দিনাজপুরে গ্রাহকদের সর্বস্ব করে এনজিও উধাও

প্রকাশিতঃ ৫:২৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ১৮ মার্চ ২০

শরিফুজ্জামান,দিনাজপুর সংবাদদাতা: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নাম মাত্র জামানত ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে এক নাম সর্বস্ব এনজিও গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পার্বতীপুরের এই নাম সর্বস্ব এনজিওটির নাম হলো আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ। এই নামে পরিচয় দেয়া ওই এনজিও’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কমপক্ষে ১০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন।

তবে ওই এনজিওতে জমাকৃত অনেক কষ্টে সঞ্চয় করা টাকা হারিয়ে বুক ফাটা কান্না ও চোখের জলের আহাজারিতে বিষন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবেশ। কোথায় যাবে, কি করবে, এগুলো ভেবে ভেবে আর্তনাদ এলাকার লোকজন।

স্থানীয় কয়েক জন লোক বলেন, আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ নামে পরিচয় দিয়ে একটি বে-সরকারী সংস্থা (এনজিও) পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী মহসড়কের পাশে দ্বিতল ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে গত ৩ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এলাকার ঋণ দেওয়ার কথা বলে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী মহসড়কের পাশে মোস্তাফিজুর রহমানের নির্মাণাধীন ভবনের নীচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়ার কথা বলে সেখানে চেয়ার-টেবিল রাখেন।

পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর, বেলাইচন্ডি, পলাশবাড়ী, হাবড়া, মোমিনপুর, রামপুর, মোস্তাফাপুর, হরিরামপুর, হামিদপুর ও মন্মথপুর ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সাধারণ ঋণ, গাভী ক্রয়, বিভিন্ন যন্ত্র ও ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা কিনতে ঋণ দেওয়ার বিভিন্ন কথা বলে এনজিও কর্মকর্তারা প্রায় ১০০ জনকে সদস্য করে। এরমধ্যে ৮০ জন গ্রাহক এক লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় ১০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকার পন্য ও ৫ হাজার টাকা করে সঞ্চয় এনজিও কর্মকর্তাদের নিকট জমা দেন।

গত রোববার গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরনের কথা ছিল। এ অবস্থায় গ্রাহকদের অগোচরে শনিবার বিকেলের দিকে এনজিও কর্মকর্তা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের রেহেনা পারভীন (৩৫) জানান, তিনি মুদি দোকানে ব্যবসা করেন। ওই এনজিও থেকে রোববার তাকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এনজিওটিতে এরই মধ্যে সঞ্চয় হিসেবে তিনি ৮ হাজার টাকা জমা দেন গত বৃহস্পতিবার।

এজিও’র গ্রাহক নার্গিস আরা বেগম (৩০), মমিনুল ইসলাম (২৮) ও আনোয়ার হোসেন (৩৩) এই তিনজনের কাছ থেকে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওই এনজিওর নামে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে (০১৩১২৮৩৫৭২৭ অথবা ০১৯০৮৭৪৪৮৮৭) মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে এনজিও কার্যালয়ের ভবন মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ৩ মার্চ আমার ভবনের নীচতলায় ৫ হাজার টাকা করে ভাড়া প্রদানের মৌখিক চুক্তি হওয়ার কথা হয়েছিল গত রোববার (১৫ মার্চ)। কিন্তু গত রোববার পর্যন্ত ওই এনজিও’র কর্মকর্তারা আর যোগাযোগ করেনি এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। তবে ঋণ প্রদানের কথা বলে এলাকার অনেক গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ওই এনজিওর কর্মকর্তারা।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন গ্রাহক অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাপস রায় এর সাথে এবিষয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় স্থানীয় সংঘ, সমিতি, ক্লাব ও এনজিও কে নিবন্ধন দিয়ে থাকে। অভিযুক্ত আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ নামে কোন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য কোন আবেদন আমাদের কাছে করেনি। এজন্য তাদের নিবন্ধনভূক্ত করার প্রশ্নই আসে না। কোন প্রতিষ্ঠানকে এন্টারপ্রাইজ বলার অর্থ এটা যৌথ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যার নিবন্ধন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে করা হয় না।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ