায়। এই বেকায়দায় ফেলার কূট-কৌশল আমেরিকা ও ব্রিটেনের চেয়ে বেশি ভালো আর কে জানে??
আমরা যদি একটি বিষয় খেয়াল করি তাহলে ভুল কম হবার সম্ভাবনা…সেটি হচ্ছে- পশ্চিমা বিশ্বে যখন মাঝেমধ্যেই কুরআন পোড়ায় তখন কিন্তু ডেইলি মেইল বা পশ্চিমা গণমাধ্যম তা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই সাতটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে…এসব দেশ থেকে কোনো নাগরিক আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ট্রাম্প ও পশ্চিমা বিশ্ব মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা আল-আকসা ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সেই আমেরিকার কংগ্রেসে উইঘুর মুসলমানদের রক্ষার (?) জন্য যখন প্রস্তাব পাস করা হয় তখন কী বোঝা যায় না কতটা দরদী তারা মুসলমানদের জন্য?? ফলে পশ্চিমা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়া ঠিক হবে না।

যখন আমেরিকা ও ব্রিটেন মুসলমানদের জন্য কান্না করবে তখন বুঝতে হবে সেখানে তার কোনো ধান্ধা ও স্বার্থ আছে। কুরআন পরিবর্তন ও উইঘুর ইস্যুতে স্বার্থ হলো চীনকে বেকায়দায় ফেলে তার অর্থনীতির গতি শ্লথ করে দেয়া এবং মুসলিম বিশ্বে চীনকে কোণঠাসা করা যাতে চীন কোনোভাবেই আমেরিকা টপকে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি হতে না পারে। পাশাপাশি মুসলমানদের ওপর গত প্রায় দু দশক ধরে আমেরিকা ও ব্রিটেন যে অন্যায়- অবিচার এবং হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা মুসলমানদের মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে পশ্চিমারা। আমাদের সত্য বোঝার চেষ্টা করতে হবে…..কথায় কথায় আর কত পশ্চিমা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হব আমরা?

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ