দাম কমাতে বাণিজ্য সচিবের নিস্ফল হুঁশিয়ারি

প্রকাশিতঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ, সোম, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯

স্টাফ রিপোর্টার: ‘পেঁয়াজের মজুদ সন্তোষজনক। দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। এ নিয়ে বাজার অস্থির করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে’-বলেছেন, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য সচিব বলেন, আমদানি করা কিছু পেঁয়াজ ইতোমধ্যে খালাস করা হয়েছে। আরও পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। পরিস্থিতি তদারকি করতে ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে।

বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পেঁয়াজের দাম ৬০ এ নেমে এলেও ভারত হঠাৎ করে রপ্তানি না করায় দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সরকার। বাণিজ্য সচিব বলেন, এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ৩৫টি ট্রাকে করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ ব্রিক্রি করবে টিসিবি।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) থেকে টিসিবির মাধ্যমে ১৬ স্থানের পরিবর্তে রাজধানীতে ৩৫ স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

কিন্তু তারপর থেকেই হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। বাণিজ্য সচিবের এসব নিস্ফল হম্বিতম্বিতেও দাম কমছেনা পেঁয়াজের।

পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ থাকাকেই প্রধাণ কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। আর এ সুযোগে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজের আড়তদাররাও এর সুবিধা নিতে শুরু করেছে।

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকা ছুঁলেও বাণিজ্য সচিব বলছেন, ‘দেশীয় ও আমদানি করা পেঁয়াজের সন্তোষজনক মজুত রয়েছে।

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা মজুত করবেন এবং বাজারকে অস্থির করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন এসব কথা জানান।

একই সঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘দেশীয় পেঁয়াজ ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ মিলিয়ে মজুত সন্তোষজনক। মনে করি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা পেঁয়াজের বাজার দর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এর কোনো যুক্তি নেই। যারা মজুত করবেন এবং বাজারকে অস্থির করার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের মজুত যথেষ্ট রয়েছে। মজুত পরিস্থিতি জানতে ১০টি টিম পাঠাচ্ছি, যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে এসব টিম ১০টি জেলায় যাবে, যেখান থেকে বেশির ভাগ পেঁয়াজ আসে।

এছাড়া বিভিন্ন স্থলবন্দর যেমন- বেনাপোল, বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন বন্দরে আমাদের কর্মকর্তারা থাকবেন, তাদের কাজ হবে মনিটরিং করা। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল দ্রব্য, সবাইকে এ মেসেজ দেয়।

এটা রাখার দরকার নেই দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। কারণ পাইপলাইনে আমদানি করা পেঁয়াজ আছে। ফলে দেশের বাজারে জোগান সচল থাকবে।’

জাফর উদ্দীন বলেন, ‘টিসিবিকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি এতদিন তারা ১৬টি ট্রাকে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এখন সেটা বাড়িয়ে ৩৫টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করবে।

আমরা সব সময় মনিটরিং করছি। আশা করছি, আগামীকাল (মঙ্গলবার) বা দ্রুত এর সুফল পাওয়া যাবে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। ভোক্তা অধিকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি টিম কাজ করছে।’

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের খবরে একটু সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমরা বসে নেই। এ বিষয় নিয়ে আজ (সোমবার) সকালে বসেছিলাম।

একটি ভালো খবর হলো, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনার যে প্রক্রিয়া ছিল সেটার দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে নৌবন্দরে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি জাহাজের পেঁয়াজ গতকাল (রোববার) খালাস হয়েছে। একটি জাহাজ আজ খালাস হবে।’

মিয়ানমার থেকে দুটি চ্যানেলে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটা বর্ডার ট্রেড হিসেবে আসে টেকনাফ দিয়ে। এটা চলমান।

একটা হলো ফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে নৌবন্দর দিয়ে। এছাড়া তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আনার প্রক্রিয়া চলমান। আসতে যতটা সময় লাগতে পারে। তবে সময়টা আমি বলতে চাচ্ছি না। যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আমরা কৃষি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা নিচ্ছি।

আমাদের ঘাটতি খুব বেশি নয়। যেহেতু আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজেই পেঁয়াজ, রসুন, আদা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে ভবিষ্যতে আমদানির দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।’

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ