চুরির অপবাদে কিশোরকে খুঁটির সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন

প্রকাশিতঃ ৮:২০ অপরাহ্ণ, সোম, ২০ জানুয়ারি ২০

মো: ইউসুফ, লক্ষ্মীপুর : জেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নিরব হোসেন নামে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতনের পর গলায় জুতার মালা ও ঝাড়ু পরিয়ে উল্লাস করার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই কিশোরের নানী বাদি হয়ে সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তুলে ছেড়ে দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। যা এখন ভাইরাল।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজিজুর রহমান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কিশোর নিরব হোসেনকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইসমাইল হোসেন ও মো: রাশেদসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ দিকে ঝাড়ু ও জুতার মালা গলায় পড়িয়ে কিশোরকে এলাকায় ঘুরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্নসহ এ ঘটনায় মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন কিশোরের নানী আলেয়া বেগমসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

অপরদিকে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে নিজ কর্মরত দোকান থেকে টাকা চুরি হয়। এরপর চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোর নিরব হোসেনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায় দোকানদার রাশেদ, কামাল কসাই এবং ইসমাইল হোসেন কসাইসহ অন্যরা। এরপর নিরব হোসেনের গলায় জুতার মালা ও ঝাড়ু পরিয়ে ঘুরানো হয়। নির্যাতনের পর তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ওইদিন রাতে শালিস বৈঠকের কথা বলে থানা থেকে ছেড়ে নিয়ে আসে দোকানদার। এক পর্যায়ে রোববার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গ্রাম্য মাতব্বররা বিষয়টি নিয়ে শালিসে বসে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কিন্তু নানী আলেয়া বেগম এতিম ওই কিশোরের দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় আবারও হট্টগোল শুরু হয়। দ্বিতীয়বার আবারও ওই কিশোরকে মারধর করে তারা। রাতে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ দিকে গত ৬ মাস ধরে মৃত কিরন হোসেনের ছেলে নিরব হোসেন স্থানীয় রাশেদের চামড়ার দোকানে শ্রমিকের কাজ করতেন। এর মধ্যে তার মাকেও হারান নিরব। দোকানে মাসিক শ্রমের টাকা পায়নি বলে অভিযোগ করেন নিরব হোসেন। এত কষ্ট করেও পারিশ্রামিক না পাওয়ায় মালিকের অগোচরে নিজের পাওনা টাকাই নিয়ে নেন বলে দাবি করেন কিশোর নিরব। এতে মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

তবে দোকান মালিক রাশেদ বলছেন, নিরব হোসেন তার ক্যাস থেকে কিছু টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এতে নিজেও এলাকাবাসী তাকে শাস্তি হিসেবে ঝাড়ু ও জুতার মালা পড়িয়ে দেন ও শালিস বৈঠকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাতাব্বররা তার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তবে স্থানীয় কাউন্সিলর শিপন ও শালিসদার ইসমাইল হোসেন এবং রাশেদ ঝাড়ু ও জুতার মালা পড়িয়ে দেয়ার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বলে দায় এড়িয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ