‘ডাকসু ভবনে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারের দাবি’

প্রকাশিতঃ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, রবি, ২৯ ডিসেম্বর ১৯

সময় জার্নাল প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনাসহ ছয়দাফা দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর ছাত্রলীগ প্যানেলের নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।

‘ডাকসু ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে ভিপি নুরুল হক নুর সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া, সংঘর্ষ পরবর্তী ঘটনা পরম্পরায় ডাকসু নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার আবেদন, ভিপি নুরের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানসহ সামগ্রিক বিষয়ে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ছয়দফা দাবির অন্য দাবিগুলো হলো- ডাকসু নেতৃবৃন্দ, সিনেট সদস্য, হল সংসদের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার; ডাকসু ভবনের ভিতরে অবস্থিত নুরের সহযোগী বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; ডাকসু ভবন ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত উভয়পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ; দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ভিপির পদত্যাগ; সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করায় নুরের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

তিনি বলেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সাম্প্রতিক সময়ে ভিপি নুরের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে আন্দোলন-আন্দোলন খেলার রীতি চালু করেছে। তারই অংশ হিসেবে পরিকল্পিত এই সংঘর্ষ (২২ ডিসেম্বর) ঘটিয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলক এই ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের বিপ্লবী ভূমিকা জাহির করা ও সিমপ্যাথি পলিটিক্স এ নিজেদের ভাবমূর্তি গড়তে চেয়েছে।

সাদ্দাম বলেন, ২২ ডিসেম্বরের সংঘর্ষ, হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেউ কোনভাবেই জড়িত নয়। এ সংঘর্ষের শুরুতে ডাকসু ভবনের নিচ থেকেই যদি ভিপি নুর ও তার বহিরাগত সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে অন্যত্রে চলে যেতেন তাহলে এই সংঘর্ষ ও কোনপ্রকার ক্ষয়ক্ষতি, ভাঙচুর, আহতের ঘটনা ঘটতো না।

সিনেট সদস্য সনজিত এবং এজিএস সাদ্দামের আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যেমন পিছু হটেছিল, তেমন একই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিপি নুর যদি পিছু হটতেন তাহলেও সংঘর্ষ এড়ানো যেতো বলে মনে করেন তিনি।

সাদ্দাম বলেন, সিনেট সদস্য সনজিত চন্দ্র দাস, এজিএস সাদ্দাম হোসেন, সদস্য রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, সদস্য মাহমুদুল হাসান সর্বাত্মকভাবে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করার পরও ভিপি নুর পুলিশের কাছে তাদের নামে মামলার আবেদন করে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার পরও মামলার আবেদনে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এই মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের জন্য ভিপি নুরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংঘর্ষেলিপ্তদের প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন করার জন্য ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ গায়েব করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরিকল্পিতভাবে যারা গায়েব করেছিল সেই একইপক্ষ সেদিন মূল ফটক বন্ধ করে ডাকসু ভবনে অবস্থান করছিল। এবং তারাই সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছে।

সাদ্দাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিপি নুরের টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, পার্সেন্টেজ আদায় ইত্যাদি অনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার সামনে উন্মোচিত হওয়ার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো হয়েছে কি না তা অনুসন্ধানের দাবি রাখে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পবিত্র আমানত ডাকসু ভবনকে রক্ষা না করে বরং এই ভবনকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে এবং নিজের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত বাহিনী দিয়ে ভবন ভাঙচুরে অংশগ্রহণ করে নুর ভিপি পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা আবারও হারিয়েছেন।

 

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ