বলাৎকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘ছেলেধরা’ নাটক

প্রকাশিতঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৬ জুলাই ১৯

নিউজ ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্র আবির হুসাইনকে বলাৎকার শেষে মাথা কেটে হত্যা মামলায় মাদ্রাসা সুপার মুফতি আবু হানিফকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ঘটনার দিন মঙ্গলবার থেকে ওই শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। গত চার দিন টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হল।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, বলাৎকারের ঘটনা যাতে ফাঁস না হয় এ জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনাটি মাথাকাটা খাতে দেওয়ার জন্যই সুকৌশলে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। যাতে করে খুব সহজে ছেলেধরা গুজব বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রকে বেশ কিছুদিন বলাৎকার করে আসছিল মাদ্রাসার সুপার আবু হানিফ। বিষয়টি ওই ছাত্র অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাদ্রাসা সুপার। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মাদ্রাসার অদূরে একটি আম বাগানে নিয়ে বলাৎকার শেষে আবির হুসাইনের মাথা কেটে ফেলে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতি দেশ ছেলেধরা গুজবে ভাসছে। মাদ্রাসার ওই ছাত্রকে হত্যার ঘটনার জন্য আবু হানিফ ঠিক এ সময়টিকে বেছে নেয়। ঠান্ডা মাথায় খুন করে গুম করা হয় মাথা। যাতে সারা দেশে গুজব ছড়িয়ে নিজেকে আড়াল রাখা যায়।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আবির হুসাইন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে মাদ্রাসার অদূরে একটি আম বাগানের ভেতর থেকে তার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে ঘটনার দিনই মাদ্রাসার সুপার মুফতি আবু হানিফসহ পাঁচ শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার অদূরে একটি পুকুরে নিহত আবির হুসাইনের মাথাটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ