করোনার প্রভাবে দূষণ কমেছে ঢাকার!

প্রকাশিতঃ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ৩১ মার্চ ২০

করোনায় সৃষ্ট সংকটে ঘরবন্দি মানুষ। আর প্রাণ পেয়েছে দেশের প্রকৃতি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, যে নগর নানামাত্রিক দূষণে নিজেই নিজের তুলনা, তারও রূপ পাল্টে গেছে। সীমিত যান ও জন চলাচল, স্থগিত হওয়া সবরকম উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, বন্ধ ইটভাটা, সব মিলিয়ে তিলোত্তমা ঢাকা এখন নিষ্কলুষই বলা চলে।

গাছের পাতায় রোদের খেলা নিত্যকালের। তবে আন্দোলিত হওয়ার দৃশ্য, তাও আবার খোদ ঢাকায়, বহুবছর চোখে পড়েনি। পাতাগুলোও কতো সজীব, সতেজ, উজ্জ্বল।

হিসেবটা খুব সরল। ধূলা-ধোঁয়া এসব নেই। যতোরকম খোড়াখুড়ি, এটা সেটা বসানো, সব বন্ধ। গাড়ি চললেও এতই কম যে, গোনা যায়। রাজপথ বা মূল সড়ক যাই বলা হোক, সেখানে পাখিরা নেমে এসে খেলা করার দৃশ্য সবশেষ কবে দেখা গেছে, তা মনে করতে হবে নিশ্চিত।

এ সবই দূষণ কম হবার ফল। করোনা পরিস্থিতি বহুদিক দিয়ে ক্ষতি করলেও প্রকৃতিকে দিয়েছে নিস্তার। নান্দনিকতা ছেড়ে জটিল অংকের হিসাবে আসলে, সাধারণ ছুটির শুরুর দিন থেকে ঢাকার বায়ুমান ক্রমশ সন্তোষজনক।

৩০শে মার্চ বায়ুর মান ১১৫, যা অসুস্থদের জন্য অস্বাস্থ্যকর হলেও সুস্থ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ের এবং ২৫শে মার্চ থেকে এ মাত্রা নিম্নগামী। একইসঙ্গে ২৫শে মার্চ থেকে ঢাকায় বস্তুকণার পরিমাণ কমছে। ৩০শে মার্চ এ মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৪১ মিলিগ্রাম অথচ বাংলাদেশের জন্য বস্তুকণার গ্রহণীয় মান ৬৫।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিজ্ঞানী ডক্টর আতিক রহমান বলেন, আমাদের দূষণের সঙ্গে সঙ্গে বালুকণার পরিমানও কমে গেছে। এছাড়া যেসব উপাদান আমাদের জন্য ক্ষতিকর সেগুলোও কমে গেছে। অর্থাৎ যারা বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে তাদের জন্য পরিবেশ খুবই সস্তির।

অর্থাৎ মানুষের বাসায় থাকার ব্যাপ্তি ও সতর্কতা যতো বাড়বে, ততোই মানুষ নিরাপদে থাকবে। প্রকৃতিও থাকবে নির্ভার।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ