জবি উপাচার্য নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিতঃ ৬:১৬ অপরাহ্ণ, বুধ, ৬ নভেম্বর ১৯

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ।

গতকালকের ঘোষিত হল ভ্যাকেন্ড ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাবি আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল ১১ টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিসষ্টার ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশে চলে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ও শিক্ষকরা। বক্তব্যে সবাই উপাচার্যের অপসারণসহ শাস্তি দাবি করেন।

আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহা, কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড.সৌদা আখতার, শিক্ষক সমিতির সদ্য পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান সহ আরো অনেকেই।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ।

সংহতি সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, যে সমস্যা সমাধানের জন্য হল বন্ধ করা হয়েছে সেটা কোন সমাধান নয়। শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করার মাধ্যমে উপাচার্য পূর্ন নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। সরকারী ছাত্র সংগঠনের দ্বারাই দুর্নীতির বিষয়টা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সরকার কোন প্রদেক্ষপ নেয়নি। আজকের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শুনতে চাই। বিকালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এর একটি সমাধান চাই। যে সংগঠন বিশ্বজিৎ, আবরার, জুবায়েরকে হত্যা করেছে তার উপর ভরসা করে আপনি টিকতে পারবেন না। আপনি মূলত গণঅুভ্যুত্থানের ভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখেছেন। গণঅভ্যত্থান হবে এবং তার ফলাফল হিসেবে আপনি অপসারিত হবেন। ভিসি নিজেই আন্দোলনকে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে রূপ দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগরের নয় তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।দেশের বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে ভিসি নিয়োগ আইয়ুব খানের অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলছে। যার পলে ভিসি নিয়োগ সরকারের পক্ষিগত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া এমন হওয়ার কথা ছিলো না। বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে ভিসি নিয়োগ হওয়ার কথা। প্রক্রিয়া অনুশরন না করায় এবং কোন কোন শিক্ষক শিক্ষকতার চেয়ে ব্যাবসায়ী, পুলিশ, কেউবা আমলা হতে পছন্দ করার ফলে এমন দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পায়।

সংহতি সমাবেশে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের সামনে থেকে ছাত্রদেরকে চিলের মত ছো দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। শুধু শিবির তকমা দিয়ে এই আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিসিকে দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করবেন।

অধ্যাপক ড.সৌদা আখতার বলেন , গতকাল যখন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী দিয়ে শিক্ষক মারছেন এটা খুবই মর্মাহত করেছে। জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েরা সবসময় অন্যায়ের বিরুেদ্ধ দাড়ায়৷ ভিসিকে অবশ্যই যেতে হবে এবং বিচারের আওয়াত নিয়ে আসতে হবে।

জবি উপাচার্য ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে, পুলিশ দিয়ে ন্যায্য আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। মিথ্যাচার করে মসনদ টিকানো যাবে না। ভিন্ন মতকে জায়গা দিয়ে চান না বলেই ৩০/৩৫ জন আন্দোলনকারীদের সয্য করতে পারছেন না। তাইতো হামলা করে বন্ধ করতে চেয়েছেন। কিন্তু আজ সেই আন্দোলন জনতার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আমাদের আন্দোলনের ফসল হলো তোমরা যারা আগামীর বাংলাদেশ।

কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক জানান,’ আমি আজ এখানে এসেছি সংহতি জানাতে। আমিও আপনাদের সাথে আছি। গতকালকের ঘটনায় আমি ব্যথিত ও মর্মাহত। সিন্ডিকেটে গতকাল হল ভ্যাকেন্ডের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার বিরোধিতা করছি।

শিক্ষক সমিতির সদ্য পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা সংহিত জানিয়ে বলেন,’গতকালের ঘটনায় আমরা দেখেছি কিভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী যে শিক্ষক সমিতির পদে থেকেও কিছু করতে পারিনি। তাই সেই দ্বায় নিয়েই পদত্যাগ করেছি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সংকট চলছে। এই সংকট সমাধানে সরকারকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান বলেন,‘গতকালকে যে গনঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়েছে তা মূলত গণপশুত্বের অভ্যুত্থান। আমরা সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই পশুত্ব, স্বৈরাচারী আচরন চিরতরে বিদায় করতে চাই। সংহতি জানাতে এসেছি কারন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমার নাগরিক অধিকার।

কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় সংহতি জানিয়ে বলেন,‘আপনাদের দাবি নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে। এই দাবি এখন সারা বাংলার ছাত্রসমাজের। আপনার গনঅভ্যুত্থানের বক্তব্যের পর সারাদেশে আপনার বিরুদ্ধে গনছাত্রঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই আন্দোলনের বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা আপনাদের সাথে থাকবো।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের অবস্থান।

 

ছাত্রলীগ দ্বারা হামলার স্বীকার আন্দোলনের অন্যতম কর্মী রাকিবুল রনি বলেন,’যেসব দাগ আমাদের গায়ে ক্ষত হয়ে আছে উপাচার্য অপসারণের মাধ্যমে তা পূরণ হবে। উপাচার্য অপসারণের মাধ্যমে শুধু সমাপ্ত নয়,তাকে সর্বোচ্চ বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। ছাত্রলীগের যেসব নেতা নেতারা স্বীকার করেছেন তাদেরও বিচার করতে হবে। এই আন্দোলন উপাচার্য অপসারণ ও তার শাস্তি নিশ্চিত করা পর্যন্ত চলবে।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোন ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেয় নি দিবে না। আগামীর আন্দোলনে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহবান জানান।

সংহতি সমাবেশে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, কোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষকরা আক্রমণ করেছেন এমন নজির নেই। গতকাল প্রক্টর, পুলিশ ও শিক্ষকরা ছিলেন। সকলের চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তারা উল্টো উস্কানি দিয়েছে। শিক্ষক সমতির সভাপতিও সেখানে ছিলো।

সময় জর্নাল/ সাকিল ইসলাম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ