ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কুবিতে মারামরি, আহত ১৫

প্রকাশিতঃ ১২:২৮ অপরাহ্ণ, সোম, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯

কুবি প্রতিনিধি: ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা মারামারির ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)। এতে কমপক্ষে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রোববার ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৫ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ১ম সেমিফাইনালে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) মুখোমুখি হয় বাংলা ও মার্কেটিং বিভাগ। খেলা চলাকালে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ম্যাচ শেষে বাংলা বিভাগের খেলোয়াড়, সমর্থক ও. শিক্ষকরা মাঠ ছাড়ার সময় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের উপর চড়াও হোন।

একপর্যায়ে শাখা ছাত্রলীগের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক জুনায়েদ ইসলাম (এআইএস), উপ সমাজসেবা সম্পাদক মুনতাসির হৃদয় (এআইএস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোয়েব হাসান হিমেল (মার্কেটিং), সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল হক শান্ত (পদার্থবিজ্ঞান), নজরুল হলের ছাত্রলীগকর্মী শাহ ফাহিম (মার্কেটিং), বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগকর্মী সজিব কুমার কর (পরিসংখ্যান), ঐ হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ সাহা সেতু (মার্কেটিং), দত্ত হলের ছাত্রলীগকর্মী সাদমান, রবিনসহ (মার্কেটিং) বিভিন্ন হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মাঠ সংলগ্ন নতুন রোপণ করা বৃক্ষসংযুক্ত বাঁশ তুলে উপর্যুপরি হামলা শুরু করেন।

আহত এক শিক্ষার্থী।

এতে বাংলা বিভাগের শাহিদুল ইসলাম বিজয়, তাওহিদ সানি, রাশেদুল ইসলাম, সুপন সূত্রধর, শাহাদত হোসেন হিমেল, আব্দুর রহমান, সফিউর রহমান সাগর, আমীর হামজা তন্ময়, তানভীর, আশাদুজ্জামান শাহেদ, আব্দুল আহাদ, এস কে বিজয়, রবিউল, প্রান্ত, সিফাতসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিদুল ইসলাম বিজয়সহ ৫ জন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মারামারির একপর্যায়ে মার্কেটিং বিভাগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকদের মধ্যে থাকা ছাত্রীদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে ভয়ার্ত ছাত্রীরা মাঠের পেছন দিকে ছুটে বেরিয়ে আসেন।

এছাড়াও খেলা চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকালে এক বিএনসিসি ক্যাডেট কর্পোরালের কলার চেপে ধরেন বঙ্গবন্ধু হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ সাহা সেতু (মার্কেটিং)। পরে অন্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, ‘দুই বিভাগের ঘটনায় ওখানে উপস্থিত ছাত্রলীগকর্মীরা তাদের ফেরানোর চেষ্টা করে। ছাত্রলীগের কেউ কারও উপর হামলা করেনি। আর যদি এ ঘটনার ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকে বা পরবর্তীতে ঝামেলা হয় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা বিভাগের সভাপতি শামসুজ্জামান মিলকী জানান, ‘খেলা চলাকালীন রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হলেও খেলা চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু খেলা শেষে আমরা ফিরে আসার সময় খেলোয়াড়, শিক্ষক, সমর্থকসহ সকলের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এতে আমাদের অন্তত বিশজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর প্রতিবাদে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় স্থান নির্ধারনী খেলা আমরা বয়কট করেছি।

খেলা পরিচালনা কমিটির প্রধান ড. মো: শামিমুল ইসলাম জানান, ‘এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা প্রশাসনের সাথে সার্বিক ঘটনার বিষয়ে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি অন্তত দুঃখজনক। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যকার মারামারিতে যারা আহত হয়েছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মেডিকেলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময় জার্নাল/ মাহমুদুল হাসান

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ