দর্শকবিহীন রাজ্যে সূর্যমুখীরা বিষণ্ণতায়

প্রকাশিতঃ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২ এপ্রিল ২০

খাদিজা খানম

প্রতিবছরের এইসময়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় উঁকি দেয় সূর্যমুখীরা। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরুপ দৃশ্য। যতোদূর চোখ যায় দেখে মনে হয় বিশাল আয়তনের হলুদ এক গালিচা। চোখে পড়ে শুধু সূর্যমুখী ফুল। আর এই ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মনোরম দৃশ্য স্মৃতির পাতায় বন্দি করছেন অনেকেই। কেউ ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতির পাতায় জমিয়েছে। কিন্তু এবারের দৃশ্যটি ভিন্নরকম। নেই কোন হাসির ঝলক। নেই কোনো ছবি তোলার ভীড়। নীরবে দাঁড়িয়ে আছে হলুদ ফুলওয়ালা সবুজ গাছ। করোনা প্রভাবের ছাপরেখা শুধুমাত্র ব্যক্তিমনেই না, প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকেও ছেয়ে গেছে।

সূর্যমুখী একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে অপরদিকে জ্বালানীর চাহিদাও পূরণ করে। নোবিপ্রবির ভিসি স্যারের নির্দেশনায় এবং কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই সূর্যমুখী চাষ করা হয়।

ক্যাম্পাসের বিশাল সৌন্দর্য্যের ভূমিকায় সূর্যমুখী গাছগুলো সকলের নজর কাড়ানো। প্রতিবছর এই সময়েই চাষ করা হয় সূর্যমুখী। সূর্যমুখীগুলো মাথা উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু সে সৌন্দর্য্য উপভোগ করার কেউ নেই। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য্যতো মানুষের জন্যই আর মানুষকে তা উপভোগের তৃপ্তি দেয়ার মধ্যেই তার পূর্ণতা। তাই হয়ত জনশূন্য প্রান্তরে সূর্যমুখীগুলো বিষণ্ণমনে দাঁড়িয়ে আছে।

এই সময়গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত হয়ে উঠে হলুদ আর সবুজের সমারোহে ডুবে যেতে। সূর্যমুখী ফুলের হাসির সাথে যেন নিজেরাও লিপ্ত হয় তার চাঞ্চল্যে। প্রকৃতিপ্রেমীরা আবার সূর্যমুখীর সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার সূর্যমুখীর হাসির সাথে সেলফি বা গ্রুপফটোতে নিজেদের বন্দী করে স্মৃতিরপাতায় রেখে দেয়। কারো কাছে এই সময়ের ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিটি সূর্যমুখীর সাথে হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্যের মুগ্ধতা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের মনেই নাড়া দেয় না, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনকেও ছুঁয়ে যায়। এমনকি এই সৌন্দর্য্য মন ভালো করে দেয় অনেক প্রকৃতিপ্রেমীদের।

কিন্তু এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। আজ সে সৌন্দর্য্য উপভোগে ব্যস্ত নেই কোন নোবিপ্রবিয়ান। নেই ছবি তোলার কোন প্রতিযোগীতা। আজ সে সৌন্দর্য্যের দর্শনার্থী হয়ত কেবল কিছু ভ্রমর কিংবা মৌমাছি। আর হয়ত কিছু পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে ব্যস্ত সূর্যমুখীরা।

বন্ধের এই দিনগুলোতে প্রত্যকেই মিস করছে তার প্রিয় ক্যাম্পাসকে সেই সাথে সূর্যমুখীকেও।

ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান অভি বলেন, ‌’সূর্যমুখী, আমার ছায়া তোমাতে ফেলতে চাই আবার।’

লেখিকা: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ