ঝিনাইদহে ২২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে, প্রস্তুতি নেই হাসপাতালে

প্রকাশিতঃ ৫:০৭ অপরাহ্ণ, শনি, ১৪ মার্চ ২০

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: ঝিনাইদহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিদেশফেরত ব্যক্তিসহ সর্বমোট ২২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ইতালি, ভারত এবং আমেরিকা ফেরত কয়েকজন সহ মহেশপুরে পাঁচজন, কালীগঞ্জে একই পরিবারের ১২ জন এবং সদর উপজেলায় পাঁচজন রয়েছেন।

বিদেশফেরত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলেও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়নি কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। হাঁচি-কাশি কিংবা জ্বর-ঠান্ডার রোগীদের জন্য নেই আলাদা ব্যবস্থা। এসব রোগীরা কোথায় চিকিৎসা নিবে তার জন্যও নেই হেল্প ডেস্ক। ডায়রিয়া বিভাগে শুধু তিনটা বেড রেখে আইসোলেন ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত ওয়ার্ডবয় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্যন্ত নেই কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা সেবা প্রদান নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিজ জেলার সদর হাসপাতালের এই চিত্রে হতাশাগ্রস্থ সর্বস্তরের মানুষ। অথচ এ হাসপাতালে প্রতিদিন নানা রোগে আক্রান্ত অন্তত সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন , হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চিকিৎসা আসে। তারা যত্রতত্র হাঁচি-কাশি দিচ্ছে, কারও মুখেই মাস্ক নেই। এখান থেকে তো যে কারও মাধ্যমেই করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। কারণ আমরা কেউ তো জানি না কার শরীরে এই ভাইরাস আছে।

হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক কিছুই করছেন না। তারা হাসপাতালের প্রবেশ মুখে হেল্প ডেস্ক ও হাঁচি-কাশি রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ডেস্ক চালু করার দাবি জানান।

মেডিসিন বিভাগের একাধিক নার্স বলেন, আমাদের কোনো সেফটি নেই। কোনো গাউন, মাস্ক কিছুই নেই হাসপাতালে। আমরাই যদি নিরাপদে থাকতে না পারি তাহলে রোগীদের সেবা দেব কীভাবে !

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বলেন, ফিঙ্গার, হাঁচি-কাশিসহ নানা কারণে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কেউই করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য সুরক্ষিত বা প্রস্তুত না। আমাদের নিজেদের শরীরেরই নিরাপত্তা নেই তাহলে রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা দেব।

অভিযোগের বিষয়ে সদর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক ডা. আয়ুব আলী বলেন, আমাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাস চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা আছে। করোনা শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক রোধে চিকিৎসকদের গাউন, মাস্ক, আই-প্রটেকটর ব্যবহার করতে দিচ্ছি না। এগুলো পরলে মানুষ আতঙ্কিত হবে।

তবে এর আগে যদি চিকিৎসা দিতে গিয়ে কোনো চিকিৎসকের শরীরের আক্রান্তের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তখন কি হবে- এমন প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি তিনি ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ