‘চলন্ত রাস্তা’য় খরচ কম, কমাবে ধূলিদূষণ

প্রকাশিতঃ ৭:৫২ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৮ নভেম্বর ১৯

সময় জার্নাল ডেস্ক: রাজধানীর কাঁঠালবাগান ঢাল থেকে বাংলামোটর এসে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন এক গৃহিণী। তিনি ফার্মগেট যাবেন দরকারি জিনিস কিনতে। কিন্তু পথে নেমে দেখেন প্রচণ্ড যানজট, ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সব গাড়ি। তখন তিনি মূল সড়কের পাশেই অপেক্ষাকৃত উঁচু আরেকটি রাস্তায় উঠে পড়েন। সেই রাস্তারই এক পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে রাখা চেয়ারের একটিতে বসে পড়েন।

এরপর গাড়ি নয় রাস্তাটিই চলতে শুরু করে। পনের মিনিটের মধ্যে তাকে ফার্মগেট পৌঁছে দেয় চলন্ত সড়কটি। এটি কোনো সাইন্স ফিকশন সিনেমার গল্প নয়। রাজধানীতে যানজট নিরসনে বাস্তবে এ ধরনের ‘চলন্ত রাস্তা’ নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

ভাবনাটি এসেছে অবশ্য একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের মাথা থেকেই। তবে ওই পরিচালকের এই উদ্ভাবনী ভাবনাটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে।

“যানজট ও যানবাহনজনিত বায়ুদূষণ কমিয়ে দেবে এ ‘চলন্ত রাস্তা’। এ ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে সম্ভাবনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে”- বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও উদ্ভাবক (চলন্ত রাস্তা) আবু সাইয়ীদ।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে সাইনপুকুর অ্যাপার্টমেন্টে (মিরপুর-১) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আবু সাইয়ীদ বলেন, পাঁচটি বিষয় মাথায় রেখে চলন্ত রাস্তা ধারণাটি উপস্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলো- শহর ট্রাফিক জ্যামমুক্ত হবে, এই পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি খরচ কম হবে, পরিবহন খাতে বার্ষিক ব্যয় কমে আসবে, বাস্তবায়ন খরচ কম এবং সাধারণ কারিগরি দক্ষতায় বাস্তবায়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, চলন্ত রাস্তা নিয়ে প্রথম কনসেপ্ট উপস্থাপন করা হয় ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে আমলে নেওয়া হয় ও বিভিন্ন দপ্তরে বৈঠক হয়। এই প্রকল্পের অগ্রগতি রয়েছে। কিন্তু যে ধরনের অগ্রগতি হওয়া উচিত ছিল, তেমনটা এখনো হয়নি। আমি বিভিন্ন প্রকল্পে লক্ষ্য করে দেখেছি, অনেক ভুলভাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার ফ্লাইওভারের কথা উল্লেখ করে আবু সাইয়ীদ বলেন, সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে ঢাকার ফ্লাইওভারগুলো ঠিকভাবে হয়নি। তবে আমি মনে করি না ঢাকার সবক’টি ফ্লাইওভার ঠিকভাবে হয়নি। দুই-তিনটি ফ্লাইওভার কার্যকর ভূমিকা রাখছে। যে পরিমাণ টাকা এখানে ব্যয় করা হয়েছে সে অনুযায়ী অধিকাংশ ফ্লাইওভার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

মেট্রোরেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় অনেক বেশি। বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেলের খরচ পর্যালোচনা করে দেখা যায় তাদের খরচ অনেক কম। মনোরেলের খরচ আরও কম। আমাদের দেশের বিবেচনায় ভাবতে হবে কোন ধরনের ট্রান্সপোর্টেশনে যাবো। আর্থিক ও অন্য সব বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারি পর্যায়ে সেভাবে করা হচ্ছে না। সরকারকেও ভাবতে হবে কীভাবে প্রকল্পগুলো হাতে নেবে।

এই চলচ্চিত্র পরিচালক বলেন, আমি যে সেক্টরে কাজ করছি, চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি, এর পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি। এতে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে প্রকাশ করা উচিত। তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া যাবে। সার্বিকভাবে আমাদের অবস্থান বিবেচনায় আনলে সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে সেগুলো আমাকে কষ্ট দেয়। একারণেই আমি বিভিন্ন কাজ করছি। সমস্যা তুলে ধরায় আমি বিশ্বাসী নই। এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে, তেমনটা নয়। কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেগুলো আমি উপস্থাপন করতে চাই। আমি যা ভাবছি, সেগুলো কিন্তু চূড়ান্ত কিছু নয়। চূড়ান্ত হতেও পারে, নাও পারে। আমাদের ভাবতে হবে, বিকল্প পথে যেতে হবে। এটা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। যেভাবে চলছি এভাবে একটি শহর, একটি নগর, একটি দেশ ঠিক থাকতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, চলন্ত রাস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গড়ে প্রতি কিলোমিটার দুইশ’ কোটি টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। যেখানে মেট্রোরেল প্রতি কিলোমিটার ১১শ’ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হচ্ছে। যে পরিবহন ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে তার চেয়ে অনেক খরচ কম হবে ‘চলন্ত রাস্তা’ প্রকল্পে। চলন্ত রাস্তা শুধু এলিভেটেড পরিবহন না, এতে সুবিধা পাওয়া যাবে অনেক। পাশের লেনে হাঁটার ব্যবস্থা থাকবে, বাইসাইকেল লেন থাকবে। এই প্রকল্পে একই সঙ্গে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ