করোনা সঙ্কট : গুরুত্ব উপলব্ধি করে দয়া করে ঘরে থাকুন

প্রকাশিতঃ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৩ এপ্রিল ২০

ডা. শহীদুল ইসলাম :

অ্যামেরিকা, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি যেসব দেশে এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেসব দেশে প্রথম রোগী সনাক্তের ৪৫ থেকে ৫৫ দিন পর রোগ এমন ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। আবারও বলছি ৪৫ থেকে ৫৫ দিন পর।

আমাদের এখনো চার সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়নি। তাই টোটাল আক্রান্ত রোগী ৬১, তার মাঝে ২৬ জন সুস্থ এবং ৬ জনের মৃত্যুর সংবাদে যাদের শরীর ও মনে ঢিলেমি এসেছে, ফাঁকফোকরে লাগুক বা না লাগুক বাইরে বের হচ্ছেন, তারা নিজের জন্য, নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য, প্রকারান্তরে পুরো জাতির জন্য বিপদ ডেকে আনতে যাচ্ছেন না এমনটি বলার সুযোগ নেই।

সরকার যখন সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করেছেন, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী নামিয়েছেন, নিম্নবিত্তদের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করছেন — এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে দয়া করে ঘরে থাকুন। নইলে বিপদ আসতে কতক্ষণ? সময় কি পেরিয়ে গেছে? মোটেই নয়। বিপদের আসল সময়টাই সামনে। সেটা বুঝতে পেরে আমরা যেন সবাই আইসোলেশন বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখি। কোনোভাবেই ঢিলেমি দেবার সুযোগ নেই।

মিডিয়ায় প্রচারিত রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিশ্চয়ই জেনে গেছেন এতদিনে?
পুতিনের একটাই নির্দেশ, হয় ১৫ দিন ঘরে থাকো অথবা ৫ বছরের জেল।
আর উত্তর কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত অবস্থা ভালো। সেখানে করোনা আক্রান্ত প্রথম ৫ জন রোগীকে গুলি করে মেরে ফেলার সংবাদ এসেছে।

আমাদের কিছু আহাম্মক জনতার অসচেতনতার জন্য আপাততঃ নিয়ন্ত্রিত করোনা নামক ঘাতক ব্যাধি যেন এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ছড়িয়ে না যায়। সচেতন ব্যক্তি মাত্রই লেখা বা যে কোনো ভাবে জনমত তৈরি করে এদের ঘরে থাকতে সাহায্য করুন। এরকম পরিস্থিতিতে সবাইকে কিছু না কিছু ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে। তা মেনে নেয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে।

নিশ্চয়ই আপনি চান যে একদিন করোনামুক্ত এই দেশে পরিবারের সকল সদস্য সহকারে সবান্ধবে হাসিমুখে দেখা হোক? তাহলে আর ঢিলেমি নয়,অসতর্কতা নয়।
নিয়ম কানুন মেনে চলে আমরাই করবো করোনা জয়!

লেখক : সাবেক সিভিল সার্জন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ