হালদা নদী দূষণ
এশিয়ান পেপার মিলের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিতঃ ৩:১৪ অপরাহ্ণ, রবি, ১৮ আগস্ট ১৯

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী দূষণের দায়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকার এশিয়ান পেপার মিলস (প্রা.) লিমিটেড কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।

রোববার পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন অধিদফতরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক।

পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশ গুপ্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আরোপ ও সতর্ক করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর আগে গত ১৪ আগস্ট পরিবেশ অধিদফতরের একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি নাজুক দেখতে পান। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৮ আগস্ট শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার নন্দীরহাটে এশিয়ান পেপার মিলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একুতি ছড়া (মরা খাল)।

তা আবার হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কাটাখালি, খন্দকিয়া, বাথুয়া, মাদারি ও কৃষ্ণখালী খাল ধরে হালদা নদীতে গিয়ে মিশেছে।

কারখানার অপরিশোধিত প্রাণঘাতী বর্জ্য এসব খালের মাধ্যমে মিঠা পানির রুইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য ও নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

১২ বছর ধরে এভাবে দূষিত হচ্ছে হালদা নদী। চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

চলতি বছরের ১০ জুন পরিবেশ অধিদফতর হালদা দূষণের কারণে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল অধিদফতর।

ওই ঘটনার দুই মাসের মাথায় এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে আবার হালদা নদী দূষণের অভিযোগ উঠেছে। ১০ আগস্ট শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই কারখানা থেকে পাশের মরা ছড়ায় ছুটির সুযোগে অপরিশোধিত প্রাণঘাতী তরল বর্জ্য ছাড়ার প্রমাণ পেয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন।

ওই রাতে এবং পরের দিন রোববার দুপুরে ইউএনও’র সঙ্গে হালদা গবেষক দলের সদস্যরা ওই পেপার মিল তথা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওইদিন রাতে এশিয়ান পেপার মিল যে রাতের আঁধারেই অপরিশোধিত প্রাণঘাতী তরল বর্জ্য ছেড়ে দেয় হালদায়, এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে ইউএনও’র সরেজমিন পরিদর্শনে।

দেখা গেছে, ঈদে মানুষের ব্যস্ততার সুযোগে পানি ছেড়ে দিয়েছে এশিয়ান পেপার মিল। সংগ্রহ করা হয় দুই বোতল নমুনা, যা পরিবেশ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের ৩০ মে সত্তার ঘাট এলাকায় হালদা নদীর পাড়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ