বদ্ধ গৃহে বর্ষবরণ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ১৪ এপ্রিল ২০

মেহেরুজ্জামান সেফু, ঢাকা : আজ মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ, চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে ১৪২৬ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ অন্তর্ভুক্ত হলো নতুন বছর ১৪২৭। পূর্বের গগণে উদিত হলো বাঙ্গালি জাতির জন্য নতুন এক প্রভাত। এরপর রমনার বটমূলে ছায়ানটের সুরে, বাসন করে পান্তা-ইলিশ খাওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভা যাত্রায় নানা বয়সের মানুষ অংশগ্রহনে নতুন বছর কে বরন করে নেয় বাঙালি। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে।

কিন্তু করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ এর আগ্রাসী আক্রমণের কারনে উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান এ উৎসব। মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পরা এ ভাইরাসের বিস্তার রোধে সব ধরনের জনসমাগম পরিহার করার জন্য নির্দেশ দেয় সরকার।

বদ্ধ গৃহে থেকে এই দিনটি উদযাপনের অনুভূতি শেয়ার করেছিলেন তিতুমীর কলেজ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও তিতুমীর নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ তুহিন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে নানা রকম আনন্দ করি, এ বছর তা হচ্ছে না। মানুষের জীবনে অনেক সময় অনেক সমস্যা হয়ে থাকে তাই এটিও তেমন কিছু। তবে আমি একটুকুও দুঃখ অনুভব করছি না। আমি দেশের মানুষের কথা ভেবে, আমার কাছের মানুষের কথা ভেবে গৃহে অবস্থান করছি। আর ভাবছি ঘরে বসেই এবারের পহেলা বৈশাখের আনন্দ ভাগাভাগি করবো সবার সাথে। তবে আমি আমার নাট্যদলের সবাইকে খুব মিস করবো।

গনিত বিভাগের তানজুমা রাহমান তাম্মী জানালেন, প্রতি বছর এই দিনটাতে সেজেগুজে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বা মেলায় যাওয়া হয়। কিন্তু এ বছর তা আর হচ্ছে না। মেলা আর ক্যাম্পাসকে খুব মনে পরবে। চেষ্টা করবো অন্য ভাবে এ বছরের এই দিনটাকে পরিবারের সাথে কাটাতে। সকলের সুস্থতা কামনা করে এই দিনের আনন্দটা এবার পরিবারের মধ্যেই ভাগাভাগি করে নিবো।

প্রতিবছর ভোর থেকেই উৎসবমুখর জনতা লাল-সাদার রঙিন পোশাকে সমবেত হয়ে থাকেন শাহবাগ, রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশে-পাশের এলাকায়। বাহারি সাজে নববর্ষকে বরণ করতে নারী-পুরুষ সকলেই অংশগ্রহণ করেন।

পহেলা বৈশাখে পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘুরে বেড়ান দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে। রং বেরঙের খেলনা নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন বিক্রেতারা। বর্ষবরণের উৎসবে রং ছড়িয়ে থাকে এসব রং বেরঙের খেলনাও। নববর্ষকে বরণ করে নিতে অনুষ্ঠানে মানুষের খুশির জোয়ার। শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকলেও এ বছর অন্য এক পহেলা বৈশাখ পালন করবে বাঙালি জাতি ।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফর, জাতীয় জাদুঘর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, কপিরাইট অফিস, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও বিসিক নববর্ষ মেলা, আলোচনাসভা, প্রদর্শনী, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মত নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন হয়ে থাকলেও এ বছরটাতে নিস্তব্ধ ও জনশূন্য হয়ে থাকবে এসব জায়গা গুলো ।

ব্যাবসায়ীরা তাদের পিছনের বছরের সব হিসাব-নিকাশ শেষ করে নতুন করে শুরু করতে এই দিনটিতে হালখাতার আয়োজন করে থাকে।

চৈত্রের রাত্রি শেষে, সূর্য আসে নতুন বেসে, সেই সূর্যের রঙ্গিন আলো, মুছে দিক তোমার জীবনের সকল কালো…! শুভ নববর্ষ ১৪২৭

বাউল গানের সন্ধ্যা তালে নতুন বছর এসেছে ঘুরে, উদাসী হাওয়ার সুরে সুরে রাঙ্গামাটির পথটি জুড়ে। পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা।

বন্ধু তোমার ভালবাসার জানালা খোলা রেখো, মনের আকাশ মেঘলা হলে আমায় কিন্তু ডাকো, ঝড় বৃষ্টি কাটিয়ে আবার দেখাবো আলোর হাসি,আমি আছি, থাকবো যেন তোমার পাশাপাশি। শুভ নববর্ষ ১৪২৭

আর হালখাতায় এমন সব ছন্দের দ্বারাই বিক্রেতা তার ক্রেতাকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকলেও এবার তা আর পারছেন না। যে যার ঘরে থেকেই বর্ষবরণ উৎসব পালন করার মত নতুন এক অভিজ্ঞতার অর্জনে গোটা দেশ।

লেখক : শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজ, বাংলা বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ