নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিবাদের ডাক

প্রকাশিতঃ ৩:০৬ অপরাহ্ণ, বুধ, ১১ ডিসেম্বর ১৯

নরেন্দ্র মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের উদ্দেশে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন ভারতের সচেতন মহল। এতদিন রাজনৈতিক স্তরে এ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছিল। দেশের ৬২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকও বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর বুধবার রাজ্যসভায় বিল আসার আগে অন্য ঘরানার নাগরিকরাও প্রতিবাদ শুরু করেছেন।

এরমধ্যে একজন সাবেক আইএএস সদস্য কান্নন গোপীনাথন। তিনি বলেন, এই বিল অমানবিক, অসাংবিধানিক। সরকারি নীতিতে আক্রান্ত হলে মুসলিমদের প্রতিবাদ করার সব অধিকার রয়েছে।

অল্প কিছুদিন আগেই আইএএস-এর চাকরি ছেড়ে দেওয়া শশীকান্ত সেন্থিল নামের আরেক আমলা জানিয়েছেন, তিনি এনআরসি হলে কোনও নথি জমা দেবেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আমি নাগরিক নই বলে ঘোষণা করা হলে ডিটেনশন সেন্টারে যাব। কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর আইএএস থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কান্নন গোপীনাথন।

এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিউট অব পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসির অর্থনীতিবিদ লেখা চক্রবর্তীও। টুইটারে নিজেকে মুসলিম ঘোষণা করার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, আমি মুসলিম। ভারতেই আমার জন্ম। আমি ফাতিহা জানি, গায়ত্রীমন্ত্রও জানি। কারণ আমার জন্ম ভারতে।

জেএনইউয়ের ছাত্রনেতা উমর খালিদও জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হলে, দেশে এনআরসি হলেও নথি জমা দেবেন না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের ওপর নীতিগত আঘাত। কিন্তু এনআরসি প্রতিদিনের জীবনযাপনের জন্য বিপজ্জনক।

বিতর্কিত বিলপাসের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, এই বিলের সঙ্গে দেশের মুসলিমদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের ফলে মুসলিমরাই হেনস্থার শিকার হবেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুজরাট দাঙ্গার পর চাকরি ছেড়ে দেওয়া মন্দার বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর আইন অমান্য করতে মুসলিম হিসেবে নাম নথিভুক্ত করাব। তারপর এনআরসিতে নথি জমা দিতে অস্বীকার করব। নথির অভাবে নাগরিকত্ব চলে যাওয়া মুসলিমদের যে শাস্তি হবে, ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে, আমাকে সেই শাস্তি দিতে হবে বলে দাবি তোলেন তিনি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ