টাকা না দিলে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর মিলে না!

প্রকাশিতঃ ৬:১৭ অপরাহ্ণ, সোম, ১৬ মার্চ ২০

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে টাকা না দিলে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর মিলে না। শিক্ষার্থীদের যে কোন স্বাক্ষর নিতে একশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত বিভাগের একাউন্টে জমা দিতে হয়। রশিদ কেটে টাকা নেয়ার এই প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ বিষয়ে অবগত নন। সম্প্রতি বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায়, সাবেক এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে তাকে পিটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করানোর হুমকিও দেয়া হয়।

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এভাবে টাকা নেয়ার কার্যক্রম আগে কখনো ঘটেনি। এবিষয়ে আমি বিভাগের চেয়ারম্যানকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এভাবে টাকা নেয়ার প্রক্রিয়া এবারই প্রথম দেখলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান ড. আতিয়ার রহমানের কাছ থেকে যে কোন বিষয়ে স্বাক্ষর নিতে গেলে একশ থেকে তিনশ টাকা বিভাগের একাউন্টে জমা দিতে হয়। এবিষয়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের ভয়ে ইতোপূর্বে মুখ খুলতেন না। গত রোববার ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামিম মাহমুদ বিভাগে বৃত্তির দরখাস্তের জন্য গেলে তাকে একশ টাকা বিভাগের একাউন্টে জমা দিতে বলে। ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ দেখালে বিভাগীয় চেয়ারম্যান তার দরখাস্তে স্বাক্ষর করেন। এরপর সোমবার ২০১৩-১৪ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য আবেদন পত্রে বিভাগের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য গেলে তাকে তিনশ টাকার ব্যাংক রশীদ ধরিয়ে দেয়া হয়।

এসংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মীরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন। এসময় তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে জবাব দিতে বাধ্য নই। সাংবাদিক হলেই তোমাদের সব বলতে হবে না। আমার রুম থেকে বের হয়ে যাও। আমি এই কাগজে স্বাক্ষর করবো না। টাকা দিলেও করব না, না দিলেও করব না। কোন খাতে এই টাকা নেয়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডোন্ট আরগু উইথ মি, গেট আউট অফ মাই রুম’।

এরপর বিভাগ থেকে ওই শিক্ষার্থী (আবু তৈয়ব) বের হয়ে আসার পর, বিভাগের ২০০৯-১০ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেন। এই সালমান বিভাগের শিক্ষক হওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে দীর্ঘদিন থেকে লবিং-তদবীর করে আসছেন।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ