করোনাজনিত কারফিউ ও লকডাউন শিথিল করে যেসব ঘোষণা দিল সৌদি সরকার

প্রকাশিতঃ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, সোম, ১ জুন ২০

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে কারফিউ ও লকডাউন ঘোষণায় সৌদিতে বন্ধ ছিল বেশিরভাগ কার্যক্রম ও জনজীবন। ইতোমধ্যে লকডাউ শিথিল করেছে দেশটি। সেইসঙ্গে, আগামী ২১ জুন থেকে জনজীবন স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানায়।

৩১ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মক্কার মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য সকল মসজিদে স্বাস্থবিধি মেনে জুম্মার নামাজ ও ওয়াক্তিয় নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে সরকারি ও প্রাইভেট অফিস আদালত খোলা থাকবে। এসময়ে আভ্যন্তরীন বিমান চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে আগামী ২১ জুন থেকে সৌদি আরবের সমস্ত এলাকার কারফিউ তুলে দেওয়া হবে এবং মক্কার মসজিদে হারাম বা হারাম শরীফে নামাজের অনুমতি দেওয়া হবে। জনজীবন স্বাভাবিক করা হবে। তার আগে, সামাজিক দূরত্বের দিক নির্দেশগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং ৫০ জনের অধিক লোকের জন সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালত পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা দোকানে এবং মলের পাশাপাশি কয়েকটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ আগের মতোই পরিচালিত হবে। এসময়ে ক্যাফেগুলোকে আরও একবার পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে যে সমস্ত অফিস ও কার্যক্রমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না সেগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। যেমন – বিউটি পার্লার, সেলুন দোকান, স্পোর্টস এবং স্বাস্থ্য ক্লাবগুলো, বিনোদন কেন্দ্র এবং সিনেমার হল।

এছাড়া, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওমরাহ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে। আর নতুন নিয়মগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আগামীতে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এর আগে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ তৌফিক আল-রাবিয়া বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে না যাচ্ছি ততক্ষণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, করো’না ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে সৌদি সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ভাইরাসটির বিস্তার রোধে সহায়তা করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয় পরবর্তী ধাপের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যা দুটি প্রধান কারণের উপর নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে মোকাবেলা করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষার সম্প্রসারণ করা।

এদিকে, সোমবার (২৫ মে) সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তার ঈদ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দেশটির নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহ চাইলে এই খারাপ পরিস্থিতি কেটে যাবে এবং আল্লাহর রহমতে আমরা ভালোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে মোট করো’না আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হজার ১৮৫ জন। দেশটিতে মোট মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪১ জন। সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৫৫৩ জন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।