কাদিয়ানীদের সম্পর্কে মুসলিম হিসেবে যা জানা জরুরি

প্রকাশিতঃ ৪:৩১ অপরাহ্ণ, সোম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০

মাওলানা আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ :

কাদিয়ানীদের নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একজন মুসলিম হিসেবে যা যা জানা দরকার সংক্ষেপে এভাবে লিস্ট করা যায় –

১) কাদিয়ানী কারা?

এরা মির্যা গোলাম নামের এক লোকের অনুসারী। ১৮৩৫ সালে ভারতের অমৃতসারের কাদিয়ানে তার জন্ম। এ লোক প্রথমে নিজেকে ইসলামের একজন মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) দাবি করে। তারপর দাবি করে সে আল-মাহদী, তারপর দাবি করে সে ঈসা আলাইহিস সালাম। এবং এখন তারা বলে “হাযরাত মোহাম্মাদ মোস্তাফা সা.এর ঘোষিত হাদিস অনুযায়ী তিনিই মাহদি, তার মাঝে সব গুনাগুন পাওয়া গেছে, এবং তিনি নতুন কোনো নাবুয়াত দাবী করেননি, বরং তিনিই প্রতিশ্রুত ঈসা মাসীহ” এবং শেষমেষ সে নিজেকে একজন নবী দাবি করে। সহজ ভাষায় মির্যা গোলাম এক ভন্ড নবী। আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর এবং তার অনুসারীদের ওপর।

২) কাদিয়ানীরা কী বিশ্বাস করে?

তারা বিশ্বাস করে: মির্যা গোলাম নবী। তার কাছে জিব্রিল আলাইহিস সালাম ওয়াহি নিয়ে আসতেন। মির্যার সহযোগীরা মর্যাদার দিকে দিয়ে সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর মতো। এরা বিশ্বাস করে, যারা মির্যা গোলামকে নবী হিসেবে মানে না, তারা সবাই কাফির। বর্তমান সময়ে কোন জিহাদ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী, এটা তারা মানে না।

৩) ‘কই তারা তো বলে মির্যা গোলামকে তারা নবী মনে করে না, আল্লাহর ওলি মনে করে’?

এটা তাদের একটা স্ট্র্যাটিজি। এরা জানে যে সরাসরি এ কথা বললে কেউ তাদের কথা বিশ্বাস করবে না। তাই তারা প্রথমে আপনাকে এ ধরনের কথাবার্তা বলবে। তারপর আস্তে আস্তে নিজেদের আক্বিদা পুশ করবে। মিথ্যা, প্রতারণা এবং ধীরে ধীরে ইনফিলট্রেশান, শুরু থেকেই এদের মেথডোলজি ছিল। বর্তমানে এরা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের বিকৃত অনুবাদ ব্যবহার করে নিজেদের কুফর বিশ্বাসকে বৈধতা দিতে চায়।

৪) কাদিয়ানীরা কি মুসলিম?

কাদিয়ানীরা কাফির-যিন্দিক। কোন সন্দেহ ছাড়াই এরা কাফির। যেরকম ভন্ড নবী মুসাইলামা আল-কাযযাব এর অনুসারীরা কাফির। যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে শেষ নবী মনে করে না, সে অবশ্যই কাফির। কাদিয়ানীরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত কোন ধারা না। কাদিয়ানীদের সাথে আমাদের মতপার্থক্য কোন ফিকহি মাসআলা, কিংবা আক্বিদাহর সূক্ষ ইস্যু নিয়ে না। তাদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব সেই মানুষকে নিয়ে সমগ্র দুনিয়ার চাইতে যিনি আমাদের কাছে প্রিয় – যিনি আমাদের তাওহিদ শিখিয়েছেন, যিনি আমাদের জন্য নিজের রক্ত ঝড়িয়েছেন। কাদিয়ানি কাফিরদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব আমাদের প্রিয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইস্যু কোন ছোট ইস্যু না।

৫) এরা উৎপত্তি কিভাবে হয় আর এদের এতো প্রভাব কেন?

কাদিয়ানীদের উত্থানের পেছনে ব্রিটিশ কলোনিয়ালদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। মির্যা গোলাম এক অর্থে ব্রিটিশদের এজেন্ট ছিল, এবং তার প্রচারিত প্রধান শিক্ষাগুলর একটা ছিল ‘বর্তমান সময়ে কোন জিহাদ নেই। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যাবে না।’ শুরু থেকেই ব্রিটিশরা কাদিয়ানীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। পরবর্তীতে অ্যামেরিকানরাও এ লিস্টে যুক্ত হয়েছে। আজো এই বাদামী চামড়ার কাফিররা সাদা চামড়ার কাফিরদের অত্যন্ত প্রিয়। এদের পক্ষে ব্রিটেন-অ্যামেরিকা থেকে নিয়মিত লবিয়িং করা হয়। আর এদের বাংলাদেশে শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে। প্রাণ-আরএফএল কোম্পানি যেমন কাদিয়ানীদের কোম্পানি।

৬) এদেরকে কাদিয়ানী বলা উচিৎ নাকি আহমাদী?

তাদের কাদিয়ানী বলা উচিৎ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি নাম হল আহমাদ। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অসম্মান করে, তাঁর আনা ওয়াহিকে অবিশ্বাস করে, তাঁর আনা দ্বীনকে পরিবর্তন করতে চায় তাদেরকে তাঁরই সম্মানিত নামে ডাকা কোন ভাবেই সমীচীন না।

৭) এদের ব্যাপারে আমাদের মনোভাব কী হওয়া উচিৎ?

এরা কাফিরদের মধ্যেও নিকৃষ্ট ধরণের কাফির। কারণ এরা মুসলিম হবার দাবি করে ইসলামকে বিকৃত করে, এবং ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু ক্রুসেইডারদের পক্ষ হয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করে। সব অর্থেই এরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফির। আমাদের মনোভাব এ বাস্তবতার আলোকেই ঠিক করতে হবে।

লেখক : ইমাম ও খতিব,দারুস-সালাম, জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ