করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে রুপ নিচ্ছে

প্রকাশিতঃ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের উহান থেকে ছড়ানো নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত এর রুপ ভয়ানক বৈশ্বিক মহামারী রুপ নিচ্ছে। এখন পোর্যন্ত এ ভাইরাসের প্রভাবে চীনেই ২ হাজার ৭৪৪ জন মারা গেছেন। ইদানিং ইরানে এর প্রভাবটা একটু বেশিই লক্ষণীয়।

ব্রাজিল, পাকিস্তান, নরওয়ে, গ্রিস, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ মেসেডোনিয়া ও আলজেরিয়ায় নতুন করে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। উত্তর ইতালি থেকে ব্রাজিলে ফেরা একজনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্তের পর একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশে ভাইরাসটির উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ দিন দেশটিতে ৫০৫ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিভিন্ন দেশ।

করোনা আতঙ্কে ওমরা যাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের।

বুধবার চীনে নতুন করে ৪৩৩ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন। এ দিন আক্রান্তেন সংখ্যা আগের দিনের ৪০৬ জনের তুলনায় একটু বেড়েছে। এতে চীনের মূল ভূখণ্ডে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার দেশটিতে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি ২৮ জানুয়ারির পর চীনে করোনাভাইরাসে একদিনে সবচেয়ে কম মৃত্যুর সংখ্যা এটি। এর আগের দিন দেশটিতে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এসব নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উৎস হুবেই প্রদেশে এ দিন নতুন করে ৪০৯ জন আক্রান্ত ও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে চীনের রাজধানী বেইজিং, হেইলং জিয়াং ও হেনান প্রদেশে একজন করে মৃত্যু হয়েছে। হুবেইয়ের বাইরে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন।

চীনের বাইরে প্রায় ৫০টি দেশে করোনা ছড়িয়েছে এবং এসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা ৫৮ তে পৌঁছেছে। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা এখন দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৬৬ জন আক্রান্ত ও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি চীনকে ছাড়িয়ে যায়। এ দিন এখানে ৫০৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক সদস্যও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এশিয়ার বাইরে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ইতালিতে। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অন্তত ৪০০। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ ইতালি এক লাখ লোককে কোয়ারেন্টিন করেছে বলে জানা গেছে।

দেশটিতে ভাইরাস আক্রান্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানে তুলনামূলক কম লোক আক্রান্ত হলেও চীনের পর এ দেশটিতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ১৩৯ জন ছিল এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এর পাশাপাশি জাপানে আটজন, হংকং ও ফ্রান্সে দু’জন করে এবং তাইওয়ানে একজন ও ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনাভাইরাস রোগীরা লক্ষণের কথা জানালেই পাবেন ১৪শ’ ডলার : কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিললে তাকে ১০ হাজার ইউয়ান পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের একটি শহরের কর্তৃপক্ষ। হুবেই প্রদেশের ১০ লাখ বাসিন্দা অধ্যুষিত কিয়ানজিয়াং শহরটি নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের উৎসস্থল উহান শহর থেকে দেড়শ’ কিলোমিটার দূরে।

আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের পৃথক রাখা ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করতেই কিয়ানজিয়াং শহর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের উপসর্গের কথা জানাতে উৎসাহিত করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভাইরাসটির সংক্রমণ মোকাবেলার দায়িত্বে থাকা শহরটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাদের নোটিশে জানিয়েছে, স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজের দেহে কভিড-১৯-এর উপসর্গের কথা জানানো বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলবে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় এক হাজার ৪২৬ ডলার) দেয়া হবে। তবে এ ঘোষণার আগেই যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে তারা এ পুরস্কারের আওতায় পড়বেন না।

বাসিন্দাদের কাউকে যদি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবেই ‘আক্রান্ত নন’ বলে ঘোষণা না করা হয়, তবে তাকেও এক হাজার ইউয়ান দেয়া হবে। আর যাদের ‘সন্দেহজনক’ বলে ঘোষণা করা হবে তারা পাবেন দুই হাজার ইউয়ান। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে লোকজনকে উৎসাহিত করতে চীনের আরও বেশ কয়েকটি শহর কর্তৃপক্ষও নাগরিকদের নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়ার নিয়ম চালু করেছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা : করোনাভাইরাসের কারণে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু আতঙ্কেই নন তারা চাকরিও হারাচ্ছেন। এ মুহূর্তে ২ লাখ ৬০ হাজারের মতো বাংলাদেশি ইতালিতে রয়েছেন।

দেশটির বেশির ভাগ শহরে জন কোলাহল থেমে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে। সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, নাইট ক্লাবগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ। সিনেমা হল, জাদুঘরও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চরম সংকটে পড়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। রেস্টুরেন্টের বেশির ভাগই চীনা মালিকানায়।

এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকরি হারাচ্ছেন। এমনই একজন প্রিন্স মাহমুদ। তার বাড়ি মাদারীপুরে। ১০ বছর ধরে ইতালিতে রয়েছেন। দু’দিন আগে তার মালিক জানিয়ে দিয়েছেন আপাতত চাকরি নেই। আরেক বাংলাদেশি আইরিন খান। ১৫ বছর ধরে সেখানে রয়েছেন। তার নিজের ব্যবসা রয়েছে। তারমতে, বাংলাদেশিরা এতটাই আতঙ্কে- তারা কি করবেন দিশা পাচ্ছেন না।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ