নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পিট বুটিজেজ, বিপাকে বার্নি স্যান্ডার্স !

প্রকাশিতঃ ১:৫৮ অপরাহ্ণ, শনি, ৭ মার্চ ২০

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক ডেমোক্রেটিক দল থেকেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন প্রায় ২০ জন । এখন এই নির্বাচনী রেসে ভালোভাবে টিকে আছেন মাত্র দুজন—জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্স। তুলসি গ্যাবার্ড এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলেও সমীকরণে তিনি নেই।

ডেমোক্রেটিক বাছাই পর্বের শুরুতে যখন লড়াইটা হচ্ছিল বার্নি স্যান্ডার্স ও পিট বুটিজেজের মধ্যে তখন সবাই কিছুটা অবাক হয়েছিলো। স্বঘোষিত সমকামী ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ডের সাবেক এই মেয়র প্রাইমারিতে স্যান্ডার্সকে ধরাশায়ীও করেছিলেন । সব মিলিয়ে স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক দলের প্রথাসিদ্ধ ধারার লড়াকু প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জো বাইডেন ও মাইকেল ব্লুমবার্গকে পিছে ফেলে বুটিজেজই এগিয়ে ছিলেন।

অথচ এই বুটিজেজ সাউথ ক্যারোলাইনা প্রাইমারিতে নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে সরে দাঁড়ান তিনি। ৩৮ বছর বয়সী সাবেক এ সামরিক কর্মকর্তা ১ মার্চ সুপার টিউসডের একদিন আগে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান এবং জো বাইডেনকে সমর্থন জানান।

পিট বুটিজেজ মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও স্যান্ডার্সের অনুরাগী হিসেবে নিজেকে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সমর্থনটি গেছে জো বাইডেনের দিকে। টানা তিনটি প্রাইমারিতে ডেমোক্রেটিক মধ্যপন্থী হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও নেভাদা ও সাউথ ক্যারোলাইনার ফল তাঁকে ভীষণ হতাশ করে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি হওয়া সাউথ ক্যারোলাইনা প্রাইমারির ফল প্রকাশের পরদিনই তাই তিনি নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণায় বুটিজেজ স্পষ্ট বলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করা ও নিজেদের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতেই বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।

বার্নি স্যান্ডার্স যেন মনোনয়ন না পান, তা নিশ্চিত করাই এখন মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটিকদের একমাত্র লক্ষ্য।তবে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকসের সর্বশেষ পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ভোটার সমর্থন নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স। জো বাইডেন ১১ শতাংশ পয়েন্ট কম নিয়ে ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে। শুরুতে জয় পাওয়া মধ্যপন্থী নেতা পিট বুটিজেজের অবস্থান ছিল ১১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে পঞ্চম স্থানে।

সুপার টিউসডেতে ১৪টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে ভোট হয়। এবং এতে মধ্যপন্থীদের হিসাবই সত্য প্রমাণিত হয়। বড় জয় পান জো বাইডেন। ব্লুমবার্গ অবশ্য এবারও থাকেন শূন্য হাতে, ঠিক যেমনটা থাকেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। ফলে সুপার টিউসডের পরপর মাইকেল ব্লুমবার্গের পক্ষে পিট বুটিজেজকে অনুসরণ করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকে না। সুপার টিউসডের পরদিন, অর্থাৎ ৪ মার্চ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বাইডেনকে সমর্থন জানান ব্লুমবার্গ। এতে অবধারিতভাবেই পাল্লা ভারী হয় জো বাইডেনের দিকে। ব্লুমবার্গ শুধু বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, একই সঙ্গে তিনি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারের কাজে তহবিল দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কোনো লুকোছাপা করেননি। সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, স্যান্ডার্সের মনোনয়ন ঠেকাতে তিনি সম্ভাব্য সবকিছুই করবেন।

ব্লুমবার্গের এই ঘোষণার পর মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাইডেন ও স্যান্ডার্সের বাইরে ছিলেন শুধু এলিজাবেথ ওয়ারেন। রাজনীতিটি তিনি খুব সহজেই অনুধাবন করেন। এও বোঝেন যে, যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, মধ্যপন্থী ও বামপন্থী ধারার মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকায় ভোটার আকর্ষণের যত ক্ষমতাই তিনি ধরুন না কেন, শুধু নারী হওয়ার কারণেই তিনি পিছিয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় স্যান্ডার্সের অনুসারী এ প্রার্থী ৫ মার্চ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বিরোধী ধারার ঐক্যের বিপরীতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপনই সবচেয়ে বড় কৌশল হলেও এলিজাবেথ ওয়ারেন এখনো স্যান্ডার্সের প্রতি নিজের সমর্থন ঘোষণা করেননি। ৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছু জানাননি। শোনা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে স্যান্ডার্স ও বাইডেনের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেছেন। উভয় পক্ষই তাঁর সমর্থন চেয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলার আগে আরও কিছু সময় চান বলে জানিয়ে দিয়েছেন ওয়ারেন।

সময় জার্নাল / সালেহ

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ