উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম পদত্যাগ করবেনা বলে দাবি করছেন

প্রকাশিতঃ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ১১ অক্টোবর ১৯

নিউজ ডেস্ক: ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুয়েট এর উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম দাবি করে বলেন, তার দায়িত্ব পালনে ত্রুটি ছিল না। তাহলে পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আনদোলন পরিস্থিতিতে আমার ব্যর্থতা কী করে হবে? আমি তো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি আগেই।

বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এমন তথ্য জানালে এই দাবিকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। পদত্যাগ করবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না কারণ, আমার এখানে কোনও অন্যায় নেই। আমি আমার ডিউটি পালন করেছি।’

উপাচার্য সাইফুল ইসলাম ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সম্পর্কে বলেন, ‘উনি আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওখানে কাজ ফেলে এখানে এসে আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার পদত্যাগ চাইলেন কী করে? এটা এথিক্যাল হলো না। উনি সম্মানিত ব্যক্তি, আমি সবসময় সম্মান করে কথা বলি উনাকে। উনাকে অনেকসময় টেলিফোনও করি। কালকে আমি কুষ্টিয়া গেলাম, উনি এখানে এসে এ কথা বললেন। এটাতো যুক্তিযুক্ত কথা হলো না। একটা ঘটনা ঘটেছে, পূর্বাপর না জেনে কয়েকজনকে নিয়ে একথা বললেন। উনি এতবড় জ্ঞানী পণ্ডিত হয়ে এটা কিভাবে বললেন? আমি দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছি।

ছাত্ররা যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দাবি বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করেছে বলে অভিযুক্ত তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ফৌজদারি বিচারের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও নিয়ন্ত্রন নেই, কোর্টের মাধ্যমে বিচার হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত ছাত্র বহিষ্কার করার যে বিষয়টা সেটা তো আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য হিসেবে আপনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনও জিনিসের প্রসিডিওর আছে। আমাদের নিয়ম তদন্ত কমিটি । সেদিন সাথে সাথেই তদন্ত কমিটি হয়েছে। এবং অবশ্যই এদের বের করে দেওয়া হবে। অপরাধীকে কিভাবে রাখবো? লিগ্যাল প্রসিডিওর ফলো করতে হয়। সেটি যদি আমরা না করি, এর আগেও কিন্তু কোর্টে গিয়ে আমাদের হাঁটতে হয়েছে।

এই তদন্ত কমিটি কয়দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে। আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর আছে।’

র‌্যাগিং এর নামে বুয়েটে নির্যাতনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে আসছে। ২০১৭ সালে ৩১ মার্চ এ বিষয়ে একটি ওয়েবপেজ খোলা হয়। ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ১৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, যেভাবে আবরারকে নির্যাতন করা হয়েছে তেমন ঘটনা এর আগে বহুবার ঘটেছে। আপনি এসব জানতেন কিনা প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, ‘‘একদিন আমি শিক্ষকদের মিটিং থেকে ছাত্র কল্যাণ পরিচালককে ফোন করে বললাম,‘ এরকম নির্যাতন হচ্ছে, গার্ডিয়ানরা অভিযোগ করছে, কী তুমি ব্যবস্থা নিচ্ছো না?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনও প্রমাণ নেই।’ আমি বললাম, ‘এটা কোনও প্রমাণের দরকার পড়ে না।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে যখন একজন ভিসি হয় তখন সবসময় কাউন্টার পার্ট হয়ে যায়। ভিসি পদটা সুখকর কোনও পদ না। কারও না কারও স্বার্থে লাগে। আরেকটা জিনিসও থাকে, সরিয়ে আরেকজন ভিসি হওয়া যায়।

খুনের ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, না আমার ব্যর্থতা কী করে হবে? আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি। আমি তো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি আগেই। ডিএসডব্লিউ (ছাত্র কল্যাণ পরিচালক) চেঞ্জ করলাম।

ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য কী ধরনের ব্যবস্থার কথা ভাবছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাকে এখন কড়া ডিএসডব্লিউ নিয়োগ দিতে হবে। এই কাজটাতো কেউই করতে চায় না। তদন্ত কমিটি যেটা করলাম, করে শেষ করিনি ইমেইলে বলছে এ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কাকে দিলে চলবে কাকে দিলে চলবে না আমাকে খুঁজতে হয়। এ করতে করতে মাথার চুল আর থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতির কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা তো একটা পার্ট আছেই। সুনির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল। আমাকে সব মতাবলম্বীদের নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হয়।’

র‌্যাগিং হয় জানতেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জানার পরেই তো ডিএসডব্লিউকে ফোন করি, তিনি তো সরাসরি অস্বীকার করলেন। নতুন ছাত্র কল্যাণ পরিচালক, তার অবহেলার কারণে এরকম ঘটনা ঘটলো? অবহেলা বলবো না, আগের ডিএসডব্লিউ তো অনেকদিন ছিল। তার অবহেলার কারণে যে কাণ্ডটা ঘটেছে সেটা মেকাপ করতে যে সময় লাগে সেটাতো উনি পাননি। ছাত্ররা এরকম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবে, এটি আমার আসার আগে আরও খারাপ ছিল।’

ডেডবডি ক্যাম্পাসে আনার কথা তাকে কেউ জানায়নি দাবি করে সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, ‘আমি জানি ডেডবডি নিয়ে গেছে। সেদিন কেওয়াটিক পরিস্থিতিতে কোথাকার খবর কোথায় দেওয়ার মতো লোকও নেই।’

বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানাজায় অংশ নিয়েছেন আপনি তা জানতেন কিনা সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে ডেডবডি এসেছে এই খবর আমাকে কেউ বলেনি। এরমধ্যে আমি আবার গিয়েছিলাম মাননীয় মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ