পুরনো এলসিতেও বাংলাদেশকে পেঁয়াজ দিচ্ছে না ভারত

প্রকাশিতঃ ১১:১১ অপরাহ্ণ, সোম, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯

হিলি সংবাদদাতা : অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। তবে পুরনো এলসির বিপরীতেও দেশটি কোনও পেঁয়াজ রফতানি করছে না। এতে ভারতে একহাজার টনেরও বেশি পেঁয়াজ আটকা পড়েছে। এদিকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকায় হিলি বন্দরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক ছিল। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোনও পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। আগামীকাল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে স্থানীয় হিলি পার্কিংয়ে প্রায় ৬৫টি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। শুধুমাত্র তাদের দেশের কাস্টমসের সংকেত পেলেই পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এসব ট্রাকে প্রায় এক হাজার তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টনের মতো পেঁয়াজ রয়েছে।

এদিকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রবিবার বিকাল পর্যন্ত প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৭ থেকে ৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হয়েছে। তবে রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর সেই পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রফতানি বন্ধের পর খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। রবিবার যে পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, সেই পেঁয়াজ সোমবার বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়।

অভিযোগ উঠেছে, কোনও কোনও আমদানিকারক বাড়তি লাভের আশায় পেঁয়াজ বিক্রি না করে তাদের গুদামে মজুত করছে। আর দাম বাড়ার ফলে পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর রবিবার বিকাল থেকে সোমবার পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। আগের করা এলসির বিপরীতেও পেঁয়াজ আসেনি। এ বিষয়ে রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে পেঁযাজ আমদানি স্বাভাবিক থাকে।

পুরনো এলসিগুলোর বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়টি নিয়ে ভারতের দিল্লিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, কিন্তু সেই বৈঠকে এখন পর্যন্ত সুরাহা না হওয়ায় বা কোনও ফল আসেনি। বৈঠকে যদি তারা পুরনো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেয়, তাহলে মঙ্গলবার দেশে পেঁয়াজ প্রবেশ করতে পারে। সেক্ষেত্রে ২ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিন পূজার বন্ধের মধ্যেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ ও পেঁয়াজ আমদানিকারক নাজমুল হক জানান, রবিবার বিকালে ভারতীয় রফতানিকারকরা ভারত সরকারের নেওয়া পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিন্ধান্তের কথা জানান। একেবারে স্পট পদ্ধতিতে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এতে করে যে সমস্ত পেঁয়াজবাহী ট্রাক রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোও দেশে ঢুকতে পারেনি। রবিবার বিকাল পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১৪ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে। বন্ধের ঘোষণার ভারত সীমান্তে আটকে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি।

তারা আরও জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যে সমস্ত পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়, তার বিপরীতে সোমবার বিকালে পেঁয়াজ রফতানির কথা ছিল। তবে আজও কোনও পেঁয়াজ আসেনি বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।-বাংলা ট্রিবিউন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ