করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৬৬৫

প্রকাশিতঃ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, রবি, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পোর্যন্ত এক হাজার ৬৬৫ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৪২ জনের। এ ছাড়া শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৮ হাজার।

এর মধ্যে একদিনেই আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৪৩ জন মানুষ। খবর আলজাজিরার।

এদিকে দিন যত যাচ্ছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চলছে। হুবেইপ্রদেশে এর প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাইরাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম সরবরাহ করে কূল পাচ্ছেন না। শনিবার নতুন করে এই অবস্থাকে ভয়াবহ ঘোষণা করেছেন চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের কর্তারা।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। আর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিনই মৃত্যু হচ্ছে শতাধিক মানুষের।

এরই মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও রোগের বিস্তার রোধে নানা কর্মসূচি নিয়েছে চীন। আর চিকিৎসা সহায়তা দিতে হুবেইপ্রদেশে বাড়তি মিলিটারি মেডিকেল টিম পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।

প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ছুটি কাটিয়ে যারা চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ফিরেছেন, তাদের ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে (আলাদা থাকা) কাটানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশের অন্যথা করলে শাস্তির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন অমান্যকারীরা।

ছুটি কাটিয়ে বেইজিংয়ে ফিরে আসা বাসিন্দাদের ‘স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কিংবা কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্যুগুলোতে’ যেতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে চীন ছাড়াও অন্তত ৩০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্সে গত শনিবার এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই চীনা নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এশিয়ার বাইরে এই প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলো। ৮০ বছর বয়সী চীনা নাগরিক গত ১৬ জানুয়ারি ফ্রান্সে যান এবং ২৫ জানুয়ারি তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

এদিকে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় সবশেষ যুক্ত হয়েছে মিসরের নাম। ফলে আফ্রিকা মহাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হলো।

এরই মধ্যে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে ধস নেমেছে এশিয়ার সব ধরনের পর্যটন খাতে, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রমোদতরীর ভ্রমণ।

পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকতে আর বেশি দেরি নেই। তাই সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার একটি মসজিদে পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ করা হলেও প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নির্দেশে তা তুলে নেয়া হয়। সেখানে প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে সবাইকে রক্ষা করতে বিশেষ মোনাজাত হয়েছে।

গির্জায় যাওয়ার দিনও খুব একটা ভিড় হয়নি ফিলিপাইনের একটি সুপরিচিত ক্যাথলিক চার্চে। যারা এসেছিলেন, তারা সবাই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন।

হংকংয়ে আগামী দুই সপ্তাহ চার্চে জমায়েত স্থগিত করা হয়েছে। মাস্ক পরে এ ঘোষণা দেন কার্ডিনাল জন টং।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ