পুলিশ পারলে, ডাক্তার কেন নয়?

প্রকাশিতঃ ১২:০১ অপরাহ্ণ, শুক্র, ১০ এপ্রিল ২০

তানভীর আলাদিন : করোনা যুদ্ধে অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশে পুলিশের সদস্যগণ আমজনতার সমীহ আদায় করে নিচ্ছে। উদ্ধার করছে তাদের দীর্ঘদিনের প্রশ্নবিদ্ধ ভাবমূর্তি…। এটি সমাজ ও দেশের জন্য এক পরম প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি। তাই পুলিশ সদস্যদের জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ।

প্রত্যেক পেশায় কিছু মন্দ লোক আছে, তেমন পুলিশে থাকাটাও স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা স্বৈরাচার যুগ থেকেই পুলিশকে ঠোলা বলে গালি দিয়েই যেনো মজা পেয়ে আসছিলাম! যেমন মজা খুঁজি ফান করার জন্য মোল্লা, পাদ্রী কিংবা পুরোহিতদের নিয়ে…।

আমরা প্রায় দেখি, ঝড়, বন্যাসহ তাবৎ দুর্ঘটনা-দুর্যোগের ভেতর দিয়েও যে কোনো পরিস্থিতিতে পুলিশকে গিয়ে হাজির হতেই হয়।

আমার প্রায় ৫০ বছর বয়সে একটি ঘন্টার জন্যেও শুনিনি যে, কোনো প্রতিবাদ কিংবা অযুহাতে পুলিশরা ধর্মঘট কিংবা কর্মবিরতি পালন করেছে। পুলিশ যদি পূর্ব ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি করে, আমার বিশ্বাস দুষ্টুলোকদের তান্ডবে দেশটা ২৪ বছর পিছিয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি, পুলিশ কম-বেশি সব সময় তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। করোনার এই দুর্যোগেও এর ব্যতিক্রম নয়, গতানুগতিক কাজের চেয়ে অনেক বেশি করতে হচ্ছে এখন।

তবে তাদেরকে আরো সচেতন থাকতে হবে ওখানে ঘাপটি মেরে থাকা নগন্য কিছু মন্দ পুলিশ থেকে। যেনো আগামীতে এই স্বল্প সংখ্যক মন্দ পুলিশের জন্য উদ্ধারকৃত ভাবমূর্তিটুকু ফের প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

পুলিশকে নিয়ে আশাবাদের আগামীর রঙিন স্বপ্নটা শতভাগ বর্ণিল রঙে রঙানো যাচ্ছে না বেশ কিছু চিকিৎসকের আচরণে! বিধাতার পরেই মানুষ মর্ত্যে যাদের ওপর ভরসা করে তারা হচ্ছেন ডাক্তার। অথচ দেশের সব ডাক্তার করোনা যুদ্ধে পুলিশের মতো আচরণ করছেন না!

এদেশে যুগে-যুগেই বেশিরভাগ ডাক্তারের বিরুদ্ধে সেবার চেয়ে বাণিজ্য আগে এমন মনোভাব দেখে মানুষ অভ্যস্ত, তারপরও এমন যুদ্ধ দিনে তাদের কাছে বাড়তি কিছু আশা ছিলো জাতির।

সারা বছর লাখ-লাখ টাকা কামাই করা ডাক্তার পিপিই নেই অজুহাত দেখিয়ে ঘরে বসে ছিলেন!! আরে আপনি নিজের টাকায় পিপিই কিনে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে পারতেন না? একজন ডাক্তার গড়তে রাষ্ট্র আপনার পেছনে যে লাখ-লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলো, সেই টাকাতো জনগণেরই টাকা, তাহলে জনগণের এই দুর্যোগে আপনারা ঋণ শোধ করবেন না কেন?

এখনো সময় আছে, না হলে ভবিষ্যত বাংলাদেশের সামনে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুইধারায় পরিচিত হওয়া দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধা আর দেশদ্রোহী রাজাকারের মতো অবস্থা হবে।

বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যগণ ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীর মতো যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন, আমি ও আমরা আশা করছি, পুলিশের মতো আমাদের দেশের সব ডাক্তারও করোনা যুদ্ধে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অধিষ্ঠিত করতে ঝাপিয়ে পড়বেন। এমনটা আমার স্বপ্ন নয়, আশা নয়, দেখতে চাই দেশের সব ডাক্তারকেই করোনা যুদ্ধের সৈনিক হিসেব।

সহজ প্রশ্ন পুলিশ পারলে ডাক্তার কেন পারবেনা?

লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ