বাংলাদেশে করোনা টেস্টের পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার

প্রকাশিতঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৭ মে ২০

সময় জার্নাল প্রতিবেদন : মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অস্থির পুরো বিশ্ব। প্রতিদিন আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের মিছিল। করোনার লাগাম টেনে ধরতে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো। কোথাও আশার আলো দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ অবস্থায় লকডাউন তুলে নিলে বাড়তে পারে করোনার প্রকোপ। তবুও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিশ্বের কিছু কিছু দেশ শিথিল করে দিচ্ছে লকডাউন।

বাংলাদেশেও চলমান সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। আগামী ৩১ মে থেকে অফিস খোলার পাশাপাশি ‘শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বুধবার (২৭ মে) এ তথ্য জানিয়ে বলেন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। নৌপরিবহন, ট্রেনও চলবে।

এ প্রসঙ্গে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের (সাবকা) চেয়ারপারসন মোহাম্মদ তারিক সময় জার্নালকে বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সেহেতু সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় টেস্টের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। মানুষ প্রয়োজন মনে করলে যেন করোনা পরীক্ষা করাতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। টেস্ট বাড়ালেই বোঝা যাবে করোনা সংক্রমণ কোন পর্যায়ে আছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া সরকাররের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ তারেক বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই করোনা টেস্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। যার ফলে মানুষ যখন ইচ্ছা তখনই করোনা পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টেস্ট হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার করোনা পজেটিভ এসেছে। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ১০৩ জন। বর্তমানে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত না হওয়ায় সরকার লকডাউন তুলে দিয়েছে।

লকডাউনে সরকারী সহায়তা সম্পর্কে মোহাম্মদ তারেক জানান, করোনা সংক্রমণে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ঘরে থাকার জন্য। সরকারের নির্দেশে আমরা ঘরে থেকেছি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি। সরকার চাকুরিজীবী এবং চাকুরিপ্রার্থী সবাইকে ভাতা দিচ্ছে। যার ফলে কাউকে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে সবচেয়ে খুশি সংবাদ হলো- এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। শুনেছি বাংলাদেশ সরকারও জনগণকে সাহায্য করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্যয় সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ। মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সাড়ে ২৪ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। সরকার এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৫৬টি করোনা টেস্ট করেছেন। যার মধ্যে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন; সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৫জন এবং মারা গেছেন ৫৪৪ জন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় সব অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। সেই সঙ্গে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এরপর কয়েক দফা বাড়নো হয় সাধারণ ছুটি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।