প্রয়োজন না থাকায় অপারেশন ম্যানেজারদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে

প্রকাশিতঃ ৩:২২ অপরাহ্ণ, রবি, ১৮ আগস্ট ১৯

খরচ বাঁচাতে এবং অধিকতর কম গুরুত্বপূর্ণ পদে শনাক্ত হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশের আটটি স্টেশনে অপারেশন ম্যানেজারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের সহসা ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল ইনামুল বারী।

তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে ‘জেপিসন ম্যানুয়াল’ ম্যাথড এপ্লাই করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজন নেই বলে অপারেশন ম্যানেজারদের ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঈদের আগের মঙ্গলবারে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এখন তা কার্যকর করা হচ্ছে। যেসব স্টেশন থেকে অপারেশন ম্যানেজারকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে সেগুলো হচ্ছে- যুক্তরাজ্য, জেদ্দা, রিয়াদ, আবুধাবি, দুবাই, মালয়েশিয়া, দিল্লি ও কলকাতা।

বর্তমান সময়ে বিমান খাতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি না পেলেও বেড়েছে অনেক খরচ। একইসাথে বিমান খাতে অসংখ্য জনবল থাকায় তাদের দিতে হচ্ছে উচ্চ বেতন-ভাতা।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিমান খাতে ফ্লাইট অপারেশনের সাথে কোনো রকম কাজ করতে না পারলেও নিয়োগ প্রাপ্ত অনেক স্টেশন অপারেশন ম্যানেজার পদ ভুক্ত আছেন। তারা পাচ্ছেন উচ্চহারে বেতন-ভাতা এবং একই সাথে গাড়ি ও বাড়ি ভাড়া ভাতা। এর ফলে এই সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কারণে গচ্চা যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশের লাখ লাখ টাকা।

বিমানের একজন সিনিয়র পাইলট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই অপ্রয়োজনীয় ও আত্মঘাতী কাজটি ২০১০ সালে চালু করে গেছেন কয়েক দিনের জন্য বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন নাসের। তার আমলে প্রথমে তিনটি স্টেশনে তিনজনকে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পাঠানো হয়। স্টেশনগুলো ছিল রিয়াদ, কুয়ালালামপুর ও দিল্লি। এরপর আস্তে আস্তে মধ্যপ্রাচ্যসহ লন্ডন পর্যন্ত পাঠানো হয় কথিত ‘ম্যানেজার অপারেশন’।

বিমানের অপারেশন শাখা সূত্রে জানা যায়, পাইলটদের কাছে ‘জিপিসন ম্যানুয়াল’ নামে একটি পরিচিত প্রক্রিয়া আছে। এই প্রক্রিয়ায় এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার সময় একটি রুট ম্যাপ ব্যবহার ও সরবরাহ করা হয়। এটি অপারেশন ম্যানেজারের কাছে পাঠানো হয়।

তবে বিমানের আরেক সিনিয়র পাইলট বলেন, ‘এ কাজ করার জন্য অপারেশন ম্যানেজারের দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’

তিনি জানান, তাদের বিমানের পক্ষ থেকে অতি উন্নত নোটপ্যাড দেয়া হয়েছে যাতে বিশেষায়িত কিছু অ্যাপস ইন্সটল করা থাকে। ওই নোটপ্যাডের কারণে বিশ্ব থাকে পাইলটদের হাতের মুঠোয়। এমতাবস্থায় এমন এক ডিজিটাল যুগে বিমানের ব্যয় বাড়িয়ে বিদেশে অপারেশন ম্যানেজারদের বসিয়ে রাখা নিতান্তই বোকামি ছাড়া কিছু না।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর আউট স্টেশনে বসিয়ে রেখে বিমানের লাখ লাখ ডলার অযথা ব্যয় করা হয়েছে আটজন অপারেশন ম্যানেজারকে বেতন ও বাড়ি ভাড়া দিয়ে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ