কাগুজে নোট থেকে যেভাবে সরে এলো ইরানিরা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ১৮ মার্চ ২০

আশরাফুর রহমান আকন্দ, তেহরান থেকে।

বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাসের জীবাণু ব্যাংক নোটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এজন্য ব্যাংক নোট এড়িয়ে স্পর্শবিহীন মাধ্যম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। স্পর্শবিহীন লেনদেন বা প্রযুক্তি বলতে, ব্যাংক নোট ছাড়া অন্য মাধ্যম যেমন এটিএম কার্ড, বিভিন্ন পেমেন্ট অ্যাপ অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেনের কথা বোঝানো হয়েছে।

কাগুজে নোটে কয়েকদিন পর্যন্ত ভাইরাস টিকে থাকতে পারার আশঙ্কা প্রকাশ করে নগদ লেনদেনের পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বব্যাংকের এ পরামর্শের পর কাগজের নোট হাতবদলের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকাসহ অনেকগুলো দেশে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৬ মার্চ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাংক নোট কোয়ারেন্টাইন করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কিছু ব্যাংক নোট পুড়িয়েও ফেলা হয়।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে উহান থেকে কাগুজে নোট আর ধাতব মুদ্রা তুলে নেয় চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অতিবেগুনী রশ্মি এবং উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করে নোটগুলো জীবাণুমুক্ত করা হয়। অঞ্চলভেদে ভাইরাস প্রকোপ বুঝে সাত থেকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে আবার নোটগুলো বাজারে ছেড়েছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এবার আসি ইরান প্রসঙ্গে। ইরানে গত কয়েক বছর ধরেই কাগুজে নোটের ব্যবহার কমে গেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ইরানিরা। ইরানে করোনাভাইরাস আসার পর ব্যাংকগুলোতে কাগুজে নোটের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সুপার মার্কেটগুলোও নগদ টাকা নিচ্ছে না।

কিন্তু ইরানিরা কিভাবে নগদ টাকা লেনদেন থেকে সরে এলো- সে সম্পর্কে আমার একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করছি।

তেহরানের মিল্লাত ব্যাংকে গিয়েছিলাম একটা জরুরি কাজে। ঢুকতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হলাম। ব্যাংকের এক কর্মচারি বললেন ‘লাইনে দাঁড়ান’। বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। দেখলাম একজন একজন করে ব্যাংকে ঢুকছেন। করোনা যাতে না ছড়াতে পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা।

একই ব্যাংকে তিনদিন আগেও গিয়েছিলাম কিন্তু তখন কোনো লাইন দেখি নি। তবে ব্যাংকের কাউন্টারটাগুলো দেখেছি পলিথিনে ঢাকা। কাউন্টারের সামনে গ্রাহকদের সিটগুলো antibacterial দিয়ে spray করা। কাউন্টারে সবার মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস। গ্রাহকদের অধিকাংশই মাস্ক পরা।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইরানের কয়েকজন ব্যাংক কর্মচারি মারা যাওয়ার পর থেকে চলছে বাড়তি সতর্কতা। ব্যাংকগুলো কোনো নগদ টাকা লেনদেন করছে না।

ইরানে আসলে নগদ লেনদেনের তেমন প্রয়োজনও পড়ে না। শুধু ট্যাক্সি ভাড়া দিতে গেলে মাঝেমধ্যে লাগে। তবে কেউ ইচ্ছে করলে মোবাইল অ্যাপ থেকে পরিশোধ করতে পারেন। স্মার্টফোনের অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিগুলোতেও নগদ টাকার দরকার পড়ে না। অনলাইনেই ভাড়া দেওয়া যায়।

আর সেলুন, সবজি দোকান, রুটির দোকান থেকে শুরু করে সবখানেই লেনদেন হয় এটিএম কার্ডে। বাসা থেকে বেরুলেই এটিএম বুথ পাওয়া যায়। অনলাইনে কেনাকাটা কিংবা টেলিফোনে কিছুর অর্ডার দিলে দোকান থেকে পোর্টেবল এটিএম মেশিন নিয়ে হাজির হয় বাসায়। এ কারণে ইরানে নগদ টাকার লেনদেন বন্ধের পথে। ফলে নোটের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ