ফেসবুকে লাইক দেয়ায় যুবককে হত্যার হুমকিতে থানায় জিডি

প্রকাশিতঃ ৫:৩২ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৭ মার্চ ২০

হোমন (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : জেলার হোমনায় ফেসবুকে লাইক দেয়ার জের ধরে এক যুবককে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজউক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে হোমনা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মো. রাসেল নামের এক যুবক। হুমকিদাতা ঢাকা রাজউক প্রকৌশলি বদিউল আলম টিপু একই গ্রামের বাসিন্দা।

গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হোমনা থানায় নিরাপত্তা চেয়ে এ সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়।

থানার সাধারণ ডায়েরী থেকে জানা যায়, ঢাকার রাজউক প্রকৌশলী ও মনিপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. বদিউল আলম টিপুর সাথে নরসিংদীর বহিঃস্কৃত যুবমহিলালীগ সভানেত্রী পাপিয়ার সম্পৃক্ততা ছিলো উল্লেখ করে সম্প্রতি একটি দৈনিক খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদটি ফেসবুকে পোস্ট করেন জৈনিক এক ব্যক্তি। আর সেই পোস্টে লাইক দেয়ে নারায়নপুর গ্রামের এক দরিদ্র যুবক মো. রাসেল। এরই জেরে মোবাইল ফোনে লাইকের বিষয়ে জানতে চেয়ে রাসেলকে ২৩ মার্চের পর যেখানেই পাবে সেখান থেকেই তাকে তুলে এনে জবাই করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় বদিউল আলম টিপু।

ভিকটিম রাসেল জানায়, আমি মোবাইল চালাতে তেমন জানিনা। আমাকে ধমক দেয়ায় আমি মাফ চেয়েছি এবং বলেছি হয়তো আমার ছোট বাচ্চাটায় লাইক দিতে পারে। এরপরও আমাকে জবাই করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি এবং হুমকির সেই রেকডিং থানায় জমা দিয়েছি। এর আগেও আমাকে অপরহরণ করে ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণ আদায় করে একটা মহল। থানায় অভিযোগ দিলে কোন বিচার পাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হত্যার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকৌশলী বদিউল আলম টিপু জানান, আমি আসলে তাকে জবাই করে হত্যার কোন হুমকি দেইনি। সে আমার প্রতিবেশী বিধায় তাকে ফোনে বলেছি, আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকের অপপ্রচারের পোস্ট তুই লাইক দেস কেনো? আমিত অধিকার থেকে বলেছি তর এই লাইকে আমি মাইন্ড করেছি। আসলে তারও দোষ নাই। সেখানকার একটা মহলের কাছ থেকে আমি ৮লাখের বেশি টাকা পাই। সেই টাকা চাইলেই ওই মহলটা একেক সময় একেক রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এটাও এর একটা অংশ।

অপহরণের বিষয়ে বদিউল আলম নিজ থেকেই বলেন, রাসেল আত্মগোপনে গিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানী শুরু করে দিয়েছিলো। তখন পুলিশের মাধ্যমে আমিই তাকে উদ্ধার করি।

তবে এলাকাবাসী জানায়, এর আগেও বদিউল আলম টিপুর পরিবারের জেদের গরম পানিতে সেখানকার এক চা দোকানদারের শরীরের ৪০ শতাংশ জলসে গিয়েছিলো। সে বিষয়টিও প্রশাসনের যোগসাজসে ধামাচাপা পরে যায়। রাসেল নিজে আত্মগোপনে নয়, তাকে অপহরণ করে কোন নাটক করতে চেয়েছিলো একটি মহল।

হোমনা থানায় সাধারণ ডায়েরীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কায়েস আকন্দ। তিনি বলেন, প্রকৌশলি বদিউল আলম টিপু’র বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছে রাসেল নামের এক যুবক। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ