করোনা ভাইরাস নিয়ে এক ইতালিয়ানের হৃদয়স্পর্শী লেখা

প্রকাশিতঃ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, শনি, ১৪ মার্চ ২০

আমি করোনাভাইরাস ক্রাইসিসের কেন্দ্রবিন্দু ইতালির বেরগামো থেকে লিখছি। এই ক্রাইসিসের তীব্রতা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম তুলে ধরতে পারছেনা। আমি এই লেখা আপনার জন্য লিখছি। শুধু সরকার, স্কুল বা মেয়র নয়, প্রত্যেকটা নাগরিকের হাতে সুযোগ আছে এই মুহুর্তে কাজ করার, যাতে আপনার নিজের দেশের পরিস্থিতি ইতালির মত না হয়। এই ভাইরাসকে থামানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে সংক্রমণ কমানো। আর সংক্রমণ কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের আচারআচরণ আজ থেকেই পাল্টিয়ে ফেলা।

আপনি যদি ইউরোপ বা আমেরিকায় থেকে থাকেন তাহলে আজ আমরা ইতালিতে যে অবস্থায় আছি, সেই অবস্থা যেতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগবে আপনার।

আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। ‘এইটা তো শুধুমাত্র ঠাণ্ডা সর্দি লাগা। যেসব বয়স্ক মানুষ আগে থেকেই অসুস্থ তারাই সমস্যায় পড়বে।’

করোনাভাইরাস এর কারণে ইতালির এই বাজে অবস্থায় আসার ২টা কারণ আছে।


প্রথমত, এই সর্দি এমন ভয়াবহ যে মানুষ এতটাই অসুস্থ হয়ে যেতে পারে যে তাদের আইসিইউতে থাকতে হয় সপ্তাহ ধরে।

দ্বিতীয়ত, এই ভাইরাস খুব দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে যায়।

অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পেতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং অনেকেই আছে যাদের কোন লক্ষণই প্রকাশ পায়নি।

গতরাতে যখন প্রধানমন্ত্রী কন্তে ঘোষণা করলেন যে ৬ কোটি মানুষকে লকডাউনে (গৃহবন্দী) যেতে হবে, যে কথাটা আমাকে সবচাইতে বেশী আঘাত করেছে সেটা হচ্ছে ‘আমাদের হাতে আর সময় নেই’।

পরিষ্কার করে বলতে গেলে, এটাই শেষ সুযোগ। উনি যেটা বুঝিয়েছেন, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যদি কমা শুরু না করে এখনি, তাহলে ইতালি ধ্বংস হয়ে যাবে।

কিন্তু কেন?

আজকে আমাদের যথেষ্ট আইসিইউ আছে, বেশীই আছে। হাসপাতালের ভেতরের হলওয়েতেও আইসিইউ বসানো হয়েছে। যদি আক্রান্তের সংখ্যা না কমে, সংক্রমণ বাড়ার হার আমাদের বলছে যে দু সপ্তাহের মধ্যে হাজারের উপর মানুষ আক্রান্ত হবে, যাদের আইসিইউ লাগবে এবং আমাদের কাছে গুটিকয়েক মাত্র আইসিউ থাকবে তখন।

সোমবারে একজন ডাক্তার লিখেছেন, আমাদের পরিস্থিতি এখন যুদ্ধের আকার ধারণ করেছে। অনেক রোগী, আসলে আমাদের নির্ধারণ করতে হবে কাকে বাঁচাবো, আর কাকে মৃত্যুর জন্য ফেলে রাখা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। অবস্থা শুধুমাত্র খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
আমাদের নির্দিস্ট সংখ্যক ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আছেন যারা নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা তবুও দিনের পর দিন টানা কাজ করে যাচ্ছেন। যদি তাদের পক্ষে আর সেবা দেয়া সম্ভব না হয় এক পর্যায়ে, তখন কি হবে?

সবশেষে তারা, যারা বলছেন যে এটা শুধু বয়স্ক মানুষদেরই আক্রান্ত করে। কালকে থেকে হাসপাতালগুলিতে অনেক তরুণ রোগী আসছে, যাদের বয়স এমনকি ১৮, ৪০, ৪৫।

আপনার দেশে এটা ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে আপনার হাতে একটাই সুযোগ আছে। সব অফিস এর কাজ বাসা থেকে করা শুরু করুন আজ থেকে। পার্টি, লোকসমাগম বন্ধ করুন, যত পারুন ঘরে থাকুন। আপনার যদি জ্বর আসে, যে কোন জ্বর, ঘরে থাকুন। স্কুল বন্ধের জন্য চেষ্টা করুন, এখনি। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আপনার পক্ষে যা সম্ভব তাই করুন, কারণ এটা আপনার এলাকায় ছড়াচ্ছে। রোগ প্রকাশ পেতে দু সপ্তাহ সময় লাগে এবং আপনি যদি এখন থেকে এগুলি করা শুরু করেন- তাহলে আপনি হাসপাতালের সময় বাঁচাতে পারবেন।

এবং যারা বলছেন যে- ‘স্কুল এবং অন্যান্য জিনিস বন্ধ করা সম্ভব না’ ইতালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার এক সপ্তাহ আগে ও কেউ ভাবতে পারতো না যে আসলেই অবস্তা এতটা খারাপ হতে পারে।
খুব শীঘ্রই আপনার হাতে কোন উপায় থাকবেনা, সুতরাং যা পারেন এখনি করতে হবে।
দয়া করে শেয়ার করুন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ