পিরোজপুরের আমড়া চাষীদের মুখে হাসি

প্রকাশিতঃ ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, রবি, ১৩ অক্টোবর ১৯

বরিশাল সংবাদদাতাঃ যথাসময়ে উপযুক্ত বর্ষার অভাব আর তীব্র খড়ার কারনে এ বছর বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর স্বরূপকাঠীতে আমড়ার ফলন কম হয়েছে। তবে বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় মহা খুশি চাষী পরিবার থেকে ব্যবসায়ীরা। শেষ সময়ে এসে বিশেষ খ্যাতি অর্জনকারি স্বাদের আমড়ায় এখন দিগুন দাম পাচ্ছে চাষী ও বাগান ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা প্রতি মোন আমড়া ক্রয় করছে ১৮শ থেকে ১৯শ টাকায়। যার বাজার মূল্য পেয়েছে ২২শ থেকে ২৩শ টাকা। অর্থ্যাৎ, বড় সাইজের আমড়ার কেজি প্রতি ১০টি হিসাবে প্রতিটি আমড়ার পাইকারি মূল্য পড়েছে চার টাকা পঁচাত্তর পয়সা।

ব্যবসায়ী শ্রেনীরা জানান, শেষ সময়ে আমড়ার বাজার দর উর্ধ্বগতি থাকলেও তারা বেশি লাভের মুখ দেখেননি। মৌসুমের শেষ সময়ে আমড়া বিক্রি করে তাদের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করলে আলোর মুখ দেখন না চাষী পরিবারগুলো।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, এবছর ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫-১৬ মেঃটন ফলন ধরে মোট ২হাজার ৪শ দুই দশমিক পঞ্চাশ মেঃটন আমড়ার ফলন আশা করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কেজি দরে বিশ টাকা বিক্রি করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা অর্জন করবেন চাষীরা।

সরেজমিনে ব্যাবসায়িদের সাথে কথা বলে জানাযায়, মৌসুমের শেষ সময়ে এসে তাদের (কৃষি অফিস) হিসাবের বাইরে কয়েকগুন হারে আমড়া বিক্রি হওয়ায় উপজেলার আমড়া বিক্রি থেকে প্রায় ৮কোটি টাকা অর্জন হবে।

স্কুল শিক্ষক বাগান মালিক কৃষ্ণকান্তি রায় বলেন, এবার ফলন উৎপাদন কম হলেও তার বাগানের আমাড়ার বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা পেয়ে তিনি বেশ খুশি। একটি পরিপক্ক গাছে কম পক্ষে ৬-৮মন পর্যন্ত আমড়া ধরে।

আড়ৎদার শহিদ মিয়া বলেন, বর্তমানে ১৭শ থেকে ১৮শ টাকায় পাইক্রারি দরে আমড়া বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তায় গড়কে বড় সাইজের ৭৫ কেজি আমড়া ধরে। তিনি এলাকায় বসে আমড়ার আড়ৎদারিসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ও নৌপথে আমড়ার চালান করে থাকেন।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী আটঘর কুড়িয়ানা, জলাবাড়ী সহ মোট ৬৭টি গ্রামের উল্লেখহারে আমড়ার চাষাবাদ হয়ে থাকে। এসব গ্রামের এমন কোন জায়গা বা বাড়ী নেই যে আমড়া গাছ নেই। রাস্তার দুধারে যতদূর চোখ যায় চারপাশে দেখা মেলে গাছের পাতা ও ফলে সবুজের সমরোহ। বর্তমানে ওইসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েক সহস্রাধিক মানুষেরা আমড়া চাষা করে তাদের জীবিকা যোগার করছেন।

বাংলার আপেলখ্যাত কুড়িয়ানার মিষ্টি পেয়ারা চাষে বছর বছর ধরে চাষীরা মার খাওয়ায় আমড়া চাষের দিকে তাদের মনোযোগ বড়লে তারা এতে অনেক লাভবান হন।

জেলা উপ-পরিচালক ( কৃষি ) আবু-হেনা জাফর জানান, জেলায় মোট কয়েকশ হেক্টর জমিতে আমড়ার ফলন হয়েছে। এবছর তুলনামূলক ফলন কম হলেও আমড়ার দু-থেকে তিন গুন দাম মেলায় চাষীরা মহা খুশি। তারা আমড়া ফলনের যে পরিমান বাজার মূল্য নির্ধারন করেছিলেন শেষ মূহর্তে এসে আমড়ার বাজার মূল্য কয়েগুনে দাড়িয়েছে। আমড়া গাছে ভাল ফলনে তেমন একটা খরচ বা পরিচর্চা লাগেনা। দিনে দিনে আমড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় এখন ওইসব ইউনিয়নের নারী পুরূষের পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকেরাও জড়িয়ে পড়ছেন আমড়া চাষাবাদে।

তিনি আরো বলেন, কার্তিক থেকে অগ্রাহায়নের মাঝামাঝিতে গাছের চারপাশে রিন করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপিও সার প্রয়োগ করতে হয়। পরে বাংলার চৈত্র মাঝামাঝি গাছে ফুল ধরে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ফুল থেকে ফলের গুট বের হয়। প্রয়োজনমত বর্ষা পেলে শ্রাবনের মধ্যে বিক্রির জন্য ফল হয়ে ওঠে পরিপক্ক। কান্দি অথবা বসতবাড়ীর উচুঁ জায়গায় মাদা তৈরী করে ১৬হাত পরপর ফাঁকা রেখে এক একটি আমড়া গাছ লাগাতে হয় ।

সময় জার্নাল/ অনিমেশ হালদার

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ