বিআইডব্লিউটিএ’র বেহালদশা

প্রকাশিতঃ ৩:৫০ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৬ নভেম্বর ১৯

সময় জার্নাল ডেস্ক: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর ঠিকাদার বিভিন্ন কায়দায় কাজ বাগিয়ে নিয়ে তা বিআইডব্লিউটিএ-কে বুঝিয়ে না দেয়ায় সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে সুনাম নষ্ট হতে বসেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। এখনই ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বর্তমান সরকারের ইমেজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি নদ-নদী তথা নৌ-পথ বাঁচাতে ড্রেজার ক্রয়সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ে অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারই আগ্রহে শত শত কিলোমিটার নৌ-পথ পূণরূদ্ধার হয়েছে। বেড়েছে অনেক নদীর কাঙ্খিত নাব্যতা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র এক শ্রেণীর ঠিকাদার বিভিন্ন ধরণের নৌ-যান তৈরী এবং সরবরাহের জন্য যে কার্যাদেশ পেয়ে তার অপব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট কাজগুলো যথা সময়ে বুঝিয়ে না দিয়ে কার্যতঃ প্রতিষ্ঠানটিকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। কোন কোন ঠিকাদার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তির মাধ্যমে নানামুখী চাপ প্রয়োগ করে কাজ ঝুলিয়ে রেখেই বিল তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

আবার আগের কাজ ঝুলিয়ে রেখেই নতুন কাজ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। বিআইডব্লিউটিএ’র অনেক কর্মকর্তাকেই তারা ম্যানেজ করে ফেলেছে বলে প্রচারণা আছে। মন্ত্রণালয়ের কারো কারো সাথে তাদের লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এখনই এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিআইডব্লিউটিএ অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

সূত্র মতে, বেশ কিছু ক্ষয়িষ্ণু শীপইয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরে কাজ বুঝিয়ে না দিলেও তাদেরকে আবার কাজ দেয়ার পায়তারা চলছে। এক শ্রেণীর কর্মকর্তাও এদেরকে কাজ দেয়ার ব্যাপারে অতি আগ্রহী। আবার নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষার স্বার্থে ড্রেজিং কাজেও জট সৃষ্টি করা হচ্ছে।

অনেক ড্রেজিং কোম্পানীর হাতে একাধিক কাজ থাকার পরেও তারা নতুন কাজের জন্য উপর মহল থেকে নানামুখী চাপ অব্যাহত রেখেছে। অথচ অনেক ড্রেজার কোম্পানী কাজের অভাবে বসে আছে। যে সমস্ত ড্রেজিং ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে তাদেরকে নতুন করে কাজ প্রদান কোনক্রমেই সমীচিন নয় বলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, বিআইডব্লিউটিএ’র অধীনে কর্মরত যে সমস্ত শীপ ইয়ার্ডের মালিক এবং অন্যান্য ঠিকাদার কাজ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে তাদেরকে নতুন করে কাজ দিয়ে সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করা সমীচিন হবে না। বরং এরা যে কাজ নিয়েছে তার আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তাদের কালো তালিকাভূক্ত করা যেতে পারে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ