বিরোধী রাজনীতি ধ্বংসে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে সরকার: ফখরুল

প্রকাশিতঃ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ৫ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: সরকার গণতন্ত্র ও বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করেছে। তার অসংখ্য মানুষকে গুম করে দিয়েছে। হাজারের বেশি মানুষকে তারা পঙ্গু করে দিয়েছে। সারা দেশে যে নির্যাতন-নিপীড়ন, তা অনেক সময় মনে হয় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি নির্যাতন কেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ আয়োজিত তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে। তার একটি মাত্রই উদ্দেশ্য, এই দেশটিকে তারা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

সিপিডি’র গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি, কয়েকদিন আগে সিপিডির একটা গবেষণায় বলেছে, বাংলাদেশের যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। তারা বলছে, বাংলাদেশের প্রতিটি অর্থনীতির স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, টাকা পাচার— এক লাখ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে, যা দিয়ে পাঁচটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, একদিকে বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস, প্রশাসন ধ্বংস, অন্যদিকে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মানুষের সমস্ত অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। তাই বেগম খালেদা জিয়া এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন বলে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনসাধারণকে আত্মত্যাগের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে খালেদা জিয়ার ওপরে, তাই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা যদি তরিকুল ইসলাম ও সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই তাহলে অবশ্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। তাই, বেগম জিয়াকে মুক্তি, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, এবং একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। আসুন সে লক্ষ্যে আমরা সবাই আত্মত্যাগ করি।

স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

স্মরণসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। তার সঙ্গে একসঙ্গে জেল খেটেছি। কখনও দুশ্চিন্তা না করে উৎসাহ প্রদান করতেন, সাহস যোগাতেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেষ পর্যন্ত তরিকুল ইসলাম একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদের সৈনিক। আজকে দেশ বাঁচাতে হলে তার মতো রাজনীতিবিদদের আদর্শ সামনে রেখে এগোতে হবে।

প্রয়াত বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ছবি: ফোকাস বাংলা)

মওদুদ আহমদ বলেন, তরিকুল ইসলামের মতো রাজনীতিবিদ আমাদের মাঝে আর দেখি না। আর পাবো কিনা জানি না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিলাসিতা করেননি। তেমনই তরিকুল ইসলামও কখনও বিলাসিতা করেননি। বহুবার জেল খেটেছেন। নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কিন্তু মিতব্যয়ী ছিলেন। আজকের এই দিনে আমি তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, আজকে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। তা চলে গেছে দুর্বৃত্তদের হাতে। আজ জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মতো সরকার নেই। এজন্যই সমাজে জুয়া চাঁদাবাজি আর ক্যাসিনো এবং অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে। এসবই হচ্ছে বিরাজনীতিকরণের কারণে। দীর্ঘ দিনেও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। তবে তিনি মুক্তি পাবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার শপথ নেই।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ