কবি নজরুল কলেজের ছাত্রাবাসে চুরি

প্রকাশিতঃ ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ২ জুন ২০

কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি : মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ ঠিক সেই সুযোগে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের শহীদ শামসুল আলম হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৩১ মে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বন্ধ অবস্থায় হলের নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এই ঘটনা ঘটেছে।

শামসুল আলম হলের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান আনুমানিক রাত ৯ টায় এ ঘটনা ঘটে। হলের ২০২ ও ২০৩ নাম্বার রুমের তালা ভেঙে ২টি রুম থেকে মোট ৮টি ফ্যান, ১টি কম্পিউটার, ১টি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ছাত্রদের পোশাক, ব্যবহার সামগ্রী, চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি জিনিস চুরি হয়েছে।

রুম দুটিতে যেসব ছাত্ররা থাকতেন তারা হলেন- ইয়াসিন আরাফাত স্বপন, ইমাম হোসেন ইমন, সানবীর মাহমুদ ফয়সাল, মেহেদী হাসান জয়, শরীফ, হাফিজ, জুয়েল, মেহেদী হাসান ও সিরাজ।

এদের মধ্যে ইয়াসিন আরাফাত স্বপন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদেরকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আমরা সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি। কলেজ প্রশাসন যদি এই বিষয়ে সচেতন থাকতো নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে হয়তো এরকম ঘটনা ঘটতো না। চুরির ঘটনার জন্য কলেজ প্রশাসনকে দায়ী করেন তিনি। স্বপন জানান, হলের সংস্কার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা বারবার কলেজের অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শির্ক্ষার্থী বায়েজিদ সিকদার রাহাদ বলেন, হলের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ কয়েকবার কলেজ প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু প্রশাসনের অবহেলায় আজ এ ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহি কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী। কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাস। এই হলে সিট সংখ্যা ১২০টি। কিন্তু গাদাগাদি করে সেখানে থাকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী।

কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আকবর হুসাইন বলেন, ছাত্রাবাসে চুরি প্রসঙ্গে আমি এখনও কিছুই যানি না। হলের নিরাপত্তার বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যার ভালো বলতে পারবেন। যেহেতু চুরি হয়েছে নিশ্চিত জানতে পারিনি, তাই কোনো মন্তব্য করবো না।

এ ব্যপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

সুত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।