কুবির তিন শিক্ষককে শোকজ!

প্রকাশিতঃ ১:২১ পূর্বাহ্ণ, রবি, ৬ অক্টোবর ১৯

কুবি প্রতিনিধি: দোকান থেকে খাতা কিনে পরীক্ষা নেয়ার কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নোটিশ পাওয়া তিন শিক্ষক হলেন, মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. তোফায়েল আহমেদ ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের কাছে আলাদা আলাদা চিঠির মাধ্যমে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয় বলে জানা যায়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠিগুলোর তারিখ ২ অক্টোবর উল্লেখ থাকলেও তাদের কাছে বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) বিকেলে চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়। চিঠিগুলোতে স্ব-স্ব ব্যক্তিদের প্রশাসন থেকে নির্দেশক্রমে জরুরী ভিত্তিতে এর কারণ লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়া চিঠিগুলো ব্যক্তিগত নথিতে অন্তর্ভুক্ত স্ব-স্ব অনুষদের ডিন ও উপাচার্যকে অবগতির জন্যও অনুলিপি পাঠানো হয়।

মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের নিকট প্রেরিত চিঠিতে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বলা হয়, গত ২৫ তারিখ মার্কেটিং বিভাগে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পর্যাপ্ত খাতা থাকা সত্ত্বেও কেন একটি ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা দোকান থেকে কেনা কাগজে দিতে হয়েছে এ বিষয়ে নির্দেশক্রমে জরুরী ভিত্তিতে এর কারণ লিখিতভাবে তাদের জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

বেশ কয়েকদিন ধরেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষার উত্তরপত্র সংকট রয়েছে। তাই বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজন মতো চাহিদা দিলেও তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাতা পাওয়া যেত না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের একটি ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা নিতে যায় বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার সময় বিভাগে উত্তরপত্র না থাকায় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা দোকান থেকে কাগজ কিনে ঐ পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। এছাড়া ঐ দিনই মিডটার্মের উত্তরপত্র না থাকায় আইসিটি বিভাগের একটি ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

এই সংকট নিয়ে জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাদের শোকজ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পর্যাপ্ত খাতা রয়েছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, তিন মাস পার হয়ে গেলেও এখনও উত্তরপত্র কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। টেন্ডার আহবান করা হলেও সেখানে মাত্র একটি কোম্পানি অংশগ্রহণ করায় এবং দাম বেশি হওয়ায় পুনরায় টেন্ডার আহবান করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। আর এ কারণেই বিভিন্ন বিভাগে খাতা সংকট দেখা যায়। বর্তমানে প্রশাসন ২৫ হাজার টাকা করে চারধাপে খাতা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন,‘ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ না করে পরীক্ষা নেওয়া যদি অপরাধ হয় এবং এ জন্য যে শোকজ দেওয়া হয়েছে সেটা খুবই হতাশাজনক। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের শুরুতে যেখানে সরকার শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেয় সেখানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অর্থ বছরের চার মাস পার হলেও পরীক্ষার উত্তরপত্র সংকট এটাই তো একটা বিস্ময়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পর্যাপ্ত খাতা থাকা সত্ত্বেও তারা কেন দোকান থেকে ক্রয়কৃত কাগজে পরীক্ষা নিয়েছে এবং কেন একটি পরীক্ষা স্থগিত করেছে সেই কারণ জানার জন্যই তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটা শোকজ নয়। এ ঘটনাটির জন্য মূল কারণ কী সেটা জানার জন্যই তাদের বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

সময় জার্নাল/ মাহমুদুল হাসান

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ