ধর্ষণে বাধা দেয়ায় মামা খুন, গণপিটুনিতে ধর্ষকও নিহত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শনি, ২৪ আগস্ট ১৯

নিউজ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণে বাধা দেয়ায় ছুরিকাঘাতে হাসান আলী (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত আকবর আলীও নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন স্কুলছাত্রীসহ দুইজন। শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান আলী আমিরপুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে। গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলী দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সবজির ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের পঙ্গু হামিদুল ইসলামের বাড়িতে শনিবার ভোরে আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি ঢোকে। এরপর স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু কিশোরীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন গৃহকর্তার ছেলে হাসান আলী (২৬)। গুরুতর আহত হয় ওই স্কুলছাত্রীসহ তার পঙ্গু নানা হামিদুল ইসলাম।

এদিকে গ্রামবাসী টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলাকারী আকবর আলীকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, মো. কলিমুল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা গুরুতর আহত গৃহকর্তা হামিদুল ইসলাম ও ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সকাল ৮টার দিকে নিহত হাসান ও গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলীর লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের কারণে হামিদুল ইসলামের শরীরে অসংখ্যা ক্ষত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়েছে। আহত স্কুলছাত্রীকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার বলেন, ধর্ষণচেষ্টাকারী আকবর আলী বেশ কিছুদিন ধরে ওই গ্রামে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল। ভ্যানে করে গ্রামে সবজি বিক্রির ব্যবসা করলেও তার স্বভাব চরিত্র খারাপ ছিল। এর আগেও সে গ্রামের এক নারীকে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে আটক হয়েছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের জন্যই মূলত ওই বাড়িতে হানা দেয় আকবর আলী।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ