প্রণোদনা বাগাতে এ কেমন আচরণ !

প্রকাশিতঃ ৩:৩১ অপরাহ্ণ, সোম, ৬ এপ্রিল ২০

সৈয়দ মহিউজ্জামান মুখর : যখন লকডাউনের ঘোষণা আসলো, তখন গণপরিবহনগুলো চালু ছিলো। আর যখন গণপরিবহনগুলো বন্ধ, তখন গার্মেন্টসকর্মীদের শত শত কি.মি. পথ পায়ে হাটিয়ে এনে কারখানায় যোগ দিতে বলল মালিকেরা।

আর এখন বলছে, শ্রমিকেরা নাকি নিজেরাই চলে এসেছে। কি অদ্ভুত কথা! কোনো আদেশ না পেলে এমন পরিস্থিতিতে পায়ে হেঁটে এত কষ্ট করে কারখানায় কাজের উদ্দেশ্যে কেউ আসে?

…শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য সরকার থেকে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা বাগিয়ে নেয়া হলো। অর্থাৎ, সরকারি টাকায় বেতন হবে শ্রমিকদের। কি মজা! সব বোঝা সরকারের উপর চাপিয়ে কোনো দায়িত্ব নিলো না গার্মেন্টস মালিকেরা।

আর ইতোমধ্যে যখন আজ শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে ঢাকা-গাজীপুর চলে আসলো নিজেদের চাকরি বাঁচানোর জন্য, তখন কান্ডজ্ঞানহীন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক আজই শেষ মুহুর্তে ‘অনুরোধ’ করলেন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গার্মেন্টস মালিকদের কারখানা বন্ধ রাখার।

তাও অনুরোধ!! সুনির্দিষ্ট অবশ্য পালনীয় কোনো আদেশ নয়।…যেহেতু কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হবে, তা আরো আগেই হওয়া উচিত ছিল। সময়মতো এ সিদ্ধান্ত হলে শ্রমিকরা হয়তো এ বিড়ম্বনার মুখে পড়তেন না।

অন্যদিকে রাস্তা আর নৌ পথেও এত ভিড় হতো না। আর দেশে করোনা ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তো না।…যে শিল্পের জন্য বাংলাদেশের মূল অর্থনীতি নির্ভরশীল, সেই শিল্পের মালিকদের অতিলোভের জন্যই আবার যেনো না দেশ করোনা মহামারীর ঝুঁকিতে পড়ে।

…সত্যি; এই গার্মেন্টসের মালিকেরা একেকটা (__)… ফাঁকা স্থানে আপনারদের পছন্দমতো শব্দ বসিয়ে নিতে পারেন।

লেখক : নিউজ প্রেজেন্টার, এশিয়ান টিভি এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, আভান্তে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ