চীনে করোনাভাইরাসে ১৭ জনের মৃত্যু, গণপরিবহন বন্ধ

প্রকাশিতঃ ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ জানুয়ারি ২০

চীনজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৫০০ জন। খবর বিবিসির। ভাইরাসটির  ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে উহান শহরের সব গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন চান্দ্র বর্ষের ছুটি। এসময় কোটি কোটি চীনা নাগরিক দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করবে।  তবে এই ছুটিতে উহানের এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দাকে শহর না ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে উহান শহরে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয় দেশটির সরকার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শহরের বাসিন্দাদের ভিড়ের মধ্যে না যেতে বা গণজমায়েত না হতেও পরামর্শ দিয়েছে।

উহানের স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে তারা সব বহির্গামি ট্রেন সার্ভিস ও উড়োজাহাজের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে এবং দুপুর ১টা থেকে বাস, সাবওয়ে ও ফেরি সার্ভিসও বন্ধ রাখবে।

এরইমধ্যে চীনের পার্শ্ববর্তী জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রেও এই ভাইরাসে সংক্রমিত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছেন। চীন থেকে ফেরার পর গত শনিবার ও রোববার অসুস্থ ছিলেন তিনি। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা গেছে, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের হুবেই প্রদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া উহান থেকে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তাঁদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ভাইরাসটির বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানের একটি পশু বাজারে অবৈধভাবে চলা বন্যপ্রাণী ব্যবসা থেকে গত বছরের শেষ দিকে প্রাণঘাতী এ করোনাভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

এতে এই প্রদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে সরকার। এ ছাড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্ধারণে গতকাল বৈঠক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

১৯৬০ সালে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এটি মূলত ভাইরাসের বড় একটি গোত্র। বর্তমানে করোনাভাইরাসের যে প্রজাতির সংক্রমণ ঘটেছে, তা এর আগে দেখা যায়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণ সর্দি-ঠান্ডা থেকে শুরু করে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি মানুষ এবং পশু-উভয়ে ছড়াতে পারে। কোনো রকম স্পর্শ ছাড়াই মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় ভাইরাসটি।

ফ্রান্সের প্যারিসের ইনস্টিটিউট প্যাস্তয়োয়ের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান আর্নদ ফন্তানেত বলেন, সার্স ভাইরাসের সঙ্গে বর্তমান ভাইরাসটির চরিত্রের ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে। তবে সার্সের মতো আগ্রাসী নয় এই ভাইরাস।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ