‘বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ‘

প্রকাশিতঃ ৬:০৫ অপরাহ্ণ, রবি, ১৩ অক্টোবর ১৯

রাবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কথা বলতে না পারে সে জন্যই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মঘাতি।তাই তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবে না।ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এমন দাবি উঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার বিচার ও রাবি উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের অপসারনের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তরা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গত সোমবার ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

আবরার হত্যা জড়িতদের সাময়িক নয় স্থায়ী বহিঃস্কারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, শুধু বুয়েট নয় দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় হত্যাকান্ডের শিকার হতে হয়েছে। আমরা দেখেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিপু, ফারুক হত্যার অনেক বছর ফেরিয়ে গেল এখনো বিচার হয়নি। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আবরার হত্যা মামলা কার্যক্রম দ্রুত বিচারিক ট্রাইবুনালে করার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা দাবি জানিয়ে আচার্য বরাবর দেওয়া খোলা চিঠি পাঠ করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো হল-আবরারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা, দুর্নীতিগ্রস্ত-জালিয়াত-সন্ত্রাসী তোষণকারী ভিসি, প্রো-ভিসি’র অপসারণ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্ত্বশাসন নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিতে দ্রুত রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা, আবাসিক হলে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য, পলিটিক্যাল ব্লক ও ছাত্র নির্যাতন বন্ধ করা, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের সিটের ব্যবস্থা করা, গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দসহ মেধার মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতে ১৯৭৩’র অধ্যাদেশ যুগোপযোগী করা, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তিগুলো বাতিল করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিদম শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মহব্বত হোসেন মিলন, রঞ্জু হাসান, শাকিল আহমেদ, মো. ইসরাফিল প্রমুখ। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এদিকে একই দাবিতে পৃথকভাবে বেলা ১২টার দিকে একই স্থানে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ