এইডস আক্রান্তদের মৃত্যুহার শূন্যের কোটায় আনতে চায় বিএসএমএমইউ

প্রকাশিতঃ ৫:০৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ৩ ডিসেম্বর ১৯

দেশে এইচআইভি বা এইডস-এ আক্রান্তদের মৃত্যুহার শূন্যের কোটায় আনতে স্ট্রেনদেনিং অফ পিএমটিসিটি সার্ভিসেস নামে বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। সেবামূলক কার্যক্রমটি জাতীয় এইডস এবং এসটিডি (STD) প্রোগ্রাম ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য “এইডস নির্মূলে প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ”।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশে সরকারী পর্যায়ে প্রথম বারের মতো গত ১৬ মে ২০১৩ইং থেকে এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করেছে এবং এ সেবা অব্যাহত ভাবে চলছে। এই পর্যন্ত মোট ৯১ জন গর্ভবতী মা এই সেবার অধীনে আছেন। ২৯ হাজার ৮ শত ৯২ জান গর্ভবতী মায়েদেরকে পরীক্ষায় মাধ্যমে ৯১ জনের এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া যায়। ৭৫ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মা সন্তান প্রসব করেছেন। তাঁদের মধ্যে দেশে নতুন ৬৯ জন শিশুকে এইচআইভি সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধ বা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাকী শিশুরা পরীক্ষার অপেক্ষায় আছে। এরই ধারাবাহিকতায় এইচআইভিতে আক্রান্ত সকল রোগীদের জন্য অত্র বিশ্ববিদ্যালয় সেবার পরিধি বৃদ্ধি করেছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এইচআইভিতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মানুষকে র‌্যাপিড টেস্টের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি সনাক্ত করা হয় এবং বর্তমানে তা অব্যাহত আছে। ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সরকারী স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিনামুল্যে এআরভি প্রদান ও সকল রোগের যথাযথ চিকিৎসা সেবার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। অত্র বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এআরভি নিচ্ছেন। গত ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ইং পর্যন্ত মোট ১২৫৯ জন রোগী এআরভি নিয়েছেন। তাদের সকল পরীক্ষা ও চিকিৎস সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এই সেবাও অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (ন্যাশনাল এইডস এসটিডি কন্ট্রোল) আমিনুল ইসলাম মিয়া।

আরো উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, অবস এন্ড গাইনী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তৃপ্তি রাণী দাস, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, অধ্যাপক ডা. বেগম নাসরিন, ডা. মেরিনা আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (হাসপাতাল) ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ব্রিগে. জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক। পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মোঃ নাজমুল করিম মানিক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ