দুর্নীতির তদন্ত শুরুতেই চার মাস, শেষ হবে কবে?

প্রকাশিতঃ ২:০৮ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৬ সেপ্টেম্বর ১৯

রাজধানীর মুগদায় জাতীয় নাসিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (নিয়ানা) ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক দিপালী রাণী মল্লিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায় দুদক।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঠানো এ চিঠির প্রেক্ষিতে ২৩ দিন পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রশাসন-১ শাখা থেকে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহের তদন্ত করে পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়। সে হিসেব অনুযায়ী মে মাসের মধ্যেই তদন্ত শেষ হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন শেষ হওয়া তো দূরের কথা, চার মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত তদন্ত-ই শুরু হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্তের শুনানির জন্য ৮ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে। অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীদের উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণসহ এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে দুদকের চিঠির তদন্ত শুরু করতে চার মাস অতিবাহিত হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, কি কারণে এত বিলম্বে তদন্ত হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। তদন্ত হলেও সুষ্ঠু তদন্ত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে কতদিন লাগে আল্লাহই ভালো জানে।

দুদকে যে অভিযোগ করা হয়েছিল

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় নার্সিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুগদা ঢাকার মাস্টার অফ সাইন্স ইন নার্সিং কোর্সের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী এ মর্মে অভিযোগ করেন যে প্রতিষ্ঠানটি ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএমএমইউ কর্তৃক নির্ধারিত ফি ও সরকার নির্ধারিত ফি ব্যতীত বিভিন্ন অজুহাতে যেমন পরীক্ষার ফি চার হাজার টাকা, সেন্টার ফি সাড়ে তিন হাজার টাকা ,কোর্স ফি তিন হাজার টাকা, ফিল্ড প্রাকটিস ফি এক হাজার টাকা, লাইব্রেরি নিরাপত্তা ফি এক হাজার টাকা, থিসিস ফি ১০ হাজার ৭০০ টাকা করে তিন ব্যাচের সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ৫৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা রূপালী ব্যাংক লিমিটেড শাখা ঢাকা হিসাব নং ০৬১২০২০০০১৩৬৪ ) নাম্বারে জমা নেয়া হয়।

এছাড়াও দ্বিতীয় সেমিস্টার ২০১৯ এর জন্য তৃতীয় ব্যাচের ৫৭ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বমোট অতিরিক্ত ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বিতীয় ব্যাচের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ের আগাম নির্দেশ দেন, এ মর্মে অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অনিয়ম দূর ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক হয়রানি থেকে রক্ষা করতে আবেদন জানান।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয় জাতীয় নার্সিং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী আওলাদ হোসেন কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক দিপালী রাণী মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সচিব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয় এর কাছ থেকে তদন্তপূর্বক একটি প্রতিবেদন চাওয়ার জন্য কমিশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক পত্র প্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক একটি প্রতিবেদন প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের ছায়ালিপি নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এরপর তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নিলেও চার মাস তা চাপা পড়ে থাকে। সম্প্রতি দুদক থেকে তাগাদা দিলে ফের তদন্ত উদ্যোগ শুরু হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ